মোস্তাফিজুর রহমান আপেল, কোটচাঁদপুর ( ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: অস্ত্রপাচার হয়েছে পাঁচটি এখনো বাকীঁ দুইটি রেজাউল করিম- কোটচাঁদপুরঃ “আমার একমাত্র ছেলেকে বাঁচান। টাকার অভাবে মেধাবী ছেলেটি হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে। চিকিৎসা করাতে গিয়ে সহায়-সম্বল সব হারিয়েছি। এখন ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়ার মতো সামর্থ্যও নেই। আপনারা একটু সহযোগিতা করুন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই ছেলের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে আকুতি জানাচ্ছিলেন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌর শহরের টিঅ্যান্ডটি পাড়ার বাসিন্দা হোমিও চিকিৎসক ও পৌর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি আব্দুল হালিম। আব্দুল হালিমের একমাত্র ছেলে ইমন শাহরিয়ার (২৬)। সে এসএসসি ও এইচএসসি পরীায় গোল্ডেন এ প্লাস অর্জন করে। পরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্সে ফার্স্ট কাস নিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। অথচ মেধাবী এই তরুণ দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের শয্যাশায়ী। ইমনের অসহায় পিতা জানান ২০১৪ সালে এসএসসি পরীায় অংশ নেওয়ার সময় হঠাৎ ইমনের পেটে তীব্র ব্যথা ও বমি শুরু হয়। অসুস্থতার মধ্যেই সে পরীা শেষ করে। পরে স্থানীয় হাসপাতাল ও ঝিনাইদহের চিকিৎসকদের পরামর্শে কিছুটা সুস্থ হলেও পরবর্তী সময়ে বারবার একই ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিাজীবন সম্পন্ন করে ইমন। গত সাত মাস ধরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সে শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে । ছেলের চিকিৎসার জন্য একের পর এক হাসপাতালে ছুটতে থাকেন বাবা আব্দুল হালিম। ঢাকার কয়েকটি স্বনামধন্য হাসপাতালে দফায় দফায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে জমিজমা বিক্রি করেন তিনি। তাতেও ছেলের সুস্থতা ফেরেনি। একপর্যায়ে শেষ সম্বল ৫ শতক বসতভিটার জমির দলিল ব্যাংকে বন্ধক রেখে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে যান আব্দুল হালিম। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান ইমন ক্রন’স (পৎড়যহ’ং ফরংবধংব) নামক জটিল রোগে ভুগছে। সেখানে চিকিৎসার বিপুল ব্যয় বহন করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনেন তিনি। অসুস্থ ছেলের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে বেশ কিছুদিন আগে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ডা. জোবায়দা রহমান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো জায়গা থেকে সহায়তা পাননি বলে এ প্রতিবেদককে জানান। ইমন বর্তমানে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন । চিকিৎসক রেয়াজউদ্দিন দানিশের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। ইতোমধ্যে তার পাঁচটি অস্ত্রোপচার হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আরও দুটি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। দ্রুত এসব অস্ত্রোপচার করা না গেলে ইমনের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এমন কথা জানিয়েছেন চিকিৎসক। ছেলের অসুস্থতার কথা বলতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, আমার দুই মেয়ে ও এক ছেলে। ইমন আমার একমাত্র ছেলে। ছোটবেলা থেকেই সে অত্যন্ত মেধাবী। এত কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়ে তাকে মানুষের মতো মানুষ করেছি। আজ সেই ছেলেটিই হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকে ৫লাখ টাকার ঋণ এখন সুদ বেড়ে ৮ লাখ টাকা হয়েছে। একদিকে ছেলের চিকিৎসার বিপুল খরচ, অন্যদিকে ব্যাংকের ঋণের চাপ। ইতিমধ্যে ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য দুই মাসের সময় বেঁধে ব্যাংক থেকে উকিল নোটিশও দেওয়া হয়েছে। এখন আত্মহত্যা ছাড়া কোন পথ দেখছি না। আমি এখন সম্পূর্ণ অসহায়। সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা ছাড়া ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া আমার পে আর সম্ভব নয়। আব্দুল হালিম তার ছেলের চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের এগিয়ে আসার আকুতি জানিয়েছেন। তার প্রত্যাশা, মানবিক সহায়তা পেলে মেধাবী ইমনের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে এবং তিনি ছেলেকে সুস্থ করে ঘরে ফিরিয়ে নিতে পারবেন।
সহায়তার জন্য যোগাযোগ:
আব্দুল হালিম — বিকাশ/নগদ- ০১৯৯৫৬৩২১৭৯
অগ্রণী ব্যাংক, কোটচাঁদপুর শাখা, ঝিনাইদহ
সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর:- ০২০০০১৬৭৬৩৪৫৭














