যশোরের শানতলায় পরকীয়ার সন্দেহ স্ত্রীকে হত্যা।। থানায় আত্মসমর্পণ ঘাতক স্বামীর

0
6

চুড়ামনকাটি (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরে পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রীকে হত্যার পর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন আতিয়ার রহমান নামে এক ব্যক্তি। শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে যশোর সদর উপজেলার শানতলা এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত শাহানাজ খাতুন ওরফে শাহানারা শানতলা এলাকার আতিয়ার রহমানের স্ত্রী।
নিহত শাহানারার পিতার বাড়ি মনিরামপুর উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামে। সে ঐ গ্রামের আশরাফ আলীর মেয়ে।
নিহতের স্বজনরা জানান, পরিকায় লিপ্ত এমন সন্দেহে চার মাস আগে স্ত্রী শাহানাজ খাতুনকে তালাক দিয়েছিলেন আতিয়ার রহমান। তবে গত সপ্তাহে তাদের সন্তান রায়হানের মধ্যস্থতায় বাবা ও মা পুনরায় এক ছাদের নিচে সংসার শুরু করেন। কিন্তু এর মধ্যেই ফের স্ত্রীর প্রতি সন্দেহের জেরে আজ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নিজ বাড়িতেই শাহানাজ খাতুনকে হত্যা করেন আতিয়ার রহমান।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, আতিয়ার রহমান পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি এবং মাদকাসক্ত। স্ত্রীর সঙ্গে অন্য পুরুষের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করতেন তিনি। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে শুক্রবার ভোরে শাহানারাকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা শাহানারাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রীমা খাতুন জানান, আতিয়ারের সঙ্গে তার স্ত্রীর ঝামেলা ছিল। শাহানারার সঙ্গে অন্য কারও পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করতেন আতিয়ার। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদও হয়েছিল। পরে তাদের ছেলে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে মাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনে। সকালে তিনি জানতে পারেন, শাহানারাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের ছেলে রায়হান জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তার বাবা-মায়ের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবা ক্ষিপ্ত হয়ে মাকে মারধর করেন। পরে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন।
নিহতের ছেলে রায়হান হোসেন জানান, চারমাস তালাকের পরও তার পিতা আতিয়ার রহমান তার মায়ের কাছে নিয়মিত যাতায়াত করতেন।
প্রায় তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া ঝামেলা হতো। ঘটনার দিন রাতে সারাক্ষণ তাদের মধ্যে ঝগড়া চলে। ভোরে কোন এক সময় আমার পিতা আমার মাকে হত্যা করে নিজেকে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে।
নিহতের ছেলে আরো বলেন, তার মা পেপসি কোম্পানির মধ্যে চাকরি করেন। রাতে আমি আমার মায়ের ফোনে ফোন দিলে আমার বাবা আমাকে বলেন তোমার মা ঘুমিয়ে আছে। সকালে আমি শুনতে পায় আমার মা মারা গেছে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাজীব রায়চৌধুরী জানান, শাহানারাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ বদরুজ্জামান জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্ত স্বামী আতিয়ার রহমান কোতোয়ালী থানায় উপস্থিত হয়ে হত্যার কথা জানিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।
তদন্ত ওসি আরো জানান, আতিয়ার রহমান বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নিহতের লাশ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। এ ব্যাপারে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here