জসিম উদ্দিন, শার্শা : বৈশাখ মাস প্রায় শেষ প্রান্তে। আর মাত্র কয়েক দিন পরেই প্রকৃতিতে আগমন ঘটবে মধুমাস জৈষ্ঠ্যের। ইতোমধ্যে বাজারে রসাল ফল লিচু সহ আম, জাম, কাঁঠালের সাথে কচি তালের শাঁসের সমাহার সৃষ্টি হয়েছে। চারিদিকে এখন মধুমাসের বিভিন্ন ফলের মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠেছে।
জৈষ্ঠ্যমাস শুরুর আগেই মিষ্টি মধুর রসাল ফল লিচুর সাথে কচি তালের শাঁস বিক্রির ধুম পড়ে যায়। উষ্ণ কিংবা তীব্র গরমে মানুষের শরীর ও মনকে প্রশান্তি দিতে কচি তালের শাঁসের জুড়ি নেই।
খেতে সুস্বাদু ও রসে ভরা তালের শাঁস মানব দেহের অনেক উপকার করায় মৌসুমে এই কচি তালের শাঁস যেন না খেলেই নয়। তাই তো বাজারে তাল আসতেই কচি তালের শাঁস কিনতে ভিড় জমান ছোট বড় সব বয়সী মানুষ। শুক্রবার সকালে শার্শার নাভারণ বাজারে তালের শাঁস বিক্রি করতে আসেন হাফিজুর রহমান। কচি তালের শাঁস কিনতে মুহূর্তের মধ্যে ভীড় করেন ক্রেতারা। প্রতিটি বড় সাইজের আস্তো তাল ২০-২৫ টাকা এবং ছোট তাল ১৫ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তাল বিক্রেতা হাফিজুর রহমান জানায়, তীব্র গরমে বাজারে কচি তালের চাহিদা অনেক বেশি। এই তালগুলো তিনি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কিনে আজই প্রথম বাজারে বিক্রি করছেন। তবে তালের শাঁসের দাম একটু বেশি হলেও কিছুদিন গেলে দাম কমতে শুরু করবে।
কচি তালের শাঁসে কি কি গুণাগুণ আছে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ লক্ষিনদর বলেন, একটি তালের শাঁসের ৯২ শতাংশই জলীয় অংশ, ক্যালরি থাকে ২৯, শর্করা ৬ দশমিক ৫ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৪৩ মিলিগ্রাম, খনিজ শূন্য দশমিক ৫ মিলিগ্রাম ও ৪ মিলি গ্রাম ভিটামিন সি রয়েছে।
কচি তালের শাঁসে বেশির ভাগ অংশ জলীয় হওয়ায় শরীরে পানির চাহিদা মেটাতে সক্ষম। যদি আবহাওয়ার কারণে দ্রুত শরীর থেকে পানি বের হয়ে যায় সেটিও পূরণ করতে পারে।
তাছাড়া তালের শাঁস শরীরকে দ্রুত শীতল করে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় শরীরের কোষের ক্ষয় প্রতিরোধ করে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থও বের হওয়ায় তালের শাঁস মানবদেহে অত্যান্ত প্রয়োজন।















