সুন্দরবনে মুক্তিপণের দাবিতের ফের ৬ জেলে অপহরণ

0
121

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সুন্দরবনে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞার আগে মাছ ধরে বাড়ি ফেরার পথে মুক্তিপণের দাবিতে ফের ৬ জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। এসময় এক জেলেকে নৌকার বৈঠা দিয়ে মাথা ফাটিয়ে জখম করেছে বনদস্যুরা।
রোববার (৩১ মে) রাত ১১টার দিকে সুন্দরবনের মালঞ্চ নদীর চালতেবেড়ে খাল ও সুবদে খাল থেকে মাথাপিছু ৩০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণের দাবিতে সুন্দরবনের বনদস্যূ নানা ভাই ডন বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তাদেরকে অপহরণ করা হয়। সোমবার (১ জুন ) মধ্যে মুক্তিপণের টাকা না পাঠালে তাদেরকে হত্যার হুমকি দিয়েছে বনদস্যুরা।
এ সময় ইসমাইল খাঁ নামের এক জেলেকে নৌকার বৈঠা দিয়ে মাথা ফাটিয়ে জখম করেছে বনদস্যুরা। আহত ইসমাইল খাঁ’কে সোমবার দুপুরে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
অপহৃতরা জেলেরা হলেন, শ্যামনগরের দক্ষিণ কদমতলীর কুলতলী এলাকার দেলোয়ার খাঁর ছেলে ইয়াছিন খাঁ (৩৩) ও আলমগীর খাঁ (৩৭), হরিনগর গ্রামের আব্দুর রহিম মোল্যার ছেলে আল আমিন মোল্যা (৩৫), খুলমা গাজীর ছেলে শহীদুল গাজী (৪৫), আব্দুল গফুর গাজীর ছেলে শাহজাহান গাজী (৪৮) ও নুরুল হক গাজীর ছেলে কামরুল গাজী (৫০)।
অপহৃত জেলেদের স্বজনরা জানান, প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষার সরকারি (বনবিভাগ) নির্দেশনা অনুযায়ী ১ জুন সোমবারের মধ্যে লোকালয়ে ফিরে আসার শর্তে শনিবার (৩০ মে) সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশন থেকে কাঁকড়া ধরার অনুমতি (পাস) নিয়ে পাঁচটি নৌকায় ১৮জন জেলে সুন্দরবনে যান। বনবিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী বাড়ি ফেরার পথে রোববার রাত ১১টার দিকে তারা সুন্দরবনের মালঞ্চ নদীর চালতেবেড়িয়া খাল ও সুবদে খাল এলাকায় অবস্থান করছিল।
এ সময় বনদস্যু নানা বাহিনী ডন এর সদস্য পরিচয়ে সশস্ত্র কয়েকজন ডাকাত পাঁচটি নৌকা থেকে ছয়জনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে তাদের কাছে মাথাপিছু ৩০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সোমবারের মধ্যে দাবীকৃত মুক্তিপণের টাকা বিকাশ নাম্বারে পরিশোধ না করে তাদেরকে হত্যার হুমকি দেয় বনদস্যুরা। এ সময় চালতেবেড়িয়া এলাকায় একটি নৌকায় অবস্থান করা শ্যামনগরের দক্ষিণ কদমতলীর কুলতলী এলাকার গণি খাঁ’র ছেলে ইসমাইল খাঁকে নৌকার বৈঠা দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। তাকে আশাঙ্কাজনক অবস্থায় সোমবার দুপুরে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
সুন্দরবনের কদমতলা স্টেশন কর্মকর্তা মনিরুল করিম জানান, এবিষয়ে তাদের কাছে কোন তথ্য নেই। অপহৃতদের পরিবারের কেউ তাদেরকে অবহিত করেনি। তবে বিষয়টি তার খোঁজখবর নিয়ে দেখছেন।
শ্যামনগর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খালেদুর বহমান জানান এ ব্যাপারে অপহৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোন অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, বন্য প্রাণী ও মৎস্যসম্পদের প্রজনন সুরক্ষায় সোমবার ১ জুন থেকে টানা তিন মাস সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বন বিভাগ। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এ সময় জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল, গোলপাতা সংগ্রহকারী থেকে শুরু করে পর্যটক কেউই সুন্দরবনের ভেতরে ঢুকতে পারবেন না। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জুন, জুলাই ও আগস্ট মাস সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি, সরীসৃপ, পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর প্রজননকাল। এ সময়ে বনাঞ্চলের নদী-খালগুলো নানা প্রজাতির মাছের ডিম ছাড়ার নিরাপদ ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের বিভিন্ন উদ্ভিদের বীজ অঙ্কুরোদ্গম ও নতুন চারা জন্মানোর জন্যও সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। নিষেধাজ্ঞার ফলে সুন্দরবনজীবী হাজারো পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। আয়-রোজগারের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আগামী তিন মাস কীভাবে সংসার চলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন বনজীবীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here