শাহাদতআলী ,হরিণাকুণ্ডু (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধিঃঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে এক স্কুল শিক্ষিকার লাঞ্চিত করার গুনজন উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের চাঁদপুর জোয়ার্দ্দার পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। লাঞ্চিত শিক্ষিকা শাহানাজ পারভীন ঐ স্কুলের একজন সিনিয়র সহকারী শিক্ষক। যে সমস্থ ছাত্র ছাত্রী উপবৃত্তির টাকা পায় না তারা ম্যাডাম শাহানাজ পারভীনকে জানান। পরবর্তীতে তিনি বিষয়টা নিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে অবগত করেন। এরপর উপবৃত্তির টাকা পাওয়া; না পাওয়া নিয়ে একপর্যায়ে ঐ দুই শিক্ষিকার মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়ে বাকবিতণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। সহকারী শিক্ষিকা শাহানাজ পারভীন এর সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সাবরিনা আক্তার মিম ক্ষিপ্ত হয়ে টেবিলের উপরে থাকা ফল কাটা চাকু ছুড়ে তাকে মারতে গেলে চাকু ছিটকে পাশে পড়ে যায়। আমাকে কেন তিনি এভাবে লাঞ্চনা ও মারধর করার ঘটনা ঘটালেন তা আমি জানি না এমনটাই জানালেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা শাহানাজ পারভীন। তাছাড়াও তিনি এর সুষ্ঠ্যু বিচার দাবী করেছেন।
সরজমিনে গিয়ে যানাযায়, ঐ স্কুলে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষকরা নানা বিষয়ে মাঝে মধ্যেই ঝগড়া ঝাটি করেই থাকে। সম্প্রতি ঐ বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী উপবৃত্তির টাকা পায় নাই। এ নিয়ে ছাত্র শিক্ষকদের মধ্যে বিতর্কিত কথার সৃষ্টি হয়ে এহেন উদ্ভট পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী বলছে এমন পরিস্থিতি হলে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আসংখ্যা রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা যদি এমন কাণ্ড করেন তাহলে শিক্ষার্থীরা কি শিখবে। আমরা এমন ঝগড়াঝাঁটি খুব শুনি, এখন আর শুনতে ভালো লাগে না বলেও জানান,প্রতিবেশী সোনা জোয়ার্দ্দার।
স্কুলে ঝগড়াঝাঁটি ও সিনিয়র শিক্ষককে (ফল কাটা) ছুরি নিয়ে কেন মারামারি করার উপক্রম করলেন এমন ঘটনা জানতে অভিযুক্ত সাবরিনা আক্তার মিম এর সাথে কথা বললে তিনি জানান আমি এব্যাপারে কিছুই এখন বলতে পারছি না। পরে আপনাদের জানানো হবে। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি যথাযথ বক্তব্য না দিয়েই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মুস্তাফিজুর রহমান জানান,গোলোযোগের সময়ে আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। বিষয়টা শুনার পর আমি ঘটনাটি নিভৃত করার চেষ্টা করেছি।
এব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলিলে তিনি জানান, বিষয়টি আমি মৌখিকভাবে শুনেছি। ভুক্তভোগীর একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি।তবে শিক্ষার পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয় সে ব্যাপারে আমি যথাযথ নির্দেশনা দিয়েছি।
এদিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান,ঐ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক শাহানাজ পারভীন। তবে আমার মনে হয় এটা তাদের ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেই এ ধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে। এখনও পর্যন্ত আমরা কোনও লিখিত অভিযোগ পাই নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এই প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।















