খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহে ব্যস্ত শার্শার গাছীরা

0
280

মালিক্জ্জুামান কাকা, যশোর : ‘যশোরের যশ খেজুরের রস’। শীতের শুরুতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও যশোর জেলার শার্শা উপজেলার গাছিরা খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্য যশোর জেলার খেজুর গাছ। শার্শা এক সময় খেজুরের গুড়ের জন্য বিখ্যাত ছিলো। শীত শুরু হওয়ার সাথে সাথে খেজুর গাছ ঝোড়া কাটার প্রতিযোগিতা পড়েছে গাছিদের মধ্যে। গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতীক এই অঞ্চলের খেজুর গাছ। হেমন্তে দেখা যায় গাছীরা শেষ বিকেলে গাছে ভাড় বা ঠিলে বসাচ্ছেন। আর সকালে তারা রস পেড়ে আনছেন।
যশোরের আবহাওয়ার সাথে মানানসই খেঁজুর গাছ এমনিতেই জন্মে। ফলে বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় খেজুরের বাগান। এখন হেমন্তের শীত, তাই অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা খেজুর গাছের কদর বেড়ে উঠেছে। এ গাছ এখন দিচ্ছে গাঢ় মিষ্টি জিরেন রস। আহরিত সেই রস জ্বালিয়ে পাতলা- ঝোলা, দানা গুড় ও পাটালি তৈরী করা হয়। খেজুরের গুড় থেকে এক সময় বাদামী চিনিও তৈরী করা হতো। যার সাধ ও ঘ্রান ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্বাদের তৃপ্তিতে বাদামী চিনির জুড়ি নেই। এখন অবশ্য সেই চিনির কথা নতুন প্রজন্মের কাছে রুপ কথার গল্পের মত মনে হয়। খেজুর গাছের বৈশিষ্ট হচ্ছে যত বেশী শীত পড়বে তত বেশী মিষ্টি রস দেবে। পুরো মৌসুম জুড়ে চলবে গ্রাম বাংলায় রস, গুড়, পিঠা-পুলি, পায়েস তৈরি ও খাওয়ার পালা। আর কিছুদিন পর নতুন গুড়ের মিষ্টি গন্ধে ধীরে ধীরে আমোদিত হবে গ্রাম বাংলা।দিন। এই সময়ের গ্রামীন সন্ধ্যা কালিন পরিবেশটা বড়ই আনন্দের। খেঁজুর রসের কারণে গ্রামীণ পরিবেশটা মধুর হয়ে উঠে। মন ভরে যায় সন্ধ্যার খেঁজুরের জিরেন রসে। গাছীরা জানান, এখন সবে মাত্র শুরু হয়েছে রস সংগ্রহ করার প্রাথমিক কার্যক্রম। আর কিছুদিন পর পুরোদমে শুরু হবে খেজুর গাছের রস প্রাপ্তী। যারা খেজুর রসে পাগল তারা শহর থেকে দলে দলে ছুটে আসবে গ্রামে। এই সময় খেজুর গাছ থেকে রস আহরণকারী গাছিদের প্রাণ চাঞ্চল্যও বাড়বে। যদিও আগের মত সেই রমরমা অবস্থা আর নেই তাদের। দেশের বিভিন্ন স্থানে কম বেশী খেঁজুর গাছ এখনও রয়েছে। তবে যশোর জেলায় ঐতিহ্য থাকার কারণে বলা হয়ে থাকে যশোরের যশ খেঁজুরের রস। পরিকল্পিত ভাবে খেঁজুরগাছ লাগানো হলে শুধু মৌসমের উপাদেয় রস গুড় নয়, দেশীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিরাট ভুমিকা রাখতে পারবে। সরকারী উদ্যেগে বেশি করে খেঁজুর গাছ লাগানোর পাশাপাশি যশোরের খেজুর গুড়ের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য বন বিভাগের গবেষনার প্রয়োজন কিভাবে খেজুর গুড়কে অর্থকরী ফসল হিসাবে গড়ে তোল যায়। জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত রস দাতা খেজুরের চারা রোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। একই সাথে গাছীদের গাছে ওঠার সমস্যা এড়াতে গাছে ওঠার যন্ত্র তৈরি করেছে জেলা প্রশাসন। এসব নতুন খেজুর গাছ থেকে প্রতিদিন ১৬ লিটার নুন্যতম রস পাওয়া যাবে। ফলে খেজুর গাছ ও গাছী আগামীর নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here