মহম্মদপুরে মুকুলে শোভিত হচ্ছে আমগাছ; ছড়াচ্ছে ঘ্রাণ

0
294

মহম্মদপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা : মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চল ও রাস্তার ধারে মুকুলে মুকুলে শোভিত হচ্ছে আমগাছ; ছড়াচ্ছে সুঘ্রাণ। চারিদিকে গুনগুন শব্দে মধু আহরণে ব্যস্ত মৌমাছির দল। রঙ্গিন ফুলের সমারোহে বর্ণিল সাজে সেজেছে যেমন প্রকৃতি, তেমনি মুকুলে মুকুলে নতুনভাবে সেজেছে উপজেলার প্রতিটি আমগাছ। শীতের সকালে কুয়াশার চাদর সরিয়ে সোনালী রোদের আলোয় ঝলমলে আমের মুকুল উঁকি মারছে শে^তশুভ্র ও কাঞ্চনের মত। আবার হিমেল হাওয়ায় মুকুলগুলো দুলছে আর শোভা ছড়াচ্ছে স্বমহিমায়। মুকুলের ভারে নুয়ে পড়ার উপক্রম আমগাছগুলো। দৃষ্টিনন্দন এই সৌন্দর্য মুকুলের ঘ্রাণ জানান দিচ্ছে ঋতুরাজ বসন্তের উপস্থিতি। কোকিলের সুমধুর কন্ঠে মাতাল করতে আবারও ঋতুরাজ বসন্ত উপস্থিত হয়েছে শীতের শেষ প্রান্তে। ফাগুনের এই আগমনে ফুলে ফুলে রঙ্গিন সাজে সেজেছে পলাশ-শিমুল ও কৃষ্ণচুড়ার গাছ। তেমনই স্বর্ণালী মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে আমগাছগুলো। আম এখন ব্যবসায়ী ফল। এক সময় সুস্বাদু ফল হিসেবে শুধু খাওয়ার জন্যই নিজ বাড়ীর আঙ্গিনায়, ঘরের কোনে, রাস্তার ধারে আমগাছ লাগানো হত। এখন ব্যবসা হিসেবে আমের চাষ করা হচ্ছে। এতে অনেকে লাভবানও হচ্ছে। প্রথমে তারা নিজ উদ্যোগেই বাড়ীর আঙ্গিনায়, রাস্তার পাশের গাছগুলো পরিচর্যার মাধ্যমে শুরু করেছেন। লাভবান হয়ায় পরে কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা জাতের চারা সংগ্রহ করে আমের বাগান তৈরী করে ব্যবসায়ীক ভাবে শুরু করেন। কিন্তুু বর্তমানে তারা নিজেরাই চারা উৎপাদন করছেন এবং বাজারজাত করে অর্থ উপার্জনও করছেন। এ উপজেলায় এখন বিভিন্ জাতের আম রয়েছে- ফজলি, রুপালী, হিম সাগর, মল্লিকা, বিশ^নাথ ও ল্যাংড়াসহ রয়েছে বিদেশী কয়েক জাতের আম। আমচাষিদের পাশাপাশি এখন পারিবারিকভাবেও আমগাছের পরিচর্যা করা হয়। অবশ্য গাছে মুকুল আসার আগে থেকেই তারা গাছের পরিচর্ষা করে থাকে, যাতে গাছে মুকুল বা গুটি বাঁধার সময় কোন সমস্যা না হয়। উপজেলা সদরের আম বাগানের মালিক প্রভাষক এস এম আজগার আলী জানান, আমেরিকান পালমার আম, ডকমাই সাদা, ডকমাই হলুদ, সূর্য ডিম, ব্যানানা ম্যাংগো, চিয়াংমাই, কিং অব চাকাপাত, ব্রুনাই-কিং, বারোমাসি বারি,-১১, বারোমাসি কাটিমনসহ নানা জাতের আমগাছ দিয়ে আমি ২০ শতংক জমির উপরে বাগানে করেছে। তবে এখনো সব গাছে মুকুল আসেনি, কিছ কিছু গাছে আসছে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ আব্দুস সোবাহান জানান, এ বছর অতি বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের পরে আমগাছে মুকুল এসেছে। অতি বৃষ্টি হলে গাছে মুকুল কম আসে এবং ফলন কমে যায়। তাই এ বছর আমের ফলন কম হওয়ার সম্ভাবনা বেশী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here