কালীগঞ্জে ঘর নির্মাণের সরকারি অর্থ প্রকল্প কর্মকর্তার ব্যাগে

0
175

স্টাফরিপোর্টার কালীগঞ্জ,(ঝিনাইদহ) : প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতাধীন “প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প” (এলডিডিপি) কর্তৃক পরিচালিত কালিগঞ্জ উপজেলায় দুইটি ছাগলের পিজি সদস্যদের জন্য ঘর নির্মাণের সরকারি বরাদ্দের জন প্রতি ২৫ হাজার টাকা নিয়ে নিলেন ঐ প্রকল্পের এক কর্মকর্তা। কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের অধীনে পৌর এলাকার পাইকপাড়া গ্রামে এবং জামাল ইউনিয়নে মোট দুইটি ছাগলের পিজি রয়েছে। এই দুই পিজিতে ৩০ জন করে মোট ৬০ জন সদস্য রয়েছেন। প্রতিজন সদস্যের জন্য প্রকল্প থেকে ঘর নির্মাণ বাবদ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। প্রত্যেক সদস্য বরাদ্দের এই অর্থ দিয়ে প্রকল্পের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজ নিজ ছাগলের ঘর নির্মাণ করার কথা থাকলেও তারা তা করতে পারছেন না। কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার রেজাউল করিমের যোগসাজসে সম্পূর্ণরূপে ছাগলের ঘর নির্মাণের পূর্বেই সদস্যদের বরাদ্দের ২৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করে ঐ টাকা কৃষি ব্যাংক কালিগঞ্জ শাখা থেকে প্রত্যেক সদস্যের দিয়ে উত্তলন করিয়ে ব্যাংকে বসে প্রকল্পের এক কর্মকর্তাকে দিয়ে পুরো টাকা নিয়ে নেন। সরজমিনে কৃষি ব্যাংক অফিসে যেয়ে দেখা যায়, পিজির অন্তর্ভুক্ত মহিলা সদস্যগণ কৃষি ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে টাকা উত্তোলন করে ঘর নির্মাণের ২৫ হাজার টাকা গুনে প্রাণিসম্পদ অফিসের এই প্রকল্পের এক কর্মকর্তার নিকট জমা দিয়ে বের হয়ে আসছেন।সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বসে উপকারভোগীর নিকট থেকে এভাবে অর্থ নিয়ে নেওয়ার কোন নিয়ম না থাকলেও তা প্রকাশ্যে করা হয়েছে। এসময় পাইকপাড়া পিজির ৩০ জন সদস্যের নিকট থেকে ওই প্রকল্প কর্মকর্তা সর্বমোট ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নেন।টাকা দিয়ে বের হয়ে আসা পৌর এলাকার পাইক পাড়া গ্রামের দুই পিজি সদস্য আমেনা খাতুন ও হীরা বেগমের সাথে কথা বলে জানা যায়, অফিস থেকে আমাদের যেভাবে বলেছে আমরা সেভাবে করছি। টাকা তুলে অফিসের লোকের কাছে দিয়ে দিলাম। এখনো কারর বাড়িতেই ছাগলের ঘর পুরোপুরি করা হয়নি। টাকা তো সব নিয়েই নিল। আর ঘর করতি কি ২৫ হাজার টাকায় লাগবে? সব টাকা নিয়ে আমাদের কোনো রকমে ছাগলের ঘর বানিয়ে দিয়ে তারা লাভ করবে,এটাই বোঝা যাচ্ছে। এ আবার কিরাম নিয়ম তা বলতি পারলাম না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, প্রাণিসম্পদ অফিসের এলডিডিপি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হয়ে থাকে। এরমধ্যে নিয়মিত মিটিং না করা, অনেক সময় মিটিং না করেই স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া, মিটিংয়ের নিম্নমানের নাস্তা এবং লাঞ্চ দেওয়া, স্বল্পমূল্যের কাগজ-কলম প্রদান করাসহ নানা অনিয়ম করে মুরগি, ছাগল ও গরুর পিজির প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন ডাক্তার রেজাউল করিম ও তার সহযোগীরা। রীতিমত এই উপজেলায় এলডিডিপি প্রকল্পের টাকা লুটেপুটে খাওয়া হলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এর কোন খোঁজ খবর রাখেন না। ইতিপূর্বে মুরগির পিজির ঘর নির্মাণেও ব্যাপক অনিয়ম করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।তিনি মৌখিকভাবে তার এক বন্ধুকে ঠিকাদার নিয়োগ করে সেখান থেকেও টাকা লোপাট করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কালিগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক পল্লব কুমার রায় জানান,অফিসিয়াল কাজে আমি বাইরে আছি। সরকারি প্রণোদনার অর্থ উপকারভোগীর নিকট থেকে ব্যাংকের মধ্যেই নিয়ে নেওয়ার কোন ঘটনা ঘটেছে কিনা আমি জানিনা। ব্যাংকে বসে এমন কাজ করার কোন নিয়ম নেই, যদি তেমন কিছু ঘটে থাকে খোঁজ-খবর নিয়ে এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার রেজাউল করিম জানান, নিয়ম মেনেই ঘর তৈরির কাজ করা হচ্ছে। সদস্যদের দিয়ে টাকা তুলে সেই টাকা আবার নিয়ে নেওয়া সরকারি কোন বিধান আছে কিনা এমন প্রশ্ন তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, অন্যান্য উপজেলা থেকে আমাদের ঘরই ভালোভাবে তৈরি হচ্ছে। খামারিরা নিজেরা করতে গেলে অনেক বেশি খরচ হবে। এজন্য একজন মিস্ত্রি ধরে তার মাধ্যমে সব ঘর করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাদের বরাদ্দের টাকা তুলে হয়তো তাকেই দিচ্ছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here