নদীর উপর দিয়ে বালু উত্তোলনের অবৈধ পাইপ লাইন/ ডুমুরিয়ায় শোলমারি নদীতে পানি নিষ্কাশনের পথে বাধা

0
346

গাজী আব্দুল কুদ্দুস,ডুমুরিয়া : ডুমুরিয়ায় শোলমারি নদীর উপর দিয়ে আবারো পাইপ লাইন টেনেছে আলোচিত সেই বালি ব্যবসায়ী। যাকে গত মাস তিনেক আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর উপর দিয়ে পাইপ লাইন সরানোর জন্য নোটিশ করেছিলেন। জানা যায়, খুলনা শহর এলাকার নব্য এক বালু ব্যবসায়ী বছর খনেক আগে শোলমারি নদীর তীরে একটি বালির বেড গড়ে তোলেন। পাশ^বর্তি কাজিবাছা নদীতে বলগেটে আসা ওই বালি পাইপ লাইনের মাধ্যমে ওই বেডে আনা হয়। প্রবাহমান শোলমারি নদীর উপর দিয়ে প্রায় অর্ধ কিলোমিটার বালির পাইপ লাইনটি টানা হয়েছে। আর এতে জোয়ার-ভাটায় পানি নিষ্কাশনে চরমভাবে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। পাইপ লাইনের খুটিতে প্রচুর পরিমানে কচুরিপানা আটকে পড়ায় সঠিকভাবে পানি নিষ্কাশনে বাধা হয়। যেকারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুতভাবে ওই পাইপ লাইন অপসারণের জন্য সংশিষ্ট বালি ব্যবসায়ীকে নোটিশ করেন গত তিন মাস আগে। কিন্তু কিছুদিন পাইপ খুলে রাখার পর আবারো তারা নদীতে বাঁশ ও গাছের বল্লি পুঁতে মজবুতভাবে পাইপ টেনেছে। ফলে পানি নিষ্কাশনে আবারো বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। সময় মত পানি সরবরাহ না হলে বোরো চাষাবাদে অনেক ক্ষতি হবে এমন অভিযোগ কৃষকের। এখনো নিম্নাঞ্চলের বিল গুলোতে পানি জমে আছে। সেচ দিয়ে অনেক কষ্ট করে বীচতলা তৈরি করেছেন তারা। সময়মত পানি না নামলে চলতি বোরো ধান চাষাবাদে কৃষকের বড় ক্ষতি হবে। এ প্রসঙ্গে ভদ্রা-সালতা পানি ব্যবস্থাপনা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ এনামুল হোসেন বলেন, ‘এখন বোরো মৌসুম শুরু হয়েছে। ধান চাষাবাদের উপযোগি করতে হলে বিলের পানি নামাতে হবে। ইতোমধ্যে রংপুর, শলুয়া, আড়ংঘাটা, বিলপাটেলা, মাধবকাটি, খাজুরাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা পানি সরানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে শোলমারি ১০ ভেন্টের সকল কপাট উঠানো হয়েছে। কিন্তু গেটের মুখে এনায়েত করিম নামের এক বালু ব্যবসায়ির পাইপ লাইন টানানোর কারণে পানি নিষ্কাশনে বাধা হচ্ছে। তিনি বলেন, গত মাস তিনেক আগে পাইপ সরানোর জন্য তাকে নোটিশ করেছিলো পানি উন্নয়ন বোর্ড। ওই বেডের মালিক আরিফ চৌধুরির সাথে কথা বলার পর তারা পাইপ সরিয়ে ফেলে। গত দুই সপ্তাহ হচ্ছে গোপনে আবারো মজবুত করে পাইপ লাইন টেনেছে।’ এদিকে বালি ব্যবসায়ী শেখ এনায়েত করিম জানান, ‘আমি এখন এলাকার বাহিরে আছি। এসে দেখবো। এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খুলনা বিভাগীয় উপ প্রকৌশলী মোঃ সাঈদুর রহমান বলেন, ‘নদীর স্রোতে বাঁধাগ্রস্থ করে পাইপ লাইন টানানোর কোন সুযোগ নেই। বালি ব্যবসায়ী এনায়েত আলীকে একবার নোটিশ করেছি। এবার আমরা দ্রুত তার বিরুদ্ধে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here