প্রখর রোদেও থামে না কৃষকের লড়াই, ঘাম ঝরিয়ে ভবিষ্যতের অন্ন ফলাচ্ছেন মণিরামপুরের কৃষকরা

0
90

হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ : প্রখর রোদে যখন জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে, তখনও মাঠে থেমে থাকে না কৃষকের কর্মযজ্ঞ। মাথার ওপর ঝলসে দেওয়া সূর্য, পায়ের নিচে উত্তপ্ত মাটি-সব প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে তারা ব্যস্ত থাকেন জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ ও সবজির পরিচর্যায়। নিজেদের কষ্ট ভুলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই প্রতিদিন ঘাম ঝরিয়ে চলেছেন তারা।
সম্প্রতি যশোরের মণিরামপুর উপজেলার চাকলা গ্রামের কৃষিজমিতে গিয়ে দেখা যায়- তীব্র রোদের মধ্যেও কৃষকেরা কেউ সবজির ক্ষেতে আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ আবার পলিথিন টানেলে শীতকালীন সবজির চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। ঘামে ভিজে গেছে শরীর, তবুও থামার সুযোগ নেই। কারণ সময়মতো কাজ শেষ না হলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
স্থানীয় কৃষক মো. আব্দুল হালিম বলেন- রোদ, বৃষ্টি বা ঝড়—কোনো কিছুর জন্য কৃষকের কাজ থেমে থাকে না। সময়মতো জমির কাজ না করলে ফলন ভালো হবে না। সংসারের কথা ভেবেই কষ্ট সহ্য করে মাঠে নামতে হয়।
আরেক কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন- ভোর থেকেই মাঠে কাজ করি। দুপুরের প্রচণ্ড গরমেও অনেক সময় কাজ চালিয়ে যেতে হয়। কারণ জমি অপেক্ষা করে না। এই মাটির ওপরই আমাদের জীবন-জীবিকা নির্ভর করে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য- কৃষিকাজে উৎপাদন ব্যয় প্রতিনিয়ত বাড়লেও ফসলের ন্যায্যমূল্য সবসময় পাওয়া যায় না। তবুও তারা আশাবাদী, ভালো ফলন হলে সেই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে- দেশের খাদ্য উৎপাদনের মূল ভিত্তি কৃষক। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই মানুষের ঘরে পৌঁছায় অন্নের নিশ্চয়তা। তাই কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষি খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।
চাকলা গ্রামের মাঠে ধারণ করা এই দৃশ্য যেন বাংলাদেশের কৃষকের চিরচেনা সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। প্রখর রোদ, ক্লান্তি কিংবা প্রতিকূলতা-কোনো কিছুই তাদের স্বপ্নকে থামাতে পারে না। কারণ কৃষকের বুকজুড়ে থাকে একটাই বিশ্বাস-আজকের ঘামই আগামী দিনের সোনালি ফসলের হাসি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here