কলারোয়ায় পানিতে নিমজ্জিত মানিকনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়: জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

0
69

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলার যুগিখালি ইউনিয়নের ৯৪ নং মানিকনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বছরের প্রায় ৮/ ৯ মাস জলাবদ্ধতা অবস্থায় থাকে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও চারপাশ পচা, দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে ডুবে থাকার ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পানি জমে থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না। যাতায়াতের সময় প্রায়ই পিছলে পড়ে গিয়ে জামাকাপড় নোংরা হচ্ছে এবং বই-খাতা ভিজে নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া শৌচাগার বা ওয়াশরুমে যাওয়ার পথও পানিতে তলিয়ে থাকায় চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নওরীন জাহান মিম জানায়, “স্কুলে আসার পথে পানি জমে থাকে। পড়ে গিয়ে কাপড় নোংরা হয়, বই ভিজে যায়। আমরা খেলাধুলাও করতে পারি না।” অপর এক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জানায়, “পানির জন্য আমরা ঠিকমতো ওয়াশরুমেও যেতে পারি না।”
সাঁতস্যাঁতে পরিবেশ ও জমা পানিতে মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গুসহ নানা রোগজীবাণুর ঝুঁকি বাড়ছে। অনেক শিক্ষার্থী জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিদ্যালয়ে উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আবদুল আহাদ এবং পরিচালনা কমিটির সদস্যরা দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। প্রধান শিক্ষক জানান, এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানানো হয়েছে। পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে দ্রুত মাটি ভরাট অথবা কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে পরিবেশের উপরে কাজ করে ইতিমধ্যে সবার নজরে আসা তরুণ প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল চয়ন বলেন, দীর্ঘদিন বিদ্যালয়টি জলাবদ্ধ থাকায় এই বিদ্যালয় এবং আশপাশের পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। অবিলম্বে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা না গেলে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত নানা রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অবগত করা হলেও তিনি কার্যকর ব্যবস্থা নেননি বলে আসিফ ইকবাল চয়ন জানান। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও পূর্ববর্তী পরিদর্শনের মাধ্যমে আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের বিষয়টি আমাদের প্রকল্পে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ামাত্রই দ্রুততম সময়ের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ সম্পন্ন করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here