জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা

0
10

যশোর প্রতিবেদক : ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকালে যশোর সিটি কলেজের হল রুমে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। যশোর সরকারি সিটি কলেজের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আশাদুল কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোর সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আব্দুল সালাম আজাদ।
এসময় প্রধান অতিথি বক্তব্যে বলেন, ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র পেয়েছিলাম। এই স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিনির্মাণে একটি জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতেই আমরা এটি অর্জন করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা লক্ষ্য করি যে জাতির যে আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেটি তৎকালীন সরকারের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই ভুলণ্ঠিত হয়। বিশেষ করে আমরা দেখি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রথমেই বাংলার জনগণের বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়। মাত্র চারটি পত্রিকা বাদে সকল পত্রিকা ব্যান করে দেয়া হয়। এর প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সময় আমরা দেখেছি সামরিক বাহিনীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করে এবং বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর মধ্যে পাল্টা ক্যু হতে থাকে। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস, একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যে কৃষি বিপ্লব বা সবুজ বিপ্লব বলে আমরা যেটি জানি সেটিও কিন্তু জেনারেল জিয়াউর রহমানের হাত ধরে আরেকটি বিপ্লব বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছিল। যেটা আমি আগেই বললাম, যে বিপ্লব এবং সংহতির যে ক্ষুদ্র সংজ্ঞা, সেখান থেকে আমরা বুঝতে পারি যে তার মাধ্যমে বাংলাদেশে একটা সুদূরপ্রসারী ফলাফল আমরা পেয়েছি। পরবর্তীতে আবার বাংলাদেশে ঠিকই স্বৈরাচারী শাসনের অবতারণা হয়। এবং এর প্রেক্ষিতে আমাদের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৯৯০ সালের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবার গণতন্ত্রে ফিরে যেতে সক্ষম হয়। এবং ১৯৭৪ সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছিল, সেটি ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সেই গণতন্ত্রকে আবার পুনরুদ্ধার করা হয়।
আমরা বারবার দেখেছি বিএনপির নেতৃত্বে বা সরকারের জনবান্ধব রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্যে একটি সুন্দর পদক্ষেপ এই বিএনপির হাত দিয়ে বারবার এসেছে। পরবর্তীতে আমরা আবার দেখেছি রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সময় দেশের স্বৈরাচারের অভ্যুত্থান হয়েছে। এবং সর্বশেষ আমরা দেখলাম জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের আবার গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার হয়েছে এবং বর্তমান সরকার আমাদেরকে যে ধরনের নির্দেশনা দিবে, আদেশ দিবে, আমরা সরকারি কর্মচারী হিসেবে সেই নির্দেশনার মাধ্যমে এই রাষ্ট্র ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।
আজকের এই জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার—আমরা ছাত্র, শিক্ষক এবং আমাদের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সকলেই মিলে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আজকের এই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগিয়ে এই দেশকে একটি সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত করব। এটাই হোক আমাদের সকলের অঙ্গীকার।
অনুষ্ঠান আরো উপস্থিত ছিলেন, যশোর সরকারি সিটি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোছাঃ রেহেনা পারভীন, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জয়নাল আবেদীন, কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর আব্দুল হালিম,ব্যবস্থা বিভাগের প্রফেসর অসীম কুমার দাস, অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর লতিবা খাতুন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর দিলরুবা খানম, ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর মোঃ ইউনুস, যশোর সরকারি সিটি কলেজ শাখার সভাপতি সোহানুর রহমান সোহানসহ কলেজের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here