সৈয়দ দিদার বখত বালিকা বিদ্যালয়ের নিয়োগ বানিজ্যকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে 

0
238
পার্থ মন্ডল:+ তালা সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : তালায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি,প্রধান শিক্ষক, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও ডিজি প্রতিনিধি নিয়োগ বানিজ্যের মাধ্যমে মেধাবি দের মেধা হত্যা করা হচ্ছে।তার কারনেই সার্টিফিকেট পুড়িয়ে ফেলা ও পানিতে ও দুধে ভিজিয়ে গোসল করার মতো ঘটনা জাতি দেখেছে।
তথ্য সুত্রে দেখায় গেছে চলতি মাসে ১ সেপ্টেম্বর উপজেলা তেঁতুলিয়া ইউনিয়নে সুভাষিনী সৈয়দ দিদার বখত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে রাতের আঁধারে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে আর এখানে ভুক্তভোগীদের মতে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এই নিয়োগের ৪০ লক্ষ টাকা গ্রহন করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস এম মিজানুর রহমান ও বিদ্যালয়ের সভাপতি উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুরশিদা পারভীন পাপড়ি, আর এই কালো টাকা বৈধ করতে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন উপজেলা তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ।
সাম্প্রতিক তালার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের সুভাষিনী সৈয়দ দিদার বখত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে তিন টি পদে নিয়োগের নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই টাকার বিনিময়ে রাতের আঁধারে নিয়োগ শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে । এই বিদ্যালয়টি এলাকার প্রভাবশালী সরকার দলীয় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের আবুল কালাম আজাদ এর নিয়ন্ত্রণে থাকায় এবং তালার প্রভাবশালী আওয়ামী নেত্রী মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুরশিদা পারভীন পাপড়ি, সহ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার থাকায় কেউ ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে পারছে না।
সৈয়দ দিদার বখত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় তিনটি পদে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে তালা উপজেলার লাউতাড়া গ্রামের নওয়াব আলী এর ছেলে মোঃ নয়ন হোসেন কে মনোনীত করে নিয়োগ বোর্ড বসানোর পূর্বে তার নিকট থেকে ১৬ লক্ষ টাকা প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান ও অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুরশিদা পারভীন পাপড়ি ১৬ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন। একই উপজেলার সুভাষিণী গ্রামের রফিক মোড়লের ছেলে মোঃ রায়হান হোসেন কে পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে মনোনীত করে তার নিকট থেকে ১২ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি। এছাড়া উপজেলার সুভাষিণী গ্রামের রুস্তম সরদার এর ছেলে মোঃ মনিরুজ্জামান কে অফিস সহায়ক পদে মনোনীত করে নিয়োগ বোর্ড বসার পূর্বে তার নিকট থেকে ১২ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, তালা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুরশিদা পারভীন পাপড়ি, আর এই বিষয় নিয়ে নিয়োগের পূর্বেই বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলেও তা আমলে নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখিত ৩ জন প্রার্থীর নিকট থেকে ঘুষ বানিজ্যের কালো টাকা সাদা করার জন্য সাতক্ষীরা তালা উপজেলার তালা সরকারি বিদে উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, ডিজি প্রতিনিধি অজয় কুমার হালদার ও তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শেখ ফিরোজ আহমেদ কে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে গত ০১-০৯-২৩ ইং তারিখ শুক্রবার রাতের আধাঁরে অদৃশ্য একটি পাতানো নিয়োগ বোর্ডে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি কর্তৃক মনোনীত ৩ প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করা হয়েছে বলে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা দাবী করেন।
পোষ্টল অর্ডার সরকারী রেভিনিউ দিয়ে দরখাস্ত করা এক চাকুরী প্রত্যাশী মোঃ মিজানুর রহমান পরিক্ষার কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে পারেনি পরিক্ষা। নিয়োগ বাতিলের দাবীতে বিভিন্ন মহলের দ্বারস্থ হয়েছে তিনি , করেছেন সংবাদ সম্মেলন বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল সহ প্রিন্ট পত্রিকায় দূর্নীতি অনিয়ম নিয়োগ বানিজ্য কৃত নিয়োগ বাতিলের প্রতিবাদে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যাথা নেই।
পড়াশোনা শিখে যে যুবক দেশের ও জাতীয় সেবা করবে সেই যুবককে যদি মেধার বিকাশের সুযোগ না দিয়ে অযোগ্য অ- দক্ষ লোক দের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয় তাহলে কি লাভ লেখাপড়া নামক সার্টিফিকেট দিয়ে ? কারা করবে দেশের সেবা কে গড়বে আগামী প্রজন্ম। যদি হতে থাকে অবৈধ নিয়োগ বানিজ্য।শুধু এখানে নয় তালা উপজেলা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক সভাপতি,প্রধান শিক্ষক,ডিজির প্রতিনিধি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের যোগসাজশে সংগঠিত হচ্ছে এই অবৈধ নিয়োগ বানিজ্যে। আর এই ধরনের জঘন্য কাজ করে হত্যা করা হচ্ছে মেধাবীদের।
তালার সৈয়দ দিদার বখত মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় নিয়োগ বানিজ্যে প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষকের প্রতি চাপা ক্ষোভ প্রকাশ করে অনাস্থা এনেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। নিয়োগের টাকা প্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন খাতে নেই কোথায় গেল টাকা এই রকম হাজারো প্রশ্নের ঘুরপাক খাচ্ছে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। এই অবৈধ নিয়োগ ঘিরে ক্লাস বর্জনের খবর শোনা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, প্রতিষ্ঠান গড়তে খুব কষ্ট করতে হয়েছে।কি ভাবে কবে কখন তিনটি পদে নিয়োগ দেওয়া হলো তা কোন শিক্ষক জানেন না। এই নিয়োগ সংক্রান্ত ব্যাপার টা এখনো স্কুলের বাউন্ডারির ভিতরে আছে। নিজেরা সমাধানের চেষ্টা করছি তবে যদি সমাধান না হয় তাহলে আগামীতে কঠোর কর্মসূচি দিতে পারেন শিক্ষকরা বলে তিনি জানান।
 কিছু সংখ্যক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং ডিজি প্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শুন্য পদে নিয়োগ পরীক্ষার আগে ভাগেই মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি কর্তৃক মনোনীত প্রার্থীদের কাছে প্রশ্ন পত্র ফাঁস করা হয়। এসব প্রশ্ন পত্র ফাঁসের কারণে সাতক্ষীরায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে নিয়োগ বানিজ্য বন্ধ হচ্ছে না। জানা গেছে, নিয়োগ পরীক্ষার সময় শিক্ষা অফিসার এবং ডিজি প্রতিনিধি নিয়োগ বোর্ডে ফাঁস করা একই টাইপের প্রশ্ন পত্র তৈরি করেন। পরিপত্রের নিয়ম অনুযায়ী সম্পুর্ন ভাবে অবৈধ প্রক্রিয়া ও শাস্তি যোগ্য অপরাধ। সুশীল সমাজের মতে অচিরেই অবৈধ পন্থায় পাতানো নিয়োগ বোর্ড কার্যক্রম বন্ধ না হলে যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে এবং টাকার বিনিময়ে অযোগ্য প্রার্থীরাই চাকরি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here