মণিরামপুরের কৃষক নজরুল হত্যাকান্ডের এক মাস অতিবাহিত গভীর রাতে নিহতের বাড়ি যেয়ে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি

0
305

আনিছুর রহমান,স্টাফ রিপোর্টার : মণিরামপুরের কৃষক নজরুল হত্যাকান্ডের এক মাস অতিবাহিত হলেও আসল কু উৎঘাটন না হওয়ায় জনমনে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এদিকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নিহত পরিবারের হুমকি দিয়েছে বলে নিহতের পরিবার সুত্রে জানা গেছে। নিহতের ছেলে জাহিদ হাছান জানায়, গত এক সপ্তাহ পূর্বে গামছা মুড়ি দিয়ে ৪/৫ জন লোক গভীর রাতে আমাদের বাড়িতে আসে। এবং মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়। চলে যাওয়ার সময় বলে মামলা না তুললে যে ভাবে নজরুলকে হত্যা করা হয়েছে সেই ভাবে তোদেরও হত্যা করা হবে। সে আরো জানাই ঘটনাটি থানায় জানানোর পর থানার ওসি আমাদের বাড়িতে এসে সকল বিষয় জেনে শুনে গেছেন। উল্লখ্য উপজেলার তাজপুর গ্রামের নিরীহ কৃষক নজরুল হত্যাকান্ডের এক মাস অতিবাহিত হলেও আসল রহস্য উৎঘাটন না হওয়ায় গ্রামবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এমনকি নিহতের পরিবারের রাত কাটছে নিরাপত্তাহীনতায়। এদিকে ঘটনার দিন সন্দেহ ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই গ্রামের আসাদুল, জব্বার ও মেহেদীকে নিয়ে যায় থানা পুলিশ। পরের দিন ১ জুন নিহতের স্ত্রী পারুল বাদী হয়ে ঐ ৩ জনের আসামী করে ও অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে আসামী করে মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরন করেন। আসামীদের ২দিন রিমান্ডে এনেও হত্যাকান্ডের আসল রহস্য উৎঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। যার কারনে নজরুল হত্যাকান্ড নিয়ে চলতে থাকে একে অপরের আলোচনা সমোলচনার ঝড়। এরই মাঝে প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে নানান তথ্য। যেমন গ্রামের দোকানে দোকানে আলোচনা হচ্ছে, ঘটনার ১৫ দিনের মধ্যে কোন পত্র পত্রিকায় কিংবা কোন মিডিয়ায় হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী কিংবা সন্দেহ ভাবে কারোর নাম উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ হয়নি। যার কারনে গ্রামের কেউ বাড়ি থেকে সরে দাড়াবে। তিন আসামীর মধ্যে জব্বার ও মেহেদী পরিবারের কেউ তো বাড়ি ছেড়ে পালাইনি। অথচ কোন কারনে আসামী আসাদুলের ভাই আশিকুর ঘটনার পর দিনই বাড়ি ছেড়ে পালালো। তবে একটি বিশ^স্থ সুত্রে জানা গেছে রিমান্ডে আসাদুল বয়ান দিয়েছে তার ভাই আশিকুর নাকি সন্ধার পর থেকে বাড়িতে ছিলোনা। রাত প্রায় নয়টার দিকে সে বাড়িতে এসেছে। এই কথা শোনার পর আশিকুর বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। রিমান্ডে আসাদুলের বয়ানের কথা জানতে পেরে ও সন্ধার পর আশিকুর ঐ মাঠে গেছে তথ্য পাওয়ার পর থেকে গ্রামের অনেকেই ধারনা করছে আশিকুরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই খুনের আসল রহস্য উৎঘাটন হতে পারে। নাম প্রকাশ অনেচ্ছুক গ্রামের অনেকেই বলেন, নজরুলের খুন যদি প্রকৃত পক্ষে পানি নিস্কাশনের কারনে হয়ে থাকে তাহলে সন্ধার পর ঘটনাস্থলে যে ব্যক্তিই তার জমি থেকে পানি নিস্কাশনের জন্য গিয়েছিল সেই ব্যক্তিই এই হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী। তারা আরো বলেন, ধৃত আসামী আসাদুলের ভাই আশিকুর সন্ধার পর ঘটনাস্থলে গিয়েছিল যা গ্রামের ফারুখ দেখেছে। এবং তার জমি থেকে পানি বের করার জন্য সে জমিতে কোদাল দিয়ে কাজ করেছে। যার কারনে খুনের মোটিভ আশিকুরের দিকে ছুড়ছে সবাই। এবিষয়ে দু:খ প্রকাশ করে অনেকেই প্রতিনিধিকে বলছে, আসামী ৩ জন হয়তো এই ঘটনার সাথে জড়িত নাও থাকতে পারে। পুলিশ ইচছ্া করলে আসল খুনিকে খুজে বের করতে পারে। আমরা আসা করি পুলিশ সেটাই করুক। আমরা চাই প্রকৃত খুনি যেই হোক সেই শাস্তি পাক। এদিকে গ্রামের অনেকেই বলছে গভীর রাতে নিহতের বাড়ি যেয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদীকে হুমকির ঘটনাটি সাজানো নাটক। মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য এক শ্রেনির লোক এই ঘটনাটি ঘটায়েছে। অপরদিকে গ্রামে গুঞ্জন চলছে আসাদুলের পরিবার দুই ভাইয়ের চাকুরী বাঁচাতে মোটা অংকের টাকার মিশন চালানোর কারনে হত্যাকান্ডটি ঝিমিয়ে পড়েছে। এদিকে নিহতের পরিবার জানাই, হত্যাকান্ডের সঠিক বিচার তো দুরের কথা আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here