কেশবপুরে খাদ্য সংকটে হনুমান

0
79

এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি : যশোরের কেশবপুরে গণনা করে বিরলপ্রজাতি কালোমুখো হনুমানের খাদ্য সরবরাহের দাবি
উঠেছে। সম্প্রতি কেশবপুরে হনুমানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন দাবি এলাকাবাসীর।
খাদ্যের সন্ধানে হনুমান বাসাবাড়িসহ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানেও হানা দিচ্ছে। খাদ্যের
খোজে বেরিয়ে আহত হওয়া হনুমান চিকিৎসা নেওয়ার জন্য মানুষের স্মরণাপন্ন হচ্ছে।
এমন ঘটনার পর হনুমান গণনার জোরালো দাবি উঠেছে।
সম্প্রতি কেশবপুরে ৪ শতাধিকের মত হনুমান বিচরণ করছে। গত বছরও এখানে ২৫০ থেকে
৩০০ হনুমান ঘুরাঘুরি করত। তবে কখনও হনুমান গণনা না হওয়ায় সঠিক সংখ্যা কেউ
বলতে পারেনি। বর্তমান কেশবপুর ও মণিরামপুরে ১২টি স্থানে হনুমান ঘুরাঘুরির সংখ্যা
বেশি দেখা যাচ্ছে। বন বিভাগ থেকে যে খাদ্য সরবরাহ করা হয় তা অপ্রতুল বলে
এলাকাবাসীর দাবি।
বন বিভাগ থেকে প্রতিদিন কালোমুখো হনুমানের জন্য ৪৭ কেজি ২০০ গ্রাম কলা, ৬
কেজি ৭০০ গ্রাম পাউরুটি, ৭ কেজি ৩৫০ গ্রাম বাদাম ও ৭ কেজি সবজি দেওয়া হয়।
তবে ৫ থেকে ৬টি স্থানের বেশি জায়গায় দেওয়া সম্ভব হয় না বলে খাদ্য সরবরাহকারী ভ্যান
চালক আতিয়ার রহমান জানান। হনুমান আদি কাল থেকে কেশবপুরের ভোগতী,
বালিয়াডাঙ্গা, মধ্যকুল, খতিয়াখালি, সুজাপুর, ব্রহ্মকাটি, আলতাপোল, বায়সা,
রামচন্দ্রপুর, মাগুরাডাঙ্গা ও পার্শ্ববর্তী মণিরামপুরের মুজগুন্নী ও দূর্গাপুর এলাকায়
বিচরণ করে আসছে। এ সমস্ত এলাকা থেকে বনবাদাড় কম হয়ে যাওয়ায় হনুমান কেশবপুর
থেকে অন্যত্র বিচরণ শুরু করে। সম্প্রতি কেশবপুরের বিচরণকৃত স্থান গুলোতে পূর্বের
থেকে বেশি হনুমান ঘোরাঘুরি করছে বলে এলাকাবাসী ও বন বিভাগ সূত্রে জানা
গেছে। খাদ্য সন্ধানে বেরিয়ে হনুমান বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যাওয়াসহ বিভিন্ন ভাবে
আহতও হচ্ছে।
খাদ্য সরবরাহকারী ভ্যান চালক আতিয়ার রহমান বলেন, উপজেলাপাড়া, হাসপাতাল,
বালিয়াডাঙ্গা, খতিয়াখালি, মাগুরাডাঙ্গা, বাঁকাবর্শী-নতুন হাট এলাকা ছাড়া অন্য
কোথাও খাদ্য দেওয়া সম্ভব হয় না।
কেশবপুর শহরের সাহাপাড়ার খ্রীষ্টান মিশনের পাশে মুদি দোকানদার বিশ্বজিৎ বলেন,
সম্প্রতি তাদের এলাকায় হনুমান বিচরণের সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। প্রায়ই সময় তার
দোকান থেকে হনুমান বিস্কুট, পটেটো ও ভাজার প্যাকেট ছিড়ে নিয়ে যাচ্ছে। আগের
থেকে এলাকায় বেশি হনুমান এসেছে। হনুমান যথেষ্ট খাদ্য না পেয়ে বাসাবাড়িসহ
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হানা দিচ্ছ।
সম্প্রতি খাদ্য সন্ধানে বেরিয়ে আহত হওয়া একটি হনুমান শহরের ত্রিমোহিনী মোড়ে
এসে চিকিৎসার জন্য মানুষের সাহায্য নিতে আকুতি করতে থাকে। স্থানীয়
সংবাদকর্মী আব্দুর রহমান হনুমানটির কাছে যেতেই তার কাঁদে উঠে বসে। তিনি
দ্রুত হনুমানটিকে পাশের একটি ফার্মেসীতে নিয়ে চিকিৎসা করান। এমন দৃশ্য
দেখার পর উপস্থিত অনেকেই বলতে থাকেন গণনা পূর্বক হনুমানের সঠিক সংখ্যা
নিরূপন করে খাদ্য সরবরাহ করলে এমন দৃশ্যের অবতারণা হতো না। এ দাবি এখন হনুমান
বিচরণ এলাকার অধিকাংশ মানুষের।
কেশবপুর প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা অলোকেশ কুমার সরকার বলেন, তাদের নিকট
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২টি হনুমান মারা যাওয়ার তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি আহত হনুমানের
চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা বন বিভাগ কর্মকর্তা সমিরণ বিশ্বাস বলেন, সম্প্রতি কেশবপুরে
বেশি হনুমান ঘুরাঘুরি করছে বলে জানা গেছে। উপজেলা ও হাসপাতাল এলাকায় বিচরণ
করা অধিকাংশ মা হনুমানের কোলে শাবক দেখা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে ৪ শতাধিক
হনুমান কেশবপুরে রয়েছে। হনুমান গণনা হলে সঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব হতো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here