নাব্য সংকটে অস্তিত্বের ঝুঁকিতে নওয়াপাড়া বন্দর, পলি জমে ব্যাহত জাহাজ চলাচল

0
4

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র যশোরের নওয়াপাড়া নদীবন্দর এখন অস্তিত্ব সংকটে। বন্দরটির প্রাণপ্রবাহ ভৈরব নদের বিভিন্ন স্থানে পলি জমে বিশাল চর জেগে ওঠায় ব্যাহত হচ্ছে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল। কমেছে বন্দরে জাহাজের আগমন ও নোঙরের সংখ্যা। এতে পণ্য পরিবহনে বাড়তি খরচের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। প্রভাব পড়ছে বন্দরের ওপর নির্ভরশীল হাজারো শ্রমিকের জীবিকায়। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, নওয়াপাড়া নদীবন্দর-সংলগ্ন নতুন সেতু এলাকায় প্রায় আধা কিলোমিটারজুড়ে নদের দুই-তৃতীয়াংশ পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। জোয়ারের সময়ও লাইটার জাহাজ ও কার্গো চলাচলে বেগ পেতে হচ্ছে। ভাটার সময় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে ওঠে। নাব্য সংকটের কারণে অনেক পণ্যবাহী জাহাজ নির্ধারিত ঘাটে ভিড়তে না পেরে মাঝনদীতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছে। এতে পণ্য খালাস ও পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের স্থলপথে পণ্য পরিবহনের বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে, বাড়ছে পরিবহন ব্যয়।
নওয়াপাড়ার সার ও কয়লা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আলম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নূর আলম পাটোয়ারী বাবু বলেন, ‘পলি জমে নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় আগের মতো জাহাজ বন্দরে ভিড়তে পারছে না। একসময় প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০টি জাহাজ নোঙর করলেও এখন তা অর্ধেকে নেমেছে। এভাবে চলতে থাকলে নওয়াপাড়ার বাণিজ্য মারাত্মক সংকটে পড়বে।’
শ্রমজীবী সমন্বয় পরিষদ অভয়নগর শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্যা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘জাহাজ কমেছে, কমেছে শ্রমিকদের আয়ও। ঘাটে জাহাজ ভিড়তে না পারায় ঝুঁকি নিয়ে মাঝনদী থেকে পণ্য ওঠানামা করতে হচ্ছে। নদীর নাব্য ফিরিয়ে না আনলে হাজারো শ্রমিকের জীবিকা হুমকিতে পড়বে।’
নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ জালাল হোসেন বলেন, ‘পাঁচ বছর ধরে নাব্য সংকট ক্রমেই ভয়াবহ হচ্ছে। অপরিকল্পিত সেতু নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভৈরবের এই অংশ মরা খালে পরিণত হতে পারে।’
এ ব্যাপারে নওয়াপাড়া নদীবন্দরের উপপরিচালক মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘ নাব্য সংকট নিরসনে খনন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নাব্য সংকট নিরসনে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজার দিয়ে খননকাজ চলছে। নদীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো থেকে দ্রুত পলি অপসারণের চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করছি, শিগগিরই জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here