সৌদি আরব গিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ, শূন্য হাতে বাড়ি ফিরলেন হৃদয়

0
71

আজিবর রহমান, মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: বুকভরা স্বপ্ন আর পরিবারের সচ্ছলতার আশায় সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের তেলিকুড় গ্রামের হৃদয় গাজী (২৪)। বিদেশে গিয়ে কাজ করে পরিবারের অভাব দূর করবেন—এমন প্রত্যাশা ছিল তার পরিবারের। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বিদেশে গিয়ে কর্মসংস্থানের পরিবর্তে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে এক হাত ও এক পা ভেঙে শূন্য হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাকে।
হৃদয় গাজী তেলিকুড় গ্রামের মিজানুর গাজীর ছেলে। ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় মিজানুর গাজী গাছপালা বিক্রি ও ধারদেনা করে হৃদয়কে সৌদি আরবে পাঠান। বিদেশ যেতে পরিবারের মোট খরচ হয় প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা থেকে আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন মিজানুর গাজী। কিন্তু সেই ঋণের টাকাও এখনো পরিশোধ করতে পারেননি তিনি।
হৃদয় জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার পর প্রায় চার মাস তাকে বেকার থাকতে হয়। পরে নির্দিষ্ট কোনো কাজ না পেয়ে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন কাজ করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে থাই গ্লাস পরিষ্কারের কাজ করার সময় একটি ভবনের সিঁড়ি থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। এতে তার এক হাত ও এক পা ভেঙে যায়।
দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ এক মাস সৌদি আরবেই অসুস্থ অবস্থায় কাটাতে হয় হৃদয়কে। শারীরিকভাবে অসুস্থ ও কর্মক্ষমতা হারিয়ে অবশেষে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন।
হৃদয়ের বাবা মিজানুর গাজী জানান, ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য গাছপালা বিক্রি করার পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গা থেকে ধারদেনা করতে হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা থেকে নেওয়া ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণও পরিশোধ করতে পারেননি। সব মিলিয়ে বর্তমানে তার প্রায় আড়াই লাখ টাকা ধারদেনা রয়েছে।
তিনি বলেন, “ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম সংসারের অভাব দূর হবে, কিছু টাকা আয় করে ভবিষ্যৎ গড়বে—এই আশায়। কিন্তু বিদেশ থেকে তাকে শূন্য হাতে, অসুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হলো। এখন ছেলের চিকিৎসা ও সংসারের খরচ কীভাবে চালাব, সেটাই বুঝতে পারছি না।”
হৃদয়ের পরিবার জানায়, বিদেশে গিয়ে উপার্জন করে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন এখন অনেকটাই ভেঙে গেছে। একদিকে ছেলের চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা, অন্যদিকে ধারদেনার বোঝা—সব মিলিয়ে পরিবারের সদস্যরা হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনায় কর্মক্ষমতা হারিয়ে দেশে ফেরা হৃদয় ও তার পরিবারের পাশে সরকারি-বেসরকারি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা গেলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেতে পারেন হৃদয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here