শার্শা প্রতিনিধি : যশোরের শার্শায় নানার বাড়ির সম্পত্তি জবরদখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাধা দেওয়ায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে সংবাদ সম্মেলন করে ধর্ষণচেষ্টার মিথ্যা অভিযোগ তোলার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে মা ও মেয়ের বিরুদ্ধে। সম্পত্তি আত্মসাতের অসৎ উদ্দেশ্যেই এই হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে আইনি প্রতিকার চেয়ে আজমল হোসেন ইমন নামের এক যুবক বাদী হয়ে শার্শা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,অভিযুক্ত কাজল রেখা (২১) ও মাজেদা খাতুন (৫০) সম্পর্কে বাদীর আপন খালাতো বোন ও খালা। বাদীর মামা প্রবাসে থাকার সুবাদে বিবাদীরা নানার বাড়ির সম্পত্তি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ভাগ-বণ্টন না করে নিজেদের ইচ্ছামতো জমিতে জবরদখল ও ঘর নির্মাণের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন।
এতে বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১ নভেম্বর যশোর প্রেসক্লাবে বাদীর পরিবারের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বাদীর পরিবারকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এরপর গত ২ নভেম্বর সকালে বিবাদীরা বাদীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ,মাজেদা ও তার মেয়ে কাজল রেখার এ ধরনের আচরণে এলাকাবাসী চরম অতিষ্ঠ। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা প্রতিপক্ষকে মামলার ভয় দেখিয়ে থাকেন। এমনকি তাদের অত্যাচারে আপন ভাবিও ভিটেমাটিছাড়া হতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্তরা নিজেদের পারিবারিক পরিচয় ও তথ্য নিয়ে নানা বিভ্রান্তি তৈরি করছেন। মাজেদা খাতুন সংবাদ সম্মেলনে নিজের স্বামীকে মৃত দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে তার স্বামী জালাল উদ্দীন জীবিত রয়েছেন এবং তিনি নাভারণ বাজারে জুতার ব্যবসা করছেন (যদিও তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটেছে)। এ ছাড়া জালাল উদ্দীনের সাথে সংসার চলাকালে মাজেদা তার দেবরের বিরুদ্ধেও মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করেছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের মতে, জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ আইনি প্রক্রিয়ায় বা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সুরাহা হওয়া উচিত। অহেতুক মিথ্যা অভিযোগ বা একে অপরকে ঘায়েল করার প্রবণতা সমাজে বিশৃঙ্খলা বাড়ায়, যা কাম্য নয়।
এ ব্যাপারে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, এ ঘটনায় থানায় দুটি পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। যেহেতু উভয় পক্ষের বিরোধটি মূলত জমিজমা নিয়ে, তাই তাদের আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ওসি শামিনুল হক আরও স্পষ্ট করেন যে, ইমনের বিরুদ্ধে কাজল রেখাকে ধর্ষণচেষ্টার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সরেজমিন তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং এর সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ মেলেনি।














