সাতক্ষীরার বৈকারি সীমান্তে আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারীরা সক্রিয়

0
271

সাতক্ষীরা ব্যুরো প্রধান : সাতক্ষীরার বৈকারি সীমান্তে আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী ৬ সদস্য গ্রেফতারের পর তাদের দেওয়ার স্বীকারোক্তিতে যারা আসামী শ্রেনিভুক্ত হয়েছে। তারা গ্রেফতার এড়িয়ে পাচার কাজে নিয়োজিত আছে বিজিবি’র চোখ ফাঁকি দিয়ে। পাচারকারীদের সহায়কারীরাও রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। সাতক্ষীরার বৈকারি সীমান্তের স্থানীয় জনসাধারণ জানায় নারী পাচারকারীদের গডফাদার টিকটক হৃদয় ও নদী আক্তার বৈকারী ও কালিয়ানী সীমান্তে গড়ে তুলেছে নারী পাচারের ভয়ঙ্কর নেটওয়ার্ক বৈকারী কালিয়ানী ছয়ঘোরিয়া কাথন্ডা ও বাঁশদহা এলাকায় গড়ে তোলা নেটওয়ার্কে রয়েছে ২ ডজন পাচারকারী। আর নারী পাচারের সহযোগিতার জন্য রয়েছে আরো ২ ডজন সহযোগী। ভারতের নির্যাতিন মহিলা ঢাকার হাতির ঝিল থানায় মামলা দায়ের করায় পুলিশ গ্রেফতার করে টিকটক হৃদয় ও নদী আক্তারকে। তাদের স্বীকারোক্তিতে গ্রেফতার হয় বৈকারির ধাবক পাড়ার মৃত গফুর ধাবকের ছেলে কাদের ধাবক, তার পুত্র মেহেদী হাসান বাবু, কালিয়ানী সীমান্ত থেকে পল্টু কারিগরের ছেলে সালাম কারিগর, কাথন্ডা গ্রামের আব্দুল মুজিদের ছেলে মহিউদ্দীন, আব্দুল মুজিদ বুনোর ছেলে আমিরুল ও বাঁশদহার ঘাটমালিক ইছাক আলীর ছেলে আকবর আলী। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কাথন্ডার আমিরুল ও ধাবক পাড়ার মেহেদী হাসান বাবু আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। আমিরুলের দেওয়ার জবান বন্দিতে বৈকারি সুজুদ্দীর ছেলে আনিছুর রহমান আনিছ তাদের লিডার। আনিছ নদী আক্তার ও টিকটক হৃদয়ের প্রতিনিধি হিসেবে তার নির্দেশ মোতাবেক পাচারকৃত নারীদের নিয়ে এসে আনিছুরের কাছে পৌছে দিত। আনিছুর ওই মেয়েদের ভারতে পাচার করে পাচার চক্রের প্রধান সবুজের কাছে পাঠাত। গ্রেফতারকৃত মেহেদী হাসান বাবুর স্বীকারোক্তিতেও আনিছুর রহমান আনিছকে তাদের লিডার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এছাড়া বাবু তার স্বীকারোক্তিতে ধাবক পাড়ার আব্দুস সালাম(গ্রেফতার), কাথন্ডার মহিউদ্দীন(গ্রেফতার), বৈকারির মুনসুরের ছেলে শাহীন, মুজিবুর রহমান নজুর ছেলে আমিরুল ও মনিরুল, ইমান আলীর ছেলে শাহীন, নুর মোহাম্মদের ছেলে শফিকুল ইসলাম মিলন ও তার ভাই মাসুম, নীরদের ছেলে বিশ^জিত নারী পাচারকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এরা সকলেই টিকটক হৃদয় ও নদী আক্তার গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। গ্রেফতারকৃতদের বর্ণনা মতে এবং স্থানীয় একাধিক সূত্রে থেকে জানা গেছে, উল্লেখিত পাচরাকারীদের কাছ থেকে ঘাটমালিক আকবরের পক্ষে অর্থ আদায় করতো বৈকারির সোহেল সরদারের ছেলে আলমগীর হোসেন এবং একটি সংস্থার নামে অর্থ আদায় করতো রমিজউদ্দীনের ছেলে হিটলার। তার বিরুদ্ধে পূর্বে নারী পাচারের মামলা রয়েছে। তার পিতার রমিজউদ্দীন এলাকার অনেকের কাছ থেকে ভারতে ভালো চাকুরি দেবে বলে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে আত্মসাথ করেছে। এছাড়াও ছয়ঘোরিয়া গ্রামের জাফর আলীর ছেলে ইবাদুলও একটি সংস্থার নামে অর্থ আদায় করে। এবাদুলের অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, আমি আগে স্থানীয় গোয়েন্দা বিভাগের লোকদের সাথে ঘুরে বেড়াতাম ও তাদের সোর্স হিসেবে কাজ করতাম। এখন বৈকারি ও কালিয়ানি বিজিবি ক্যাম্পের বাজার করি। আমি এখন কোন অর্থ লেনদের সাথে জড়িত নই। আলমগীর হোসেন জানান, আমি কখনো এ কাজের সাথে জড়িত নই। হিটলারের মোবাইলে পাওয়া যায় নি। পাচারকারীদের লিডার হিসেবে চিহ্নিত আনিছুর রহমান, বৈকারির মুনসুরের ছেলে শাহিনসহ অন্যান্য পাচারাকারী ও পাচারের সহায়তাকারী অর্থ আদায়কারীদের সংঘটিত করে পুনরায় পাচার কাজে সক্রিয় রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান। এলাকাবাসী সূত্রে আরো জানাযায়, গ্রেফতারকৃত মেহেদী হাসান বাবু নুর মোহাম্মদের ছেলে মাসুমের কাছে ১০লক্ষ টাকা পেত। বাবু গ্রেফতারের পর মাসুম ওই টাকা দিয়ে একটি দামি গাড়ী ক্রয় করেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। আনিছুর রহমান তার সহযোগীদের গ্রেফতার এড়াতে এলাকার বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় মিটিং করে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here