মাহমুদ হাসান রনি, দামুড়হুদা(চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধিঃ চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুষাঘাটা গ্রামের একটি কৃত্রিম মরুভূমিতে আয়োশি ও রেড মাসাই জাতের মরুর প্রাণী দুম্বার ছড়াছড়ি,দেখতে ভীড় করছে উৎসুক জনতা।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কোষাঘাটা গ্রামে স্থানীয় এনজিও সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশন ২০১৯ সাল হতে পরিচালিত খামারে একটি ছোট কৃত্রিম মরুভূমি তৈরি করে সেখানে দুম্বা লালন-পালন করা হচ্ছে। দুম্বা পালনে আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় খামারে পরিধি বেড়েছে।সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা মহাসড়কের দামুড়হুদা উপজেলার পশ্চিম পাশে কোষাঘাটা গ্রামে রয়েছে ওয়েভ ফাউন্ডেশন পরিচালিত ৪২বিঘা জমির ওপর একটি বিশাল খামার।এই খামারে ছাগল,মুরগি পালন ও হ্যাচারি রয়েছে।। এখানে তৈরি করা হয়েছে মরুভূমির আদলে কৃত্রিম মরুভূমি। পরে ওই বছরের নভেম্বর মাসে ঢাকার সাদেক অ্যাগ্রো থেকে আয়োশি ও রেড মাসাই জাতের ৬টি দুম্বা কিনে আনা হয়।এর মধ্যে একটি পুরুষ এবং ৫টি স্ত্রী। এই দুম্বা পালনে বছরে মোট খরচ পড়ে ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এরা বছরে দু’বার বাচ্চা দেয়।সাবক গুলো সবুজ ঘাস, খড়, গম,ছোলা খেয়ে বেড়ে উঠে।বর্তমানে এই খামারে রয়েছে ২৪টি দুম্বা এর মধ্যে ১৬টি বড় ও ৮টি সাবক। এছাড়াও ৪ বছরে ৮লক্ষ ৩৪হাজার টাকায় ১৯টি দুম্বা বিক্রি করা হয়েছে। খামারে দায়িত্বরত কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, ৪বছর হলো দুম্বার খামার করা হয়েছে।দুম্বা মরুভূমি পছন্দ করে সে কারনে এখানে ছোট্ট পরিসরে কৃত্রিম মরুভূমি তৈরি করা হয়েছে। এটি একটি লাভজনক চাষ স্ত্রী দুম্বা গুলো বছরে দুইবার বাচ্চা দেয়। প্রথমে ৬টি দুম্বা দিয়ে শুরু করা হয়।বর্তমানে খামারে ২৪টি দুম্বা রয়েছে এরমধ্যে ১৬টি বড় ও ৮টি শাবক। এছাড়াও চার বছরে ১৯টি দুম্বা ৮লক্ষ ৩৪ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। লাইভ ওয়েটে বিক্রি করা হয়। ১থেকে ৩০ কেজি ওজনের গুলো ২হাজার টাকা কেজি,৩০থেকে ৫০ কেজি ১হাজার৭শ৫০টাকাও ৫০ কেজির উপরে গেলে ১হাজার ৫শ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। এগুলো সাধারনত পোষার জন্য শখের বসে ক্রয় নিয়ে যায়। এদের খাওয়ার কোন ঝামেলা নেই। ছাগল-ভেড়ার মত গমের ভূষি, চালের কুড়া, ভুট্টা ভাঙা, সরিষার খৈল, চিটাগুড়, খড়, মাল্টিভিটামিনসহ বিভিন্ন খাদ্য একত্রে মিশিয়ে তাদের তিন বেলা খাবার দেওয়া হয়। এছাড়া সবুজ ঘাস, কাঁঠাল পাতা তাদের পছন্দ। প্রথম দিকে এদের খাবারের খরচ কম ছিল। দুম্বার সংখা বাড়ার সাথে খাবারের খরচ ও বাড়তে থাকে। বর্তমানে ২৪টি দুম্বার প্রতি মাসে খাবারের খরচ ৮হাজার টাকা। তিনি আরো জানান তবে দেশের অন্যান্য স্থানে কমবেশি যারাই দুম্বা পালন করছেন, কেউই লোকসানে নেই। কারণ ছাগল-ভেড়ার মতোই দুম্বা লালন-পালন করা যায়। বংশও বৃদ্ধি করে ছাগল-ভেড়ার মতোই। আবহাওয়া, খাবার, চিকিৎসাতেও নেই সমস্যা। একটু সতর্ক থাকলে তার ঠান্ডা লাগা রোগ এড়ানো সম্ভব। তিন থেকে চার বছরে পরিণত হয় একটি পূর্ণবয়স্ক দুম্বা। তখন ওজন হয় ১০০ থেকে ১২০ কেজি পর্যন্ত। দাম হতে পারে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। কোরবানির সময় সৃষ্টি হয় এর প্রচুর চাহিদা।দামুড়হুদা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.নীলিমা আক্তার হ্যাপি বলেন, ‘দুম্বা ও ভেড়া কাছাকাছি প্রাণী। দুম্বা মরুর প্রাণী হলেও এটি একটি সহনশীল প্রাণী। দেখতে ভেড়ার মতো তবে পেছনের অংশ ভারি। ভেড়ার মতোই দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করে। মাংস উৎপাদনে এগিয়ে ছাগল ভেড়ার চেয়ে।’ তিনি বলেন, ‘অর্থনীতিক দিক দিয়ে ছাগল ভেড়ার চেয়ে দুম্বা পালন লাভজনক। কোরবানির সময় থাকে প্রচুর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। আমাদের এই পরিবেশে দুম্বা পালনে তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না।















