প্রচন্ড তাপদাহে তৃষ্ণা মেটাতে মানুষের পথম পছন্দ পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ তালের শাঁস।

0
336

রাসেল মাহমুদ ॥ যশোরের রূপদিয়া অঞ্চলে প্রচন্ড গরমে বিক্রি বেড়েছে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ তালের শাঁস। শহর বা গ্রামে সব শ্রেনির মানুষের কাছে ফলটি খুবই প্রিয়। বৈশাখ থেকে জৈষ্ঠ্য মাসের অর্ধেক পর্যন্ত এই দেড় মাস চলে তালের শাঁস বেঁচা-বিক্রি। বিক্রেতারা স্থায়ীভাবে এগুলো গাছ থেকে সংগ্রহ করে। এই ফলটি খেতে শুধু সুস্বাধু নয়, এতে রয়েছে অবিশ্বাস্য পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যের উপকারিতা। তাল শাঁস সম্পর্কে পুষ্টিবিদ’দের মতে, ১শ গ্রামের একটি তালের শাঁসের রয়েছে ৯২.৩ শতাংশই জলিয় অংশ, ২৯ ক্যালরি, শর্করা ৬.৫ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৪৩ মিলিগ্রাম, খনিজ ০.৫ মিলিগ্রাম ও ৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি। মৌসুমি ফল হিসেবে তাল শাঁস মানবদেহে বিভিন্ন রোগ থেকে দূরে রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বৃহস্প্রতিবার রূপদিয়া বাজার সহ বিভিন্ন স্থানে ভ্যান গাড়িতে করে ঘুরে তালের শাঁস বিক্রি করছে হাটবিলা গ্রামের রমজান আলী। ধারলো দা দিয়ে তাল কেটে শাঁস বের করছে আর ক্রেতারাও অনেক আগ্রহ নিয়ে সে গুলো কিনছে। রসে ভরা মিষ্টিস্বাদের তালের কোয়ার বেশ কদর রয়েছে ছোট-বড় সবার কাছে। নির্দিষ্ট একটা সময়ের মধ্য তালের শাঁস খাওয়ার উপযোগী থাকে। মৌসুমি নানা ফলের মধ্যেও তাল শাঁসেরও বেশ কদর রয়েছে। তালের শাঁস বিক্রেতা রমজান আলী বলেন- যখন তাল গুলো কাঁচা থাকে, তখন বাজারে এটা পানি তাল হিসেবেই বিক্রি হয়। কেউ বলে তালশাঁস আবার কেউ বলে তালের চোখ, কেউ বলে তালকুরা। প্রতিটি তালের ভেতরে দুই থেকে তিনটি শাঁস থাকে। প্রতি পিচ তালের চোখ ৫’টাকা করে বিক্রি করছে। যত বেশি গরম পড়ে তত বেশি তালের শাঁসের চাহিদা বাড়ে। বিক্রেতা বলেন প্রত্যেক বছর আমি এ মৌসুমে তালের শাঁস বিক্রি করে থাকি। তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন প্রায় ২/৪’শ পিচ তাল কেটে বিক্রি করেন তিনি। এ বছর প্রচন্ড তাপদাহে মানুষ শরীরের ক্লান্তি দূর করতে তালের শাঁস খেতে বেশ পছন্দ করেন। তালশাঁস কিনতে আসা রাব্বি, জাহাঙ্গীর হোসেন সহ কয়েকজন বলেন- বাজারে যত প্রকারের ফল আছে সবকিছুতে ফরমালি প্রয়োগ হয়। কিন্তু তাল বা তালের শাঁসে এসব দেয়া সম্ভবই না। এজন্য প্রতি বছর আমি সহ পরিবারের সকলে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই তালশাঁস বেশ গুরুত্ব দিয়েই খায়। এগুলো খেতে নরম ও সুস্বাদু এবং শরীরের জন্য খুবই উপকারী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here