চৌগাছায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টরের ফসল নষ্ঠ কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে না যাওয়ার অভিযোগ

0
338

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : টানা বর্ষণে যশোরের চৌগাছার চাষীদের ব্যাপক য়তি হয়েছে। উপজেলার প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টরের বিভিন্ন ধরনের ফসল নষ্ঠ হয়েছে বলে চাষীরা বলছেন। বোরোর বীজতলা, সরিষা, মসুর, গোলআলু, পেয়াজ, মরিচসহ সব ধরণের সবজি চাষীরা ব্যপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। এছাড়াও যেসব চাষী ধান ঘরে তুলতে পারেন নি তারাও পড়েছেন ব্যাপক য়তির মুখে। তবে এই বিপদের দিনে কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে যাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএএও) রাশেদুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন এ পর্যন্ত তাদের হিসেবে ৩০ হেক্টর বোরো বীজতলা, ৪০৭ হেক্টর মসুর, ৬৭ হেক্টর গম, ৭৪৫ হেক্টর সরিষা, ৮২০ হেক্টর বিভিন্ন ধরনের সবজি, ১৭০ হেক্টর গোলআলু, ৮৭ হেক্টর পেয়াজ, ৬৫ হেক্টর মরিচ খেত টানা বর্ষণে নিমজ্জিত হয়েছে। এরমধ্যে ২০ হেক্টর বোরো বীজতলা, ১৪১ হেক্টর মসুর, ৩৪ হেক্টর গম, ৩০১ হেক্টর সরিষা, ৪৭৮ হেক্টর বিভিন্ন ধরনের সবজি, ৯০ হেক্টর গোলআলু, ৩৭ হেক্টর পেয়াজ, ২৩ হেক্টর মরিচ ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ঠ হয়ে গেছে। তিনি জানান, তিনি পানি নিস্কাশন যত দ্রুত হবে বাকি ফসলের ক্ষতি ততটা কম হবে। পানি নিস্কাশ হতে দেরি হলে ক্ষতির পরিমান আরও বড়বে। তবে কৃষি অফিসের দেয়া তথ্য ক্ষতির সঠিক চিত্র নয় বলে দাবি করেছেন কৃষকরা। তারা বলছেন এখনও অনেকের আমন পাকা আমন ধান কেটে রাখা খেতের উপর দিয়ে পানির প্রবল স্রোত বইছে। অনেক জালি দিয়ে রাখা ধান পানিতে নিমজ্জিত। কৃষি কর্মকর্তারা তাদের ক্ষয়ক্ষতির হিসাবে আমন রাখেনই নি। তাছাড়া কৃষি কর্মকর্তারা এ কয়দিনে মাঠে না গিয়ে অফিসে বসেই হিসাব করেছেন বলে এই রিপোর্টে প্রকৃত চিত্র উঠে আসেনি। উপজেলার সিংহঝুলি গ্রামের শাহিনুর রহমান দফাদার বলেন, আমার দশ বিঘা ১৫ কাঠা জমিতে রোপা আমন ধান ছিলো। এর মধ্যে ৭ বিঘার ধান বাড়িতে নিতে পারলেও ৩ বিঘা ১৫ কাঠার ধান এখনও পানিতে নিমজ্জিমত। তিনি বলেন আমি কৃষি অফিসের অধীনে বীজধান তৈরিকারী কৃষক গ্রুপের একজন সদস্য। অথচ একয়দিনে কৃষি অফিস থেকে একজন কর্মকর্তাও মাঠে আসেন নি। বা মুঠো ফোনেও কোন খোঁজ নেননি। শুধুমাত্র সাংবাদিকরা আমার মাঠে এসেছেন। নিউজ করেছেন। একই গ্রামের আলমগীরের ১০ বিঘা ধানের মধ্যে ৭ বিঘাই ঘরে উঠাতে পারেন নি। তারও অভিযোগ কৃষি অফিসের কেউ এখন পর্যন্ত মাঠেই আসেন নি। অথচ তারা সাংবাদিকদের কাছে বলছেন রোপা আমনের কোন ক্ষতি হয়নি। পৌরসভার বেলেমাঠ গ্রামের আসগর আলী বলেন আমার দেড় বিঘা পেয়াজ এবং একবিঘা গোলআলু সম্পূর্ণ নষ্ঠ হয়ে গেছে। তবে কৃষি অফিসের কেউ এখন পর্যন্ত মাঠেও আসেননি বা খোঁজও নেননি বলে তিনি অভিযোগ করেন। একই গ্রামের হানেফ আলী বলেন আমার একবিঘা জমির মসুর নষ্ঠ হয়ে গেছে। তারও অভিযোগ কৃষি কর্মকর্তারা কোন খোঁজ নেননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here