যশোরে কোটি টাকার পৈতৃক জমি দখল ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

0
112

যশোর প্রতিনিধি : যশোর শহরের আরবপুর এলাকায় কোটি টাকা মূল্যের পৈতৃক সম্পত্তি দখল চেষ্টা, মিথ্যা মামলা ও পুলিশি হয়রানির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী একটি পরিবার। আজ শনিবার প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সায়াদ হোসেন।
এর আগে গত ২ জুন একই সম্পত্তি নিয়ে ‘বাবলু ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মালিক বাবলু তালুকদার হামলার অভিযোগ এনে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে সায়াদ হোসেন জানান, তাঁর পিতা প্রয়াত আব্দুস সালাম সরদার (হবি সরদার) জীবদ্দশায় কোনো সম্পত্তি বিক্রি বা দলিল করে যাননি। পিতার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে তাঁরা যশোর কোতোয়ালী থানার ৯৩ নং পুরাতন কসবা মৌজার আরএস ৬০৫৮ দাগের ১৬৪.৫০ শতক জমির মালিক হন। এই মূল্যবান সম্পত্তিতে বহুতল ভবন,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মৎস্য ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন,অভিযুক্ত বাবলু তালুকদার আদতে তাঁদের জমির একজন ভাড়াটিয়া মাত্র। পিতার স্নেহধন্য হওয়ার সুবাদে বাবলু বিভিন্ন সময়ে তাঁর পিতার কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন,যা মৃত্যুর আগে তাঁর পিতা পরিবারের কাছে বলে গেছেন।
সায়াদ হোসেনের অভিযোগ,পিতার মৃত্যুর পর আসাদুজ্জামান,বাবলু তালুকদার,আনিসুর রহমান, ইয়াসিন এবং একেএম আতিকুজ্জামান ছানিসহ একটি প্রভাবশালী চক্র জমিটি দখলের পাঁয়তারা শুরু করে।
চক্রটির হাত থেকে পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষার্থে আমরা আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত সংশ্লিষ্ট জমির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পরবর্তীতে আপিল আদালতেও রায় আমাদের পক্ষেই আসে।
বর্তমানে তাদের দাবি করা একটি ‘সন্দেহজনক দলিল’ বাতিলের দাবিতে যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে পৃথক দুটি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাবলু তালুকদার দীর্ঘদিন ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকার পর একপর্যায়ে ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেন এবং ভুয়ো মালিকানা দাবি করেন। লিগ্যাল নোটিশ ও প্রশাসনিক উদ্যোগের পরেও তিনি জায়গা ছাড়েননি।
সর্বশেষ গত ২৪ ও ২৬ মে পৈতৃক জমিতে প্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে বাবলু ও তাঁর লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায় এবং নির্মাণকাজ ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সায়াদ হোসেন বলেন,থানার দারোগা সাইফুল ইসলামকে দিয়ে বাবলু তালুকদারকে দিয়ে উল্টো আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করান। শুধু তাই নয়, সায়াদ হোসেন, তাঁর ভাই ও শ্বশুরকে থানায় ডেকে নিয়ে ওই মামলায় আটক দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। পরবর্তীতে তাঁরা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।
একই সাথে পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা,পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং এই ভূমি বিরোধের সুষ্ঠু তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়াসিমা লাবিবা, সাহিদা সালাম, বিল্লাল হোসেন, জিয়াউল হক, জহুরা হক, শহিদুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, শামসুর রহমান ও আসাদুল ইসলাম প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here