এক বছরে ১৯টি সড়ক দুর্ঘনায় মৃত্যু ১১ জনের/ অবৈধ যানবাহন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মহম্মদপুরের রাস্তা-ঘাট

0
569

মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি : অবৈধ নানা ধরণের যানবাহন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার রাস্তা-ঘাট ও অলি-গলি। তাদের দৌরাত্ম্যে ঝুঁকিতে রয়েছে পথচারিরা। অবৈধ এসব যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এদের বেপরোয়া গতির চলাচলে সড়কে চলাচলরত সাধারণ মানুষের জীবন থাকে চরম ঝুঁকিতে। গত এক বছরে ১৯টিরও বেশী দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের এবং আহতসহ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন অনেকেই। এই দুর্ঘটনার বেশীর ভাগই এসব অবৈধ যানবাহনের কারনে। শ্যালো ইঞ্জিন চালিত স্টিয়ারিং- নছিমন, করিম, আলমসাধু, আলগামন, বালি, মাটি ও ইট টানা ট্রলি এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক নামক এসব অবৈধ যানবাহনের দেখা মেলে উপজেলার সর্বত্র। এদের বেপরোয়া গতির চলাচলে গত এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে ১৫টিরও বেশী, মারা গেছে ৭জন। চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে ৪টি, মারা গেছে ৪জন। বাকীদের পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে। অবৈধ এসব যানবাহনের সরকারি কোনো অনুমোদন না থাকলেও প্রশাসনের সামনে দিয়েই এদের অবাধ চলাচল। কৃষকদের কৃষি জমির মাটি বিনাশ করে ইট ভাটায় সরবরাহ করা। আবার বিভিন্ন এলাকা থেকে গাছের খড়ি ভাটায় আনা এবং বিভিন্ন এলাকায় ইট পৌছে দেয়া- এই অবৈধ পরিবহনের বেপরোয়া গতির চলাচলের কারনে পথচারীরা যেমন ঝুঁকি নিয়ে পথ চলে, তেমনই রাস্তারও চরম ক্ষতি হয়। নির্বাহী কর্মকর্তারা মাঝে মধ্যে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেন। আবার অবৈধ এই সব যানের চালকরাও বেশীরভাগ অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়ে থাকে। তাদের নেই কোনো লাইসেন্স। নেই কোনো প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা। বেপরোয়া চালানো, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানোর ফলে প্রায় প্রতিনিয়তই সড়কের কোথাও না কোথাও ঘটে থাকে দুর্ঘটনা । ফলে সড়ক দুর্ঘটনায় জীবন দিতে হচ্ছে কোনো না কোনো পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী অভিভাবককে। অথবা হাত-পা ভেঙ্গে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হচ্ছে অনেকের। এ ধরণের যানবাহনে ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশী যাত্রী, পণ্য বা ইট, বালু, মাটি চাপিয়ে হাট-বাজারসহ নানা স্থানে ছুটে চলেছে বেপরোয় গতিতে। ফুটপাতও এই অবৈধ গাড়ীর দখলে রয়েছে। এতে যেমন বেড়েই চলেছে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা তেমনি অদক্ষ চালকের হাতে এই বাহন যাওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার তারা চলার সময় এই বাহনে লাগানো হর্ণ বাজায় বিরামহীনভাবে। যার চরম বিড়ম্বনার শিকার পথচারিরা। আবার এ বাহনে লাগানো আলোয় রাতে চরম ভোগান্তির শিকার মোটরসাইকেল বা বাইসাইকেল চালকেরা।
সাংবাদিক পলাশ রহমান বলেন, উপজেলা সড়কগুলো খুবই অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। রাস্তার পাশে নেই কোনো নির্দেশনার চিহৃ। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এর কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা ।
উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গত জানুয়ারী মাসে চারটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে চারজন মারা গেছেন এবং অনেকেই মারাত্বক আহত হয়েছেন। এরপর থেকেই অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম্য নিয়ে সর্ব মহলেই আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও প্রাণহানি রোধে এসব অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই চরম ভোগান্তির শিকার পোয়াতে হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। মহম্মদপুর থানার ওসি মোঃ নাসির উদ্দিন জানান, গত বছর সহ চলতি বছরের প্রথম মাস মিলে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে ১৯টি এবং মারা গেছে ১১ জন। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় কিছু দুর্ঘটনা স্থানীয়ভাবে মিমাংসা হয়। যা আমাদের কাছে আসেনা। আর এগুলো আমাদের তালিকায় নেয়। মহাসড়ক ও আঞ্চলিকমহাসড়কে এ বাহন নিষিদ্ধ। এর বাহিরের সড়কগুলোতে চলে। তবে পথচারিদের সমস্যা সৃষ্টি করে নয়। জনসাধারণের সমস্যা মনে করে মাঝে মাঝে আমরা এই বাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে থাকি এবং আটক করে হাইওয়েতে পাঠিয়ে দেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here