যশোর বেনাপোল হাইওয়ের ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের ওপর নির্মিত ব্রীজটি অপসারনের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান

0
351

স্টাফ রিপোর্টার : ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের উপর নির্মিত ব্রীজটি নকশা বর্হিভূত ভাবে সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত পন্থায় নির্মান করা হচ্ছে দাবি করে তা দ্রুত অপসারনের দাবি জানিয়েছেন কৃষক সংগ্রাম সমিতির নেতৃবৃন্দ। একই সাথে তারা দাবি করেছে সময় উপযোগী ও নকশা অনুসরণপূর্বক উক্ত স্থানে একটি উঁচু মানের ব্রীজ নির্মান করে দেশের বৃহত্তম স্থল বন্দও বেনাপোলসহ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সাথে যোগাযোগ স্থাপনকারী এশিয়ান হাইওয়ে উপযোগী ব্রীজ কপোতাক্ষ নদেও উপর নির্মাণ করা হোক। গতকাল এই দাবিতে যশোরের জেলা প্রশাসক মোঃ তমিজুল ইসলাম খানের নিকট মাননীয় প্রধঅনমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে সংগঠনটির জেলা নেতৃবৃন্দ। স্মারকলিপিতে নদের নব্যতা ঠিক রেখে সময়োপযোগী ব্রীজ নির্মান কল্পে সরকারী গেজেট নোটিফিকেশন সংযুক্ত করা হয়। জেলা প্রশাসক স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন এবং এ বিষয়ে তার করনীয় সম্পর্কে নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেন এবং দ্রুত স্মারকলিপি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সকাশে প্রেরণ করবেন বলে জানান।
স্মারলিপিকে বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির যশোর জেলা শাখার প থেকে দাবি করা হয়, জেলার কেশবপুর, মনিরামপুর, ঝিকরগাছা, চৌগাছা উপজেলা কপোতা নদের অববাহিকায় অবস্থিত। জেলার অংশসহ নদটির সমগ্র অববাহিকা ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত। বন্যা, আকষ্মিক বন্যা, জলাবদ্ধতা, আর্সেনিক দূষণ, সুপেয় পানির সংকট, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়াসহ নানা বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণে চরমভাবে বিপর্যস্ত। বিপর্যস্ত নদ কেন্দ্রীক সভ্যতা ও নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা। কৃষি ও মৎস্যসহ সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য, মানুষের জীবন-জীবিকা ও প্রকৃতি আজ বিপন্ন। সেদিন আর বেশি দূরে নয় যে, দেখা যাবে নদটির অববাহিকায় প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে।
নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, বিপন্ন মানুষ আশায় বুক বেঁধে ছিল বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের ৫৩টি নদ-নদী খনন প্রকল্প গ্রহণ করায়। যার মধ্যে প্রথম ধাপে ২৪টি নদীর খনন কার্য চলছে সেটা প্রায় শেষ পর্যায়ে । আর দ্বিতীয় ধাপে কপোতাক্ষ নদ সহ বাকী নদীগুলোর খনন কার্য সম্পন্ন হবে। ঈধঢ়রঃধষ ড্রেজিং করে নদ-নদীগুলি নৌ-পথে পূর্ণরূপ দেওয়ার প্রকল্প। এখানেও নদটি নাব্য করে নৌ-পথ চালু করবে। অব্যাহতভাবে নদটির ড্রেজিং কাজ চলমান থাকবে এবং ঈধঢ়রঃধষ ড্রেজিং করার সক্ষমতা সম্পন্ন ড্রেজার চলাচল করবে। নদটি নাব্য করে নৌপথ সহ নদীকেন্দ্রিক অন্যান্য ব্যবস্থাপনা চালু করার অভিপ্রায় সরকার বদ্ধপরিকর। কিন্তু ঝিকরগাছা বাজারের ওপর ৬ লেনের আন্তঃদেশীয় মহাসড়কে (এশিয়ান হাইওয়ের অংশ) একটি ব্রীজ দেশের সমস্ত নিয়ম-কানুনকে পদদলিত করে সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিকভাবে তৈরী করা হয়েছে। আরেকটিও ঐ একই নকশায় ব্রীজ নির্মাণ কর্তৃপক্ষ সরকারী গেজেট (অভ্যন্তরীণ জলপথ ও তীরভূমিতে স্থাপনাদি নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০১০) ও এলাকার জনমতকে উপেক্ষা করে তৈরির পদক্ষেপ চালাচ্ছে। নদী বিজ্ঞান, আবহাওয়া, জলবায়ু, জীববৈচিত্র্য, প্রাণ-প্রকৃতি সবকিছুকে অস্বীকার করা হচ্ছে। প্রথম ব্রীজটি নির্মাণ হয়ে গেলে তা দেখে জনগণ বিস্মিত, স্তম্ভিত ও বিক্ষুব্ধ হয়েছেন। গেজেট বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপ যদি নদটি চতুর্থ শ্রেণীভূক্ত জলপথ হিসেবে বিবেচনায় নেয় তবুও সর্বোচ্চ পানি সমতল হতে ব্রীজটির উলম্ব ছাড় (াবৎঃরপধষ পষবধৎধহপব) হবে ১৬ ফুট। তৃতীয় শ্রেণীভুক্ত জলপথ হিসেবে বিবেচনায় নিলে উলম্ব ছাড় হবে সর্বোচ্চ পানির সমতল হতে ২৫ ফুট, দ্বিতীয় শ্রেণীভুক্ত হলে ৪০ ফুট, প্রথম শ্রেণীভুক্ত হলে ৬০ ফুট। নির্মিত ব্রীজটির েেত্র উলম্ব ছাড় (াবৎঃরপধষ পষবধৎধহপব) সর্বোচ্চ পানি সমতল হতে মাত্র ৬.৫ ফুট। যদি ২০০০ সালের বন্যাকে বিবেচনায় নেওয়া হয় তাহলে তা অন্তত (৪০ ফুট ধরে) ৩৩ ফুট উঁচু করার দরকার ছিল। এভাবে বিশেষজ্ঞরা বললেও সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব বিশেষজ্ঞ দিয়ে যেটি নির্মাণ করেছে সেটি করার মধ্যদিয়ে সমগ্র অঞ্চলকে ভয়াবহভাবে বিপর্যস্ত করার পথ প্রশস্থ করেছে ও সরকারের এ সংক্রান্ত বিধিমালা উপেক্ষিত হয়েছে।
এমতাবস্থায় স্থানীয় জনগণ অবিলম্বে এ নদটি রক্ষায় দ্বিতীয় অপরিকল্পিত ব্রীজটি নির্মাণ বন্ধ রেখে সমগ্র বিষয়ের নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে নদকে রক্ষা ও সরকারী গেজেটানুযায়ি (অভ্যন্তরীণ জলপথ ও তীরভূমিতে স্থাপনাদি নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০১০) আন্তঃদেশীয় মহাসড়কটির উপযোগি ব্রীজ নির্মাণ ও এতদ্ব সংক্রান্তে যে কোন অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here