কেশবপুরে গৃহবধূ ও শিশুকন্যার ওপর হামলা, ধর্ষণ এবং সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

0
207

আক্তার হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের কেশবপুর উপজেলার হাসানপুর এলাকায় এক গৃহবধূর ওপর নির্মম নির্যাতন এবং তার ৬ মাস বয়সী শিশুকন্যাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে আহত গৃহবধূ কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত গৃহবধূ তসলিমা বেগম (৩৫) এর স্থায়ী ঠিকানা চিংড়া হলেও তিনি বর্তমানে হাসানপুর ভাড়া বাসায় থাকেন। তিনি জানান, প্রথম স্বামী তালাক দেওয়ার পর বাবার বাড়ির আর্থিক সংকটের কারণে তিনি আলাদা হয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। সংসারের খরচ চালাতেন প্রথম ঘরের ছেলে মোঃ আলামিন হোসেন (১৮)।
তসলিমার অভিযোগ, উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে স্থানীয় মোবাইল মেকানিক মোঃ সোহাগ হোসেন (৩০), যার বর্তমান ঠিকানা টিটাবাজিতপুর, দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে তিনি গর্ভবতী হন এবং একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন, যার নাম রোজা খাতুন (৬ মাস)।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সন্তানের জন্মের পর থেকে অভিযুক্ত সোহাগ শিশুটিকে নিজের সন্তান হিসেবে স্বীকার না করে উল্টো মা ও সন্তানকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায়, গত ৬ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে সোহাগ ধারালো হাসুয়া হাতে তসলিমার বাসায় প্রবেশ করে শিশুটিকে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় তসলিমা বাধা দিলে তাকে বেধড়ক মারধর, গলা চেপে ধাক্কা, কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয়।
তসলিমার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সোহাগ হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আহত মা ও শিশুকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোহাগ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা আমি নির্দোষ । আর ওই সন্তান যদি আমার হয়ে থাকে তাহলে ডিএনএ টেস্ট করানো হোক।
এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আনোয়ার হোসেন করেন, ধর্ষণের ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর মারামারির ঘটনায় একটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here