গাজী আব্দুল কুদ্দুস, ডুমুরিয়া ॥ উপার্জনের একমাত্র হাতিয়ার ব্যাটারী চালিত ভ্যান হারিয়ে ৫ সদস্যের পরিবার নিয়ে গত ২ মাস যাবৎ মানবেতর জীবন যাপন করছে চুকনগরের আব্দুল লতিফ গাজী। হারানো ভ্যানটি খুঁজে না পেয়ে সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
জানা যায়, ডুমুরিয়া উপজেলার দণি চুকনগর গ্রামের দিন মজুর আব্দুল লতিফ গাজীর পরিবারে ৩ সন্তানসহ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫জন। মুলতঃ দিন মজুরী করেই পরিবারের ভরণ পোষনের ব্যবস্থা করতেন তিনি। কিন্তু দুই বছর আগে মেরুদন্ডে আঘাত জনিত সমস্যার কারনে এখন আর কোন কাজ করতে পারেন না। উপায়ন্ত না দেখে ১৪ বছর বয়সী ছেলে সবুজ একটি ব্যাটারী চালিত ভ্যান চালিয়ে যে টাকা উপার্জন করে তাই দিয়ে ৫ সদস্যের পরিবারের রুটি-রুজির ব্যবস্থা হয়ে থাকে। এভাবে কোন মতে দুঃখ কষ্টের মধ্যে হলেও ছেলে সবুজ ভ্যানটিকে হাতিয়ার করেই জীবন যুদ্ধের মাঠে নেমে পড়েছিল।
কিন্তু কথায় বলে চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। গত ৩১ ডিসেম্বর/২০২১ তারিখে সারাদিন ভ্যান চালিয়ে সন্ধ্যায় চুকনগর বাজারে কেনাকাটা করতে আসে সবুজ। ভ্যানটি মধ্য বাজারের চাউল হাটা জামে মসজিদের এক পাশে রেখে সে কাঁচা বাজারে যায়। এর ২০/২৫ মিনিট পরে বাজার করে এসে দেখে সেখানে তার ভ্যানটি নেই। এসময় তার মাথায় বজ্রাঘাত হওয়ার মত অবস্থা। এরপর সারা বাজার ও আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সবুজ তার ভ্যানটি আর পাইনি। এব্যাপারে পরদিন ১লা জানুয়ারী/২০২২ তারিখে ডুমুরিয়া থানায় একটি অভিযোগ করেন আব্দুল লতিফ। এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে লতিফ ও তার ছেলে সবুজ জানায়, ভ্যান চুরি হয়ে যাওয়ার পর গত দুইমাস পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহার দিন কাটছে তাদের। কোনভাবে একটি ভ্যানের ব্যবস্থা হয়ে গেলে আবারও জীবিকা নির্বাহ করে পরিবারের ভরন পোষনের ব্যবস্থা করতে পারবে। এ প্রসঙ্গে কথা হয়, এলাকার আমিনুল ইসলাম, আব্দুল কুদ্দুস গাজীসহ আরও কয়েক জনের সাথে। তারাও পরিবারটির করুন অবস্থার কথা স্বীকার করেন।
লতিফের বিশ্বাস, পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন ছাপা হলে সমাজের অনেক বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিরা তার পাশে দাঁড়াবে। সমাজের কোন সহৃদয়বান ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ যদি এই অসহায় পরিবারটির জীবিকার হাতিয়ার একটি ভ্যান কেনার জন্যে সহযোগীতার হাত বাড়াতে চান তাহলে লতিফের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ০১৯৮০-০৪১৯৭২ নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন।















