অভয়নগরে রাতের আঁধারে হাঁটু পানিতে নেমে পানিবন্দি মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছে দিলেন ইউএনও

0
89

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের চেঙ্গুটিয়া, উড়োতলা ও মহাজেরপাড়া গ্রামের তিন শতাধিক পরিবার দুই মাস ধরে পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় এসব এলাকার সহস্রাধিক মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ৯টা থেকে পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়ান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ সালাউদ্দীন দিপু। তিনি হাঁটু সমান পানিতে নেমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ২০০ পরিবারের হাতে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেন।
এ সময় প্রেমবাগ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দীন খোকন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম রেজা, বসুন্ধরা শুভসংঘ অভয়নগর উপজেলা শাখার উপদেষ্টা এস জেড মাসুদ তাজসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
প্রেমবাগ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দীন খোকন বলেন, যশোর রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) নির্মাণের জন্য বিল ভরাট করা হয়েছে। এতে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি টানা বৃষ্টি ও তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য পানি যুক্ত হয়ে চেঙ্গুটিয়া, উড়োতলা ও মহাজেরপাড়া এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, গত দুই মাস ধরে তিন শতাধিক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
চেঙ্গুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ রজব আলী, রমজান মোল্যা ও করিম শেখ বলেন, ‘দুই মাস ধরে রাস্তা, ঘর ও বারান্দায় হাঁটু সমান পানি জমে আছে। জলাবদ্ধতার কারণে কাজে যেতে পারছি না। পরিবারে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। দুই মাসের মধ্যে এই প্রথম আমরা কোনো খাদ্য সহায়তা পেলাম।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দীন দিপু বলেন, ‘পানিবন্দি এলাকার মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে রাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। প্রত্যেক পরিবারকে ১০ কেজি চাল, দুই কেজি আলু, এক কেজি পেঁয়াজ, এক কেজি মসুর ডাল, আধা কেজি তেল, এক প্যাকেট বিস্কুট ও এক প্যাকেট মশার কয়েল দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন ও নওয়াপাড়া পৌরসভার পক্ষ থেকে এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন ও ইপিজেড কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here