ওরা বাগদি তাই ওদের কেউ খোঁজ রাখেনা

0
278

ইমদাদ হোসেন, চুড়ামনকাটি (যশোর)॥ জীবনের মৌলিক অধিকার ছাড়ায় বসবাস করে আসছে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের বাগদি সম্প্রদায়ের মানুষ গুলো। ওদের পাপ ওরা বাগদি সম্প্রদায়ে জম্ম গ্রহন করেছে। তাইতো ওদের থাকতে হয় সব সময় সমাজ থেকে অবহেলিত। অর্ধলাঙ্গ মানুষ গুলো এক মুঠো খাবার যোগাতে মাছ, শামুক, কুঁচে ধরে কোন রকম বেঁচে আছে ওরা। অর্ধহারে অনাহারে থাকা এসব মানুষ গুলোর ভাগ্যের হয় না কোনো পরিবর্তন। সভ্য যুগেও যে মানুষ আদিম যুগের ন্যায় বসবাস করতে পারে তা এদের না দেখলে কেউ বিশ্বাস করতে পারবে না।
যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামে বসবাস করে প্রায় ২০০ টি বাগদি সম্প্রদায়ের পরিবার। যে পরিবার গুলোতে রয়েছে প্রায় ৮০০ জন সদস্য। যশোর সদর উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় বাওড়টি জগহাটি গ্রামে হওয়ায় এই পরিবার গুলোর পূর্ব পুরুষগন বহু বছর আগ থেকে এখানে তাদের বসবাস শুরু করে। এই পরিবার গুলোর প্রধান আয়ের উৎস ছিল জগহাটি বাওড় সহ এলাকার বিভিন্ন খাল বিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা। তাইতো জগহাটি গ্রামের বাওড় পাড় ঘেষে এই পরিবার গুলো তাদের বসবাসের জন্য ছোট ছোট কুড়ে ঘর বানিয়ে সেখানেই যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে। এক সময় তারা এই বাওড় থেকে মাছ ধরে এলাকার বিভিন্ন হাট বাজারে বিত্রিু করে ভাল ভাবেই জীবন জীবিকা নির্বাহ করতো। বর্তমানে বাওড়টিতে তারা এখন আর মাছ ধরতে পারেনা। বাওড়ে মাছ ধরতে না পেরে ুধার যন্ত্রনায় তারা নেমে পড়ে জীবন যুদ্ধে। বেচে থাকার তাগিদে তারা আদি পেশা মাছ ধরা ছেড়ে বেছে নেয় শামুক, কুঁচে, ধরে জীবন চলার মত পেশা। সরেজমিন জগহাটি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও এলাকার বিভিন্ন খাল বিলে গলা ডুবিয়ে ডুবিয়ে শামুক সহ কুঁচে ধরে বাড়িতে আনছে। পরে সে গুলো বিত্রিু করে নিজেদের খাবার যোগাড় করছে। যেটা রীতিমত অনেকটা যুদ্ধের মত।
কেবল তাদের এক মুঠো খাবার যোগাতে প্রতিনিয়তই হিমসিম খেতে হয়। হরবালা (৬০)নামের এক মহিলা মনের কষ্ঠে বলেন, সরকার আসে সরকার যান শুধু পরির্বতন ঘটেনা আমাদের ভাগ্যের । তিনি আরো বলেন, ভোটের সময় আসলে রাজনৈতিক নেতারা আমাদের ভাগ্যের পরির্বতনের কথা বলে ভোট লুফে নেয় । এর পর তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
হারান (৭০) জানায়, ঘরে বসে থাকলে তো আমাগো হবে না আমাদের খাবার দেবে কে। তার মতে যতদিন বাঁচবো নিজেদের খাবার নিজেদেরই যুটিয়ে খেতে হবে।
সকাল হলে দলে দলে নারী পুরুষ ও শিশুরা শামুক ও কুঁচে ধরতে বাড়ি থেকে বের হয়ে পড়ে। যা দেখে মনে হয় এরা যেন যুদ্ধের সৈনিক। সারা দিন যা পায় তা নিয়ে আসে বাড়িতে। একাধিক বাগদি সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি জানান, প্রতি কেজি শামুক বিত্রিু করে থাকে ৩/৪ টাকা করে। যা বিত্রিু করে কোন রকম জীবন চলে।
মনো কষ্ঠে একাধিক ব্যক্তি জানান, পত্রিকায় লিখে কি লাভ হবে। বহু বার তো লিখলেন আমাদের ভাগ্যের কোন পরির্বতন হয় না। এখাকার মানুষ গুলোর সমাজের বিত্তমান মানুষের নিকট একটায় আকুতি বাগদি বলে তাদের অবহেলা না করে তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে সকলেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here