নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ‘নৈঃশব্দ্য ভেঙে জেগে ওঠো দ্রোহে’ শ্লোগানকে সামনে রেখে যশোরে উদীচী শিল্প গোষ্ঠীর ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে ঐতিহাসিক টাউন হল ময়দানের শতাব্দী বটমূলের রওশন আলী মঞ্চে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংগঠনটি। এর আগে, সকালে উদীচী প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা ও সংগঠন পতাকা উত্তোলন কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উৎসব।
বিকালে রওশন আলী মঞ্চে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর আশরাফ হোসেনের কথা ও সুকুমার দাসের সুরে ‘আরশির সামনে একা একা দাঁড়িয়ে যদি ভাবি কোটি জনতার মুখ..’ উদীচীর এ সংগঠন সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব। সূচনা সংগীতের পর ১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ উদীচীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনের অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় নিহত হন- নূর ইসলাম, নাজমুল হুদা তপন, সন্ধ্যা রানী ঘোষ, ইলিয়াস মুন্সী, শাহ আলম বাবুল, বাবুল সূত্রধর, শাহ আলম, বুলু, রতন রায় ও রামকৃষ্ণের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়। এরপর সংক্ষিপ্ত আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উদীচী যশোরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুর রহমান মজনু। আলোচনা করেন সিপিবি যশোরের সভাপতি অ্যাড. আবুল হোসেন, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম-উদ-দ্দৌলা ও যশোর শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাহমুদ হাসান বুলু। স্বাগত বক্তব্য দেন উদীচী যশোর সহ সাধারণ সম্পাদক শেখ মাসুদ পারভেজ মিঠু। এসময় বক্তারা বলেন, ‘উদীচী শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন নয়, এর একটি নিজস্ব রাজনীতি রয়েছে। সমাজের অন্যায়, অবিচার, শোষণ আর বঞ্চনার প্রতিবাদ করে একটি সাম্যের সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা উদীচীর লক্ষ্য। সেই আকাঙ্খা নিয়ে ৫২ বছর আগে উদীচীর যাত্রা। তাই এই সংগঠনের নেতৃত্ব ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের উদীচীর আদর্শ বুঝে কাজ করতে হবে, সমাজ পরিবর্তনে তৎপর হতে হবে। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সচেতনতার সাথে অবস্থান নিতে হবে।’ বক্তারা আরো বলেন, বাঙালি জাতি সত্ত্বা বিকাশে উদীচী তার জন্মলগ্ন থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সত্যেন সেন, রনেশ দাশগুপ্ত’র হাতে গড়া উদীচী সবসময় নিপীড়িত নির্যাতিত বঞ্চিত মানুষের অধিকার রায় কাজ করে। সকল স্বাধিকার আন্দেলনে তারাই অগ্রগামী। আলোচনা শেষে সমবেত গণসংগীত ‘হাতুড়িতে পিটাও…’, ‘বাংলার হিন্দু, বাংলার বৌদ্ধ…’, ‘অধিকার কে কাকে দেয়…’, ‘পথে এবার নামো সাথী, ‘গণতন্ত্র…’ সমবেত নৃত্য- সংগ্রাম চলবেই’, ‘লাখো লাখো হাত’, ‘এবার তোর মরা গাঙে’- পরিবেশনার পাশাপাশি একক আবৃত্তি, একক সংগীত পরিবেশিত হয়। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আব্দুল আফ্ফান ভিক্টর, কাজী শাহেদ নওয়াজ ও ওয়াজীহা তাসনিম।















