চৌগাছায় ৩৩৬ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ

0
591

মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর : ড্রাগন চাষ ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে যশোরের চৌগাছা উপজেলা। এটি কৃষিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ অঞ্চলের কয়েকজন চাষি পাঁচ ছয় বছর আগে শখের বশত ড্রাগনের চাষ শুরু করেন এবং সফলতা পান। অধিক লাভজন হওয়ায় বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। ব্যয় যেমন বেশি তেমনি লাভ বেশি তাই প্রতি বছর উপজেলাতে বৃদ্ধি পাচ্ছে ড্রাগন চাষ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলার তিন ইউনিয়ন নারায়নপুর, পাতিবিলা ও হাকিমপুরে চাষিরা ড্রাগন চাষে ব্যাপক ঝুঁকে পড়েছেন। এই তিনটি ইউনিয়ন ছাড়াও উপজেলার স্বরুপদাহ ও সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নে বিচ্ছিন্নভাবে ড্রাগনের চাষ শুরু করা হয়েছে। বর্তমানে চৌগাছাতে ৪৫ হেক্টর বা ৩৩৬ বিঘা জমিতে ড্রাগনের চাষ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর ৭ হেক্টর জমি বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে ড্রাগন ফলের চাহিদা বেশি সে কারণে দামও অন্য ফলের চেয়ে কিছুটা বেশি। তাই কৃষক ড্রাগন চাষে সাফল্য পাচ্ছেন। অবশ্য স্থানীয়রা বলছেন শুধুমাত্র পাতিবিলা ইউনিয়নেই ৩০-৩৫ হেক্টর জমিতে ড্রাগন চাষ হচ্ছে অনুমিত হয়।
উপজেলার পাতিবিলা, হাকিমপুর ও নারায়নপুর ইউনিয়নের বেশ কিছু মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, যে জমিতে কৃষক আগে ধান, পাট বা সবজির চাষ করতেন সেই জমিতে ড্রাগনের চাষ করেছেন। ইউনিয়ন দুুটির মাঠে বিঘার পর বিঘা জমিতে চাষ হয়েছে ড্রাগন ফলের। চৌগাছা-কোটচাঁদপুর সড়কে মুক্তদাহ মোড় পার হলেই সড়কের পূর্বপাশে দেখা মিলবে ড্রাগনের তে। বিঘার পর বিঘা জমিতে চাষ হয়েছে মনোমুগ্ধকর ও সুস্বাদু এই ফলের। পথচারীরা চলতে পথে অনেক সময় থমকে যান এবং নতুন এই চাষ দেখে মুগ্ধ হয়ে উঠেন, অনেকে মন্তব্য করেন এ যেন ড্রাগনের রাজধানী। ড্রাগন তে পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষি পাতিবিলা গ্রামের তানজিম, আইনাল মন্ডলের পুত্র আক্তার হোসেন, একই গ্রামের নাসির উদ্দিনের পুত্র রুবেল হোসেন, আর্মী। চাষিরা জানান, তারা কয়েক বন্ধু মিলে একই মাঠে সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে ২ বছর আগে ড্রাগন চাষ শুরু করেন। গত দুই বছরে তারা সকল জমিতে ব্যয় করেছেন ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। বিপরীতে দুই বছরে ফল বিক্রি করেছেন প্রায় ১৬ লাখ টাকা। উপজেলার কৃষকরা জানান, ড্রাগন চাষ প্রথম দিকে ব্যয় বেশি এরপর ধীরে ধীরে ব্যয় কমে যায়, আয় বাড়ে। একবার ড্রাগন চাষ শুরু করলে ১৫ থেকে ১৬ বছর একাধারে ফল দিতে থাকে। ২৫-৩০ বছর পর্যন্ত একাধারে ফল উৎপাদন হতে থাকে। এটি একটি ভাল দিক। বাজারে এই ফলের ব্যাপক চাহিদা, তাই ফল বিক্রি উপযোগী হলে ব্যাপারী েেত চলে আসেন। ১২০ টাকা হতে ৩০০ টাকা কেজি দরে ড্রাগন বিক্রি করা যায় বলে কৃষকরা জানান।
ঐ মাঠে তরিকুল ইসলাম সাড়ে ৪ বিঘা, শাহাবুদ্দিন সাড়ে ৩ বিঘা, লিটন হোসেন দেড় বিঘা, নাসির উদ্দিন দেড় বিঘা, রবিন ঘোষ সাড়ে ৩ বিঘা, বিষ্ণু ঘোষ দেড় বিঘা, শফিয়ার রহমান দেড় বিঘা জমিতে ড্রাগনের চাষ করেছেন। কৃষকরা জানান, ড্রাগনে পোকার আক্রমণ কম তবে গাছের গোড়া পচার রোগ দেখা দেয়। এ সময়ে ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করলে গাছকে রা করা যায়। গাছে ফল ধরার পর দেড় মাস পরেই বিক্রি করার উপযোগী হয়। অন্য যে কোন ফসলের চেয়ে ড্রাগন একটি লাভজন চাষ বলে মনে করছেন চাষিরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রাগন এক ধরনের ফণিমনসা বা ক্যাকটাস প্রজাতির ফল। এই ফলের উৎস মেক্সিকো হলেও বাংলাদেশে চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। ড্রাগন ফলের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবেনা। ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ। ড্রাগন ফল খেলে হজমে সহায়তা করে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চীনে চাষ হয়। ভিয়েতনাম থাইল্যান্ডেও তা চাষ হতে দেখা যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সমরেন বিশ্বাস জানান, ড্রাগন চাষ লাভজনক হওয়ার কারণে প্রতি বছরই চাষ বাড়ছে। কৃষকরা যাতে এ ধরনের ফসলের চাষ আরও আগ্রহী হয়ে উঠেন সে লে কৃষি অফিস নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here