যশোরে বাড়ির উঠানে বায়োফাক পদ্ধতিতে কৈ ও শিং মাছ চাষ

0
417

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের চৌগাছা উপজেলার ুদ্র ব্যবসায়ী সোহেল হোসেন বায়োফাক পদ্ধতিতে বাড়ির উঠানে মাছ চাষ করে বেশ লাভের আশায় বুক বেধেছেন। ইট দিয়ে তৈরী করা দুই ট্যাংকিতে তিনি ৮০ হাজার কৈ ও শিং মাছ চাষ করেছেন। কোন সমস্যা দেখা না দিলে কয়েক লাখ টাকার মাছ বিক্রি করতে পারবেন বলে মনে করছেন তিনি। তাকে অনুসরণ করে ইতোমধ্যে বেশ কয়েক যুবক এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেছেন। উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের বুন্দলীতলা গ্রামের মৃত মন্টু মিয়ার ছেলে সোহেল হোসেন। পুরাতন মটরসাইকেল বেচাকেনা ও মেরামত করাই তার মুল পেশা। চলতি বছরে সে একটি মাধ্যমে জানতে পারেন বাড়ির উঠানে ট্যাংক তৈরী করে মাছ চাষ করা সম্ভব। দেরি না করে ইট বালু সিমেন্ট নিয়ে এসে বাড়ির উঠানে ৪০ ফুট লম্বা ও ২৬ ফুট আড় আর উচ্চতা হচ্ছে ৪ ফুট দুইটি ট্যাংক তৈরী করেন। যার এক একটিতে পানি ধরন মতা হচ্ছে ১ লাখ ২০ হাজার লিটার। উপজেলা মৎস্য ও যুব উন্নয়ন অফিসের সার্বিক সহযোগীতা নিয়ে তিনি এই কাজ শুরু করেন। ট্যাংক তৈরীর পর মটর, জেনারটের সহ আনুসাঙ্গিক সব কিছু প্রস্তুত করেন। এরপর দুই ট্যাংকের জন্য কৈ ও শিং দুই জাতের মাছ সংগ্রহ করেন। প্রতিটি ট্যাংকে ৪০ হাজার করে মোট ৮০ হাজার মাছ ছাড়েন। মালিক সোহেল হোসেন ট্যাংকে চাষ করা মাছের খাবার নিয়মিত দেন। তিনি জানান, বায়োফাক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা খুবই লাভজনক। আমি মাছ বিক্রি শুরু করার অপেক্ষায় আছি। তারপর লাভের হিসাব করবো। তবে যে পরিমান ব্যায় হয়েছে, হিসেব কষে ব্যাপক লাভ হবে বলে আশা করছি। তিনি জানান, ট্যাংক তৈরী থেকে শুরু করে মটর, মাছ ক্রয়, জেনারেটর, বিদ্যুৎ সব মিলিয়ে তার প্রায় ৩ লাখ ব্যায় হয়েছে। কোন সমস্যা দেখা না দিলে আর মাত্র ৩ মাস পরই মাছ বিক্রি করা যাবে। সোহেল হোসেন জানান, ১টি ট্যাংকিতে পানি আছে ১ লাখ ২০ হাজার লিটার। এই পানিতে আমি ৪০ হাজার মাছ ছেড়েছি। দুই মাস আগে মাছ ছাড়া, এখন প্রতিটি মাছ খাওয়া উপযুক্ত হয়েছে। প্রতি দিন এই মাছের দুই বার সকাল ও সন্ধ্যায় খাবার দিতে হয়। খাবার হিসেবে নারিস ও কোয়ালিটি কোম্পানির ফিড ব্যবহার করি। দিনে ৮০ হাজার মাছের জন্য ব্যায় হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। প্রতি দিন অন্তত একবার করে পানি পরীা করা হয়। যাতে করে পানিতে খাবার ও অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় কোন কিছুরই যেন ঘাটতি না হয়। পানিতে কোন কিছুর ঘাটতি হলে মাছ লাফা লাফি শুরু করে। তখন পানি, মাছ সব কিছু পরীা নিরীা করে দ্রুত পদপে নিতে হয়। পানি, মাছ ও খাবার পরীা করার জন্য আলাদা আলাদা যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে। এ সব পরীার ঘর দেখলে মনে হবে ছোটখাটো একটি ল্যাব। তিনি বলেন, রাত দিন ২৪ ঘন্টার জন্য ট্যাংকের পানিতে অক্সিজেন দিয়ে রাখতে হয়। যদি কোন কারনে অক্সিজেন বন্ধ হয়ে যায় তাহলে সর্বোচ্চ দেড় ঘন্টার মধ্যে তা ঠিক করতে হয় অন্যথায় মাছের তি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সোহেল হোসেন বলেন, মাছ বিক্রির উপযোগী হলে ১৮ থেকে ২০টি শিং মাছে ১ কেজি হয় আর ১০ থেকে ১২টি কৈ মাছে হয় ১ কেজি। বাজার দর ভাল হলে শিং ২০০ থেকে ২২০ আর কৈ মাছ ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা যায়। উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের কর্মকর্তা মোরশেদ আলম বলেন, সোহেল হোসেন ব্যবসার পাশাপাশি যে কাজটি করেছেন তা অবশ্যই বেকার যুবক যুবতীদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত। অল্প জায়গা ও স্বল্প খরচে সে মাছ চাষের নতুন পদ্ধতি চালু করেছেন। এ কারনে সর্বশেষ যুব দিবসেও তাকে উৎসাহ যোগানো হয়েছে। উপজেলা মৎস্য অফিসার এএসএম শাহাজান সিরাজ বলেন, সোহেল হোসেন যে পদ্ধতিতে মাছ চাষ করেছেন তা এ অঞ্চলে একেবারেই নতুন। আমরা সরেজমিন দেখেছি, নিঃসন্দেহে এটি একটি ভাল উদ্যোগ। এই নতুন উদ্যেগ ও উদ্যোক্তাকে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here