চৌগাছায় আমেরিকান ফল পেপিনোমেলন চাষে সফল তাইজুল ইসলাম

0
942

রায়হান হোসেন,চৌগাছা পৌর প্রতিনিধি ঃ আমেরিকান ফল পেপিনোমেলন চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বড়খানপুর গ্রামের সবজিচাষি তাইজুল ইসলাম (৬৫)। অত্যধিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই ফল চাষের জন্য ইউটিউবই ছিল তার একমাত্র ভরসা। চাষি তাইজুল ইসলাম জানান, পার্শ্ববর্তী গ্রামের প্রবাসী সেলিম রংপুরের মিঠাপুকুর থেকে চারা নিয়ে এসে কয়েক শতক জমিতে চাষ করেন। সেখানে এই ফল দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে সেলিমের কাছ থেকে চারা ক্রয় করে ৩৩ শতাংশ জমিতে রোপণ করেন। সেলিমও এই চাষে অনভিজ্ঞ। তাই ইউটিউবে চাষ পদ্ধতি দেখে পরিচর্চা শুরু করেন। চারা রোপণের ২ মাসের মধ্যে প্রতিটি গাছে ফল-ফুল ফলে ভরে যায়। তিনি জানান, বর্তমানে তার েেত প্রায় ৫০ মণ পেপিনোমেলন রয়েছে। নতুন জাতের ফল চাষে নাম্বার হয়ে চাষী তাইজুল ইসলাম খুবই খুশি । তাইজুল ইসলামের ছেলে আনিছুর রহমান বলেন, পেপিনো চাষে কোনো রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয়নি। পেপিনো চাষে রাসায়নিক সারের চাহিদা নেই বললেই চলে। জমিতে খুব কম পরিমাণে জৈব সার ব্যবহার করেছেন। তাতেই তরতাজা সজীব গাছে ফুল ও ফলে ভরে গেছে। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে নতুন চাষ হয়েছে। যে কারণে মানুষের কাছে অপরিচিত। বিভিন্ন এলাকায় খোঁজখবর নিয়ে জানতে পেরেছি প্রতি কেজি পেপিনো ফলের মুল্য ৫শ থেকে ৬শ টাকা। চাষি তাইজুল ইসলাম এলাকায় প্রচারের জন্য আরও কম দামে বিক্রি করবেন বলে জানান। ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখে এই ফল ক্রয়ের জন্য অনেক ব্যবসায়ী যোগাযোগ করেছেন বলে জানান।তিনি বলেন, এলাকায় প্রচার হলে চারা বিক্রি করে বাড়তি আয় হবে। ভাদ্র-আশ্বিন মাসে এই ফলের চারা রোপণ করতে হয়। একবার রোপণ করে দুই থেকে তিন বছর ফল পাওয়া যাবে এবং প্রতি বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে খুব কম খরচে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমরেন বিশ্বাস বলেন, পেপিনোমেলন খেতে অনেকটা তরমুজের মতো। তবে খাদ্যগুণ অত্যধিক। পেপিনোমেলন পুষ্টি ও ঔষধি গুণাগুণসমৃদ্ধ একটি ফল। যা উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এছাড়াও এতে রয়েছে পটাসিয়াম। সোডিয়াম কম থাকে। পেপিনোমেলন প্রধানত হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ এমনকি স্ট্রোকের মতো পরিস্থিতি প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও ভিটামিন সি, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here