চাঞ্চল্যকর ইউনুস আলী হত্যা মামলায় অগ্রগতি: প্রধান আসামী সোহেল রানা গ্রেফতার

0
124

স্টাফ রিপোর্টার : অত্র মামলার ভিকটিম ইউনুস আলী (৪৭) বেনাপোল পোর্ট থানাধীন গাতিপাড়া গ্রামস্থ তার শ্বশুর বাড়িতে তার মা এবং স্ত্রী তাসলীমা খাতুনের সাথে বসবাস করতো। এই মামলার ঘটনার তিনদিন পূর্বে তাসলীমা খাতুন তার মেয়েকে সাথে নিয়ে খুলনাস্থ মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়। গত ২২/০৪/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ ইউনুস আলী এবং তার মা বাড়িতে থাকা অবস্থায় ঐদিনই দুপুর অনুমান ১৫:০০ ঘটিকার সময় ধৃত আসামী তরিকুল ইসলাম ইউনুস আলীকে তার বাড়ি হতে কাজের উদ্দেশ্যে ডেকে নিয়ে রহমতপুর সাকিনস্থ অত্র মামলার তদন্তে প্রাপ্ত পলাতক আসামী রানা এর বাড়িতে নিয়ে যায়। তথায় অত্র হত্যাকান্ডের মূল আসামী আনোয়ার হোসেন এবং তার সাথে থাকা রানা ইউনুস আলীকে পেয়ে ধাক্কাতে ধাক্কাতে রুমের ভিতরে নিয়ে যায় এবং সেখানেই ইউনুস আলীকে মারপিট এবং শারীরিক নির্যাতনসহ শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের মৃতদেহ অপর ধৃত
আসামী সবুজের মোটর সাইকেল যোগে অত্র মামলার ঘটনাস্থল বেনাপোল পোর্ট থানাধীন বেনাপোল টু পুটখালী রোডস্থ চারা বটতলা নামক স্থানে ফেলে আসে। বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ মৃতদেহের সুরতহাল
রিপোর্ট প্রস্তুত করতঃ মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, যশোর মর্গে
প্রেরণ করেন। উক্ত ঘটনা সংক্রান্তে ভিকটিমের ভাই ইউসুফ আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে
অভিযোগ দায়ের করলে যশোর জেলার বেনাপোল পোর্ট থানার মামলা নং-১৫, তারিখ-২৩/০৪/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা-
৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়।
উক্ত মামলাটি পিবিআই যশোর জেলা স্বউদ্যোগে গ্রহণ করে মামলার তদন্তভার এসআই (নিঃ) রতন মিয়া
এর উপর অর্পণ করে। তদন্তকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হত্যাকান্ডে জড়িত আসামী ০১। মোঃ তরিকুল ইসলাম
(৪০) ও ০২। মোঃ সবুজ হোসেন (২১) দ্বয়কে গত ২৭/০৪/২০২৬ খ্রিঃ গ্রেফতারপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ
করলে, আসামী তরিকুল ইসলাম বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। অত্র মামলার ঘটনার পরপরই
হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামীসহ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চয়ে যায়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা স্থানীয় তদন্ত ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মামলার অন্যতম আসামীর অবস্থান
নিশ্চিত হয়ে পিবিআই প্রধান জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল, অ্যাডিশনাল আইজিপি, বাংলাদেশ পুলিশ
এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায়, পিবিআই যশোর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার
(অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) মোঃ কামরুজ্জামান এর নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক রিপন
কুমার সরকার, এসআই(নিঃ)/ রতন মিয়া, এসআই(নিঃ) মোঃ মাসুদসহ পিবিআই, যশোর জেলার চৌকস দল
কর্তৃক পুলিশি অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে গত ২৪/০৫/২০২৬ তারিখ রাত অনুমান ১১.১৫ ঘটিকার সময় আসামী ০১। মোঃ সোহেল রানা(২৬), পিতা-মোঃ কুদ্দুস সিকদার, মাতা-মৃত রিজিয়া পারভীন, সাং-রহমতপুর,
ডাকঘর-বালুন্ডা, থানা-বেনাপোল পোর্ট, জেলা-যশোরকে যশোর জেলার শার্শা থানাধীন গোগা এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত আসামী সোহেল রানা এর স্বীকারোক্তি এবং দেখানো মতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত গামছা তদন্তেপ্রাপ্ত পলাতক আসামী আনোয়ার হোসেনের বসত ঘর থেকে সাক্ষীদের সম্মুখে উদ্ধারপূর্বক জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ধৃত আসামী সোহেল রানা, তদন্তেপ্রাপ্ত পলাতক আসামী আনোয়ার হোসেন ও পূর্বে গ্রেফতারকৃত আসামী তরিকুল ইসলামগণ মিলে গত ২২/০৪/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ অত্র মামলার
ভিকটিম ইউনুস আলীকে ধৃত আসামী রানা এর বসত ঘরের ভিতর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং ঘটনার দিন রাতেই লাশ গোপন করার উদ্দেশ্যে তদন্তেপ্রাপ্ত আসামী সবুজ হোসেনের মোটরসাইকেলযোগে মৃতদেহ অত্র মামলার ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে আসে মর্মে স্বীকার করে। গ্রেফতারকৃত আসামী ০১। মোঃ সোহেল রানা (২৬), পিতা-মোঃ কুদ্দুস সিকদার, মাতা-মৃত রিজিয়া পারভীন, সাং-রহমতপুর, ডাকঘর-বালুন্ডা, থানা-বেনাপোল পোর্ট, জেলা-যশোরকে অদ্য ২৫/০৫/২০২৬ খ্রিঃ বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ৪র্থ আদালতে সোপর্দ করলে আসামী ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে হত্যাকান্ডে জড়িত মর্মে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here