মোংলা বন্দরের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু, প্রথম দিনে দুই একর জমি উদ্ধার

0
246

মোংলা প্রতিনিধি : মোংলা পুরাতন বন্দর এলাকার মেরিন ড্রাইভ ও মেইন শহরের সড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১১ নভেম্বর) সকাল ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে বন্দরের আন্তজার্তিক ঘষিয়াখালী নৌচ্যানেল পাড়, মেরিন ড্রাইভ ও শহরের মেইন রোডের দুই পাশে নির্মাণাধীন অবৈধ কাচাঁ-পাকা প্রায় ৭০টি ভবন ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, তিন তিনবার সতর্কবার্তার নোটিশ দেয়া হলেও দখলদারা কোন কর্নপাত করেনী, আর বন্ধবস্ত দেয়ার কথা বলে না জানিয়েই কোটি টাকার সম্পদ ভেঙে নষ্ট করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলে দাবী স্থাপনায় বসবাসকারীরা। তবে প্রথম দিনে তৈরীকৃত স্থাপনায় দখল করা দুই একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিগুলে পর্যাক্রমে উদ্ধার করা হবে দাবী বন্দর কর্তৃপক্ষের।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৯৫৩ সালে মোংলা বন্দরের কার্যক্রম পরিচালোনায় অবকাঠামো তৈরীর জন্য ১৩৪.৬০ একর জমি ভূমি মন্ত্রনালয় থেকে বরাদ্ধ নেয়া মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর চালু হওয়ার পর থেকেই কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তি বন্দরের আওতাধীন পুরাতন বন্দর এলাকায় অবৈধ ভাবে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরী করে বেশ কিছু জমি দখল করে রাখে। এতে প্রায় ১০ একর জমিতে ১ হাজার ১৭০টি কাচাঁপাকা স্থাপনা তৈরী করে দখল করা হয়েছে বলে দাবী বন্দর কর্তৃপক্ষের। গত কয়েক দিন আগে থেকে তাদের এ সকল স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য মাইকিং সহ তিন তিনবার নোটিশ প্রদান করা হলেও এতে কোন কর্নপাত করেনণী দখলদাররা। পরিশেষে সোমবার (১১ নভেম্বর) উচ্ছেদের উদ্দ্যোগ নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। তাই প্রভাবশালীদের দখলে থাকা ১০ একর জমির মধ্য থেকে ১ম দিনে ৭০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করে দুই একর জমি দখল মুক্ত করা হয়েছে।
উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন বন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সনজিত কুমার চন্দ। এসময় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক প্রশাসন মো: নুরুজ্জামান, উপ-পরিচালক বোড জনসংযোগ বিভাগের মো: মাকরুজ্জামান, নিরাপত্তা কর্মকর্তা লে. নজরুল ইসলাম সহ বন্দরের সম্পত্তি শাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
যে জমিতে দোকান ঘর ও স্থাপনা তৈরী করা হয়েছে, তা বরাদ্ধ পাওয়ার জন্য সকল কাগজপত্র বন্দরে জমা দেয়া হয়েছে। তার পরেও ভেঙে দিয়ে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি করেছে বলে জানায় ক্ষতিগ্রস্থ ভুক্তভোগীরা।
বন্দরের পরিচালক প্রশাসন মো: নুরুজ্জামান বলেন, মোংলা বন্দরের প্রায় ১০ একর জমিতে ১১৭০ টি অবৈধ স্থাপনা তৈরী করে জোর পুর্বক দখলে রেখেছিল কিছু ক্ষমতাশীন দলের নেতাকর্মীরা। আজ ২ একর জমি দখল মুক্ত করা হয়েছে। পর্যাক্রমে দখলদারের কবল থেকে বন্দরের সকল জমি উদ্ধার করা হবে, এবং পুনরায় যাতে ওই জায়গায় স্থাপনা তৈরী করতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে থাকবে বন্দর সহ নিরাপত্তা রক্ষীরা।
উচ্ছেদ অভিযান পরচালনাকারী নির্বাহী মেজিস্ট্রেট সঞ্জিত কুমার চন্দ বলেন, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জায়গায় দীর্ঘদিন যাবত কিছু অবৈধ দখলদাররা স্থাপনা তৈরী করে দখলে রেখেছিল। বহুবার জমির দখল ছেড়ে দেয়ার জন্য মাইকিং বা নোটিশ জারি করলেও দখল ছাড়েনী। আজ তাদের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে কিছু অংশ জমি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। বাকি জমিও পর্যাক্রমে উচ্ছেদের মাধ্যমে দখল মুক্ত করা হবে৷
২০০৭ সালে দেশে জরুরী অবস্থা চালুন হলে ১৫২ টি স্থাপনা ভেঙে দেয়া হলে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভগীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here