চৌগাছায় মাত্র দেড় কিলোমিটার সড়কের বেহালদশা কয়েক গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

0
428

এম হাসান মাহমুদ চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছায় মাত্র দেড় কিলোমিটার কাঁচা সড়কের কারনে কয়েক গ্রামের মানুষের কষ্ট চরমে উঠেছে। সড়কটির বেহালদশায় কর্মজীবি মানুষ যেমন সময় মত কাজে অংশ নিতে পারছেন না, তেমনি কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত ফসল নিরাপদে বাড়িতে নিতে পারছেন না। জনদুর্ভোগ লাঘবে সড়কটি দ্রুত পাকা করনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ঠ এলাকাবাসি।
চৌগাছা-যশোর সড়কের আহমদনগর বাজারের (কড়াইতলা) উত্তর পাশ দিয়ে একটি সড়ক যেয়ে রুস্তমপুর বাজারে চৌগাছা-আড়পাড়া সড়কে মিলিত হয়েছে। প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের মধ্যে এক কিলোমিটারের কিছু বেশি সড়ক বেশ আগেই পাকাকরণ করা হয়েছে। রুস্তমপুর গ্রামের জামে মসজিদের সামনে হতে আহমদনগর বাজার পর্যন্ত সড়কটি আজও সেই আগের মতই কাঁচা পড়ে আছে। বর্ষা মৌসুমে সড়কটিতে সৃষ্টি হয় কাঁদা আর খরা মৌসুমে ধুলাবালিতে একাকার। অনেক কষ্টে স্থানীয় অন্তত দশ গ্রামের সব শ্রেনী পেশার মানুষ সড়কটি পাড়ি দিয়ে তাদের গন্তব্যে পৌঁছায়। প্রতি দিনই তারা নানা সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছেন বলে জানা গেছে। আর সড়কের পাশের গ্রামের কৃষকদের ফসল নিয়ে বাড়িতে যাওয়া আরও কষ্টসাধ্য বলে জানান চাষিরা।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা সদরের সন্নিকটে সড়কটির অবস্থান হওয়ায় অনেকে বাজারের যানজটের কথা বিবেচনা করে এই সড়কটি ব্যবহার করেন। কিন্তু প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক কাঁচা থাকায় প্রত্যেক পথচারীকে অসহনীয় কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। আহমদনগর বাজারের পাশেই গড়ে উঠেছে দুইটি গামেন্টর্স শিল্প, কাঁচা সড়কের পশ্চিমে অবস্থিত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। এ ছাড়া পাশেই আছে একটি ইটভাটা, দুইটি মসজিদ, এর কিছু দুরে অবস্থিত চৌগাছা সরকারী কলেজ, চৌগাছা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস ও কোল্ড ষ্টোরেজ। এ সব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যাক্তি ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী যারা কাঁচা সড়কটি ব্যবহার করেন তাদের কষ্টের যেন শেষ নেই।
কয়ারপাড়া গ্রামের কৃষক স্বপন কুমার, রবিউল ইসলাম, মসজিদের মুয়াজ্জিন রফিকুল ইসলাম বলেন, কাঁচা সড়কের পাশে সবই কৃষি জমি। সড়কটি কাঁচা থাকার কারনে চাষিদের সব ধরনের ফসল, বিশেষ করে উৎপাদিত ধান কেটে বাড়ি নিতে অনেক কষ্ট করতে হয়। রুস্তমপুর গ্রামের ট্রাক্টর চালক লিটন হোসেন বলেন, দিন যত যাচ্ছে সড়কটিতে পথচারীসহ সব ধরনের যানবাহনের চাপ বাড়ছে। বর্ষায় আমাদের কষ্ট কয়েক গুন বেড়ে যায়। তাই সড়কটি দ্রুত পাকা হওয়া দরকার। গামেন্টর্সকর্মী পলি খাতুন, শফিকুল ইসলাম বলেন, বাড়ি থেকে বের হয়ে বেশ ভালো ভাবেই আসতে পারি, যখনই কাঁচা সড়কে আসি তখন কষ্টের যেন শেষ থাকে না। ভ্যান বা ইজিবাইক স্বাভাবিক ভাবে চলতে পারেনা। বর্ষার সময় তো চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়। সড়কটি যত দ্রুত পাকা হবে ততই মানুষের কষ্ট দুর হবে।
স্থানীয়রা জানান, এই সড়ক দিয়ে পুড়াহুদা, সাদিপুর, রুস্তমপুর, মাড়ুয়া, আড়পাড়া, দক্ষিনসাগর, ইছাপুর, তেঘরীসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতি নিয়ত চলাচল করেন। এছাড়া গামেন্টর্সকর্মী ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতও কম নই। সড়কটি পাকা হলে সকলেই উপকৃত হবেন।
উপজেলা প্রকৌশলী রিয়াসাত ইমতিয়াজ বলেন, ইতোমধ্যে সড়কটি পাকাকরনের জন্য সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে আশা করছি দ্রুতই কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here