স্টাফ রিপোর্টার ঃ সাভার থেকে যশোরে এসে প্রতারণার সময় হাতে নাতে ধরা পড়ে গণধোলাইয়ের শিকার হলো মোজাম্মেল হোসেন রাতুল নামের এক প্রতারক ভূয়া সাংবাদিক। সে সাভারের গেন্ডা এলাকার মৃত শেখ সাইফুর রহমানের ছেলে। প্রতারক রাতুল নিজেকে একটি অখ্যাত অন লাইনের এডিটর ও ক্রিমিনাল বিটের সাংবাদিক বলে পরিচয় দিয়ে যশোরের কোকো মোবাইল সপের স্বত্তাধিকারী শেখ মহব্বত আলী টুটুলের কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে টুটুল রাতুলকে চ্যালেঞ্জ করলে সে ভুল ভাল বকতে থাকে। তার এলোমেলো কথা বার্তায় টুটুলের সন্দেহ হলে সে পাশর্^বর্তী যশোর কোতয়ালী থানায় ও যশোর প্রেস ক্লাবে খবর দিলে সাংবাদিক ও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রতারক রাতুলকে ভূয়া সাংবাদিক হিসেবে চিহ্নিত করে। এ ব্যাপারে টুটুল থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ তাকে আটক করে থানা হাজতে আটকে রাখে।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে মোফাজ্জল হোসেন রাতুল নামের একজন ব্যক্তি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে গত ১৫ দিন আগে কোতয়ালী থানার পাশেই এমকে রোডের সন্ধানী সুপার মার্কেটে অবস্থিত কোকো মোবাইল শপের প্রোপাইটর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মহব্বত হোসেন টুটুলের কাছে ফোন করে। সে টুটুলের কাছে তার ব্যবসা এবং ব্যক্তিগত সহায় সম্পত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান। টুটুল রাতুল কে যশোরে এসে এসব বিষয়ে তার সাথে কথা বলতে বলেন। এক পর্যায়ে গত ১৩ই ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে টুটুলকে মোবাইলে ফোন দিয়ে তার যশোর পৌছানোর খবর দেয় এবং বর্তমানে তিনি হোটেল ওরিয়নে অবস্থান করছেন বলে জানান। শেখ মহব্বত আলী টুটুল তাকে তার অফিসে আসতে বলেন। রাত ৮টার দিকে রাতুল কোকো মোবাইল সপে গিয়ে টুটুলের ব্যবসা ও পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে কথা বলে পত্র পত্রিকায় রিপোর্ট করার ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করে। এক পর্যায়ে রাতুল টুটুলের কাছে তিন লক্ষ টাকা দাবি করে । অন্যথায় এসব বিষয়াদি নিয়ে সে পত্র পত্রিকায় খবর লিখবে বলে হুমকি দিতে থাকে। টুটুল রাতুলকে চ্যালেঞ্জ করলে সে নিজের সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র বা ভিজিটিং কার্ড দেখাতে ব্যর্থ হলে টুটুলের সন্দেহ হয় যে সে আদৌ সাংবাদিক কিনা। পরে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে টুটুল যশোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজনকে ফোন করে নিজের অফিসে ডেকে নেন।
উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে রাতুল নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিলেও সাংবাদিকতার কোন প্রোপার ডকুমেন্ট দেখাতে পারেনি এবং সে স্বীকার করে স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী লাভলুর প্ররোচনায় সে টুটুলকে ব্লাকমেইল করতে সাভার থেকে যশোরে যান। এ সময় প্রেস ক্লাব যশোর এর সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান, সহ-সভাপতি নুর ইসলাম, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ হোসেনসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তি কোকো মোবাইল সপে উপস্থিত ছিলেন । এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ক্ষুব্ধ জনতা রাতুলকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। রাতে টুটুল বাদী হয়ে প্রতারক রাতুলের বিরুদ্ধে যশোর কোতয়ালী থানায় একটি প্রতারনা ও চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় আজ বৃহস্পতিবার পুলিশ রাতুলকে কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে।















