এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মধুসূদন পদক পেলেন কবি
সুহিতা সুলতানা। সৃজনশীল সাহিত্য (কবিতা) ক্যাটাগরিতে তাঁকে এ পদক প্রদান
করা হয়। মধুমেলার ৭ম দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ হেলাল
মাহমুদ শরীফ সাগদাঁড়ির মধুমঞ্চে কবি সুহিতা সুলতানার হাতে ‘মহাকবি মাইকেল
মধুসূদন পদক-২০২৪’ তুলে দেন।
মননশীল সাহিত্য প্রতিভার অধিকারী সুহিতা সুলতানা সাহিত্য চর্চা করে সৃজনশীল
সাহিত্যে অবদান রাখার পাশাপাশি তার ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ কাব্যগ্রন্থের জন্য এ পদক
প্রদান করা হয়। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলোঃ দাঁড়াও পথিকবর (যৌথ), দুঃসহ
শুদ্ধতা, অবিরাম শোকার্ত স্বপ্নেরা, অসংখ্য অভিশাপ নিদ্রার ভেতরে, হাওয়ায় হাওয়ায় ওড়ে
বিষঘুম, শূন্যতার এক আশ্চর্য মহিমা, নির্বাচিত কবিতা, ভাসে বহুবিধ খেলা, কবিতা
সমগ্র-১, প্রেম ও বিরহের কবিতা, ঘাস হয়ে জেগে থাকে প্রাণভূমি, স্বপ্নবৃত্তান্ত,
কোন এক হেমন্তের দিনে, হে জলের অবগুন্ঠন, নৈঃশব্দ্যের এক মধ্যদুপুর, মার্বেলঘুড়ি,
জলকপাট, অনন্ত স্বপ্নের ভেতরে, হারিকেনজাল, হাঁসকল, জলে ভরা মেঘের দিকে,
অগ্নিমোম, কোয়ারেন্টাইন ও অনিদ্রার খসড়া। সুহিতা সুলতানার সমৃদ্ধ
সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে চারটি উপন্যাসওঃ মুখোশের আড়ালে নরনারীগণ, মানবাঙ্ক,
মুক্তিযুদ্ধ ও একা একজীবন, এবং ধ্বংসবীজ। তার প্রবন্ধগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
সুহিতা সুলতানার গদ্য সংগ্রহ (প্রথম), গ্রন্থ প্রকৃতি বিজ্ঞান ও মন, এবং গদ্য ও
অন্যান্য প্রসঙ্গ। এছাড়া তিনি ১৯৪৫-১৯৯৫ ষাটজন কবির কাব্যচিন্তন নামে একটি
গ্রন্থ সম্পাদনা করেছেন।
বিশিষ্ট কবি সুহিতা সুলতানার জন্ম ১৯৬৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, যশোরের নলভাঙা
গ্রামে। বর্তমান যশোর উপশহরের স্থায়ী বাসিন্দা শেখ বোরহান উদ্দিন আহমেদ ও সৈয়দা
রেবেকা সুলতানা দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান তিনি। সুহিতা সুলতানা রাজশাহী
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বিএ (অনার্স), এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, ঢাকার উপপরিচালক হিসেবে
গ্রন্থোন্নয়ন সম্পর্কিত গবেষণাধর্মী বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত
আছেন। বাংলা ভাষার পাশাপাশি নরওয়োজিয়ান, রুশ ও হিন্দি ভাষায় চর্চা করেন তিনি।
মহাকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সাগরদাঁড়িতে অনুষ্ঠিত মধুমেলার ৭ম দিন বৃহস্পতিবার
সন্ধ্যায় মধুমঞ্চে আলোচনা সভা ও মহাকবি মধুসূদন পদক প্রদান অনুষ্ঠানে যশোর জেলা
প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে
উপস্থিত ছিলেন, যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির, কেশবপুর পৌরসভার মেয়র
রফিকুল ইসলাম মোড়ল, যশোরের সিভিল সার্জন ডাঃ বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস, যশোরের
রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ, যশোর সরকারি
মাইকেল মধুসূদন কলেজের বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।
আলোচক হিসেবে ছিলেন, মধুসূদন একাডেমির পরিচালক কবি খন্দকার খসরু পারভেজ,
যশোর ইন্সটিটিউটের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ লিটু, যশোর সম্মিলিত
সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি দীপংকর দাস রতন ও নওয়াপাড়া কলেজের অবসরপ্রাপ্ত
অধ্যাপক কাজী শওকত শাহী।
প্রধান অতিথি খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ হেলাল মাহমুদ শরীফ কবি সুহিতা
সুলতানার হাতে মহাকবি মধুসূদন পদক, সনদপত্র ও ১ লাখ টাকার চেক তুলে দেন। মধুসূদন
পদক পাওয়ার পর সুহিতা সুলতানা অনুভূতি প্রকাশ করেন।
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০০ তম জম্মবার্ষিকী উপলক্ষে যশোর জেলা প্রসাশন
মধুমেলার আয়োজন করেছেন। ১৯ জানুয়ারি থেকে কবির জন্মস্থান সাগরদাঁড়িতে ৯
দিন ব্যাপী ওই মেলা শুরু হয়েছে। আগামী ২৭ জানুয়ারি এ মেলা শেষ হবে।
Home
যশোর স্পেশাল মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মধুসূদন পদক পেলেন কবি সুহিতা...















