সাতক্ষীরায় জেএমবি’র সিরিজ বোমা হামলার রায়ে ১৭ আসামির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড প্রদান, একজন খালাস, একজন মৃত

0
352

সাতীরা প্রতিনিধি ঃ ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী ৬৩ জেলার মধ্যে সাতীরার পাঁচটি স্থানে জেএমবি’র বোমা হামলার ঘটনায় ৫টি মামলায় ১৯ আসামির মধ্যে ৮ জনকে পৃথক মামলায় সর্বোচ্চ ১৩ বছর ও ৯ জনকে ৯ বছর কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। এসময় একজনকে খালাস দেয়া হয়। অপর এক আসামি আগেই মারা যান। তিনজন। সাতীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক শরিফুল ইসলাম বুধবার এক জনাকীর্ণ আদালতে ১৪ আসামীর উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষনা করেন। পলাতক রয়েছেন এ মামলার তিন আসামী।
সাজাপ্রাপ্ত অসামিরা হলেন, মনিরুজ্জামান, নুর আলী, গিয়াস উদ্দিন, ইসমাইল হাবিবুর, বিলাল হোসেন, মুনতাজ, মাহববর রহমান লিটন, রাকিব হোসেন, মনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, আসাদুর রহমান, আনিসুর রহমান, আলমগির হোসেন, নাসির উদ্দিন। এছাড়া পলাতক আসামিরা হলেন, ফখরুদ্দিন রাজি, অসাদুজ্জামান ও নাঈমুদ্দিন
সাতীরার পিপি অ্যাড. আব্দল লতিফ জানান, ২০০৫ এর ১৭ আগস্ট শহরের শহীদ রাজ্জাক পার্ক, জেলা জজ আদালত চত্বর, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত চত্বর, বাস টার্মিনাল ও খুলনা মোড়সহ পাঁচটি স্থানে একযোগে এই বোমা হামলা ও নিষিদ্ধ লিফলেট ছড়ানোর ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিনই সাতীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বোমা হামলাকারী শহরতলীর ব^াঁকালের দলিলউদ্দিন দফাদারের ছেলে নাসিররুদ্দিন দফাদার প্রত্যদর্শী বাকাল ইসলামপুর চরের রওশানের দেয়া বিবরণ মতে ধরা পড়ে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সাতীরার রসুলপুরে জেএমবির ঘাটি চিহ্নিত করা হয়। এই সূত্র ধরে ভারতীয় নাগরিক গিয়াসউদ্দিনসহ মোট ১৩জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরকে ঢাকায় জেআইসিতে (জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল) এ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঠানো হয়। সেখানে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেওয়া ছাড়াও জেএমবির বহু গোপন তথ্য জানায় তারা। পরে তাদের ফিরিয়ে আনা হয় সাতীরায়। ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ সিআইডি ৬ টি মামলায় ১৯ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশীট দেয়। সে বছরই মামলাগুলি খুলনার দ্রুত বিচার আদালতে পাঠানো হয়। যথা সময়ে নিষ্পত্তি না হওয়ায় ২০০৭ এর ২৫ জুন মামলাগুলি খুলনা থেকে ফেরত আসে সাতীরায়। ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সাতীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতে মামলা গুলির বিচার কাজ শুরু করেন। সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়েরকৃত মামলাটিও ২০০৮ সালে বিচার শুরু হয়। আসামিদের মধ্যে শায়খ রহমান, বাংলা ভাই ও আতাউর রহমান সানির মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় তাদেরকে এসব মামলার আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৬ টি মামলার মধ্যে একটি মামলায় সকল আসামীর অব্যহতি দেয়া হয়। আসামী পক্ষের আইনজীবি আ্যাড, আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, তারা এরায়ে সন্তোষ্ঠ নয়। তারা ন্যায় বিচার পাননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here