মেহেদী হাসান (নয়ন), ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় দীর্ঘ এক দশক পর আবারও প্রাণচাঞ্চল্যে মুখরিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী গরুর হাট। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা মুখরিত, স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের জেলাগুলি থেকেও এখানে গরু আনতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। হাটজুড়ে এখন দৃশ্যমান মানুষের ভিড়, ক্রেতাদের দরদাম, বিক্রেতাদের হাঁকডাক ও গরুর মৃদু আওয়াজ। দীর্ঘদিন নানা কারণে ফকিরহাটের হাট তার পুরোনো জৌলুস হারিয়েছিল। তবে এবার দেশীয় গরুর সরবরাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় আবারও হাটে তার প্রাচীন জীবন্ততা ফিরেছে। ক্রেতাদের জন্য ১ লক্ষ টাকার নিচের গরু প্রতি খাজনা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা এবং ১ লক্ষ টাকার উপরে ১০০০ টাকা। তাছাড়া বেপারিদের জন্য গরু প্রতি মাত্র ২০০ টাকা খাজনা নির্ধারণ করা হয়েছে।
খামারিরা জানিয়েছেন, এবারের বাজারে দেশীয় গরুর চাহিদা আগের তুলনায় বেশি। হাটে ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের গরু বিক্রির জন্য আনা হয়েছে। ক্রেতারা তাদের বাজেট এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পছন্দের পশু বেছে নিচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা আশাবাদী, ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, হাটে গরুর বেচাকেনা আরও বাড়বে। স্থানীয়দের মতে, হাটের এই প্রাণচাঞ্চল্য শুধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও আনন্দ ও উৎসবের অনুভূতি জাগাচ্ছে। বহু মানুষ পরিবার নিয়ে গরু দেখার জন্য আসছেন, আবার কেউ কেউ ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়া সরাসরি দেখতে উৎসাহী। ফকিরহাটের স্থানীয় ব্যবসায়ী রবিউল সুমন কুমার মজুমদার বলেন, “দীর্ঘদিন পর হাটে এতটা জমজমাট পরিবেশ দেখা যাচ্ছে। এটি আমাদের ব্যবসা এবং স্থানীয় অর্থনীতির জন্য খুবই ইতিবাচক। আশা করছি, আগামিদিনে হাট আরও বড় হবে এবং নতুন ক্রেতা-বিক্রেতারাও যুক্ত হবেন।” এছাড়া, স্থানীয়রা মনে করছেন, হাটের প্রাণ ফিরিয়ে আনা শুধুমাত্র ব্যবসার উন্নতি নয়, ফকিরহাটের ঐতিহ্য ও সামাজিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ পুনরুজ্জীবিত করেছে। তাই এবার ঈদকে সামনে রেখে হাটকে কেন্দ্র করে পুরো উপজেলা যেন উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে।














