যশোর মুক্তেশ্বরী নদী রক্ষা ও দখলমুক্ত করার দাবিতে স্মারকলিপি

0
105

যশোর প্রতিনিধি : মুক্তেশ্বরী নদীকে অবৈধ দখলমুক্ত করা, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, জিয়া খাল পুনঃখনন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবিতে যশোরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলন।
রোববার (৭ জুন) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়, মুক্তেশ্বরী নদী যশোরের দক্ষিণাঞ্চলসহ বৃহত্তর অঞ্চলের পরিবেশ, কৃষি ও জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের অবৈধ দখল, নদী ভরাট, স্থাপনা নির্মাণ ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে নদীটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে খনন করা ঐতিহাসিক জিয়া খাল বর্তমানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দখলে চলে গেছে। নদী ও খালের জমি ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে শ্রেণি পরিবর্তন করে আত্মসাৎ, ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের ফলে যশোর শহর,সেনানিবাস এবং বিল হরিণা অঞ্চলে জলাবদ্ধতা ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
এ অবস্থায় মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলন পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলো হলো মুক্তেশ্বরী নদীর সকল অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ও সিএস রেকর্ড অনুযায়ী পুনঃখনন, জিয়া খাল পুনঃখনন, উজানে ভৈরব নদের সঙ্গে মুক্তেশ্বরীর সংযোগ পুনঃস্থাপন, নদী ও খাল দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর সঙ্গে উজানের নদীর সংযোগ স্থাপন করে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব রাশেদ খান, হারুন অর রশিদ,অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, জিল্লুর রহমান ভিটু, আবু হাসান, বিল হরিণা বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক আহাসান উল্লাহ ময়না, শাহজাহান আলী, হাসিনুর রহমান, অ্যাডভোকেট আবু কায়েস, শরিফ আহমেদ বাপ্পি, মুস্তাফিজুর রহমান কবির, যোগেষ দত্ত, শেখ আলাউদ্দিন, রিয়াদ রহমান, অ্যাডভোকেট ইমরান খান, ইব্রাহিম খলিল ও রিয়াদ রায়হানসহ বিভিন্ন পেশাজীবী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় নেতৃবৃন্দ বলেন, মুক্তেশ্বরী নদী কেবল একটি নদী নয়, এটি যশোর অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য, কৃষি উৎপাদন এবং মানুষের জীবন-জীবিকার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নদীটিকে রক্ষা করা না গেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা সংকট আরও তীব্র হবে। তাই অবিলম্বে নদী দখলমুক্ত করে পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তারা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here