পাসপোর্ট যাত্রীদের অভিযোগ/ ভোমরা কাস্টমস্ অফিসে ঘুষ ছাড়া পাসপোর্ট এন্ট্রি হয় না, যাত্রীরা হয়রানীর শিকার

0
370

সেলিম রেজা মুকুল, ব্যুরো প্রধান, সাতক্ষীরা : ঘুষ ছাড়া ভোমরা কাস্টমস্ অফিসে পাসপোর্ট এন্ট্রি হয় না। ঘুষ না দিলে বা দিতে অস্বীকার করলে যাত্রীদের হয়রাণী করা হয় বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন। সাতক্ষীরা ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ভারত বাংলাদেশে মেডিকেল ও ব্যবসায়ী ভিসায় ৭০/৮০ জন পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত করে। যাত্রীদের অভিযোগে জানা যায়, দূরের অনেক যাত্রী ট্রাভেল ট্যাক্স না দিয়ে ভোমরা কাস্টমস্ অফিসে আসলে ৫০০টাকার ট্রাভেল ট্যাক্সের পরিবর্তে ৬৫০টাকা আদায় করা হয়। পাসপোর্ট এন্ট্রি করতে গেলে প্রতিটি বইতে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়। যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাসী করে ব্যবহারিত জামা-কাপড় থাকলেও প্রতিটি ব্যাগের জন্য দিতে হয় ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা। কোন যাত্রী ঘুষের টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রাখা হয়। যে সমস্ত যাত্রী ভারত থেকে ব্যবসায়িক পণ্য নিয়ে আসছে তাদের ব্যাগে কাস্টমস্ েনা এনে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ইমিগ্রেশন থেকে সরাসরি কাস্টমস্ অফিসের সামনে দিয়ে পরিবহনে তুলছে যাত্রীরা। এই ধরনের যাত্রীর (ল্যাগেজ পার্টি) নিকট থেকে কাস্টমস্ এন্ট্রি অফিস নেয় ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। একটি বেসরকারি সংস্থা ব্রাজিওর অফিস সংলগ্ন কাস্টমস্ এর পাসপোর্ট এন্ট্রি অফিস হওয়ায় কাস্টমস্ এর ঘুষের টাকা আদায় করে ব্রাজিওর গার্ড আব্দুর রহমান, সুমন এবং পিওন ফিরোজ ও কাস্টমস্ এর সিপাহী নাজমুল হোসেন। ভোমরা কাস্টমস্ এর পাসপোর্ট এন্ট্রি শাখার দায়িত্বে আছেন উপ-পরিদর্শক ইউনুস আলী। গত ১৬ ডিসেম্বর বিকালে ভারত থেকে আসা ভারতীয় নাগরিক বিশ্বজিত সেন (পাসপোর্ট নং- ৫৬০৪৫২৩) পাসপোর্ট নিয়ে কাস্টমস্ গেলে ব্রাজিওর সিকিউরিটি আব্দুর রহমান তার নিকট থেকে পাসপোর্ট নিয়ে ব্যাগ তল্লাসী করে বলে দাদা আপনার ব্যাগে কিছু নতুন কাপড় আর এক লিটার মদ আছে। এ সময়ে কাস্টমস্ এর এন্ট্রি শাখায় দায়িত্বে থাকা সিপাহী নাজমুল কে ব্যাগে নতুন কাপড় ও মদ আছে জানালে নাজমুল যাত্রীর কাছে ১ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। যাত্রী বিশ্বজিৎ সেন তার কাছে ওই টাকা নেই বলে জানায়, এ সময় নাজমুল আব্দুর রহমান কে নতুন কাপড় ও মদ রেখে দেওয়ার কথা জানায়। পাসপোর্ট যাত্রী বিশ্বজিৎ সেন কেঁদে বলেন আমার কাছে ওত টাকা নেই ২৮০ টাকা আছে। কাস্টমস্ সিপাহী নাজমুল ২৮০টাকা ঘুষ নিয়ে যাত্রী বিশ্বজিৎ সেন কে ছেড়ে দেয় বলে তিনি জানিয়েছেন। বিশ্বজিৎ সেনকে রিসিভ করতে আসা সাতক্ষীরা কুশখালী গ্রামের জাহারুল ইসলাম জানায় ভোমরা কাস্টমস্ ঘুষ না দিলে যাত্রী হয়রানীর ঘটনা আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়েছে। ১৭ ডিসেম্বর ভারত থেকে আসা ভারতীয় নাগরিক জয়প্রকাশ (পাসপোর্ট নং-২৬১০৯৪২১) জানায় তার কাছে কিছুই ছিল না তার পরেও আব্দুর রহমান তার নিকট থেকে ৩০০ টাকা ঘুষ নিয়ে পাসপোর্ট এন্ট্রি করে। এ সময় ব্রাজিওর পিওন ফিরোজ বলে দেখেন দাদা প্রতিটি পাসপোর্ট যাত্রীর কাছ থেকে কাস্টমস্ বাদেও আমরা ২০০/৪০০ টাকা নিয়ে থাকি। এই ভাবেই প্রতিদিন হয়রানী স্বীকার হচ্ছে পাসপোর্ট যাত্রীরা। ভোমরা কাস্টমস্ এর এন্ট্রি শাখায় দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক ইউনুস আলী জানায় আমি গত ১৬ ও ১৭ডিসেম্বর ছুটিতে ছিলাম। পাসপোর্ট যাত্রীদের কাছ থেকে ঘুষ বা হয়রানী বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদক কে বলেন আমি একটু ব্যস্ত আছি পরে আপনার সাথে কথা বলব। এ বিষয়ে ব্যাজিওর সিকিউরিটি আব্দুর রহমানের সাথে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সে বলে দেখেন ভাই কাস্টমস্ এর স্টাফরা যা বলে আমরা তাই করি। আমাদের সারাদিন পরে ২০০/৩০০ টাকা দেয়। সিপাহী নাজমুল হাসানের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন ব্যাজিওর সিকিউরিটিরা কি করে আমার জানা নেই। আমি কারো কাছ থেকে কোন টাকা পয়না নেয়নি। ভোমরা কাস্টমস্ এর সুপারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here