চৌগাছার ঐতিহ্যবাহি বলুহ মেলা মঙ্গলবার শুরুর কথা কিন্তু আজও মেলেনি অনুমতি

0
408

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোরের চৌগাছার ঐতিহ্যবাহি পীর বলুহ দেওয়ান (রঃ) এর রওজা শরীফকে ঘিরে হাজারও মানুষের যে মিলন মেলার সৃষ্টি হয় সেটিই হচ্ছে বলুহ মেলা। গত দুই বছর মহামারি করোনার কারনে মেলা সেভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি। এবছর তাই অত্যান্ত জাকজমক ভাবে মেলা অনুষ্ঠিত হবে বলে ধারনা ছিল স্থানীয়দের। তবে আজও প্রশাসনের তরফ হতে অনুমতি পাইনি মেলা কর্তৃপক্ষ। কোন এক অদৃশ্য শক্তির কারনেই অনুমতি পেতে বিলম্ব হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ঠরা।
বাংলা সনের ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবার এলেই শুরু হয়ে যায় চৌগাছার ঐতিহ্যবাহি বলুহ মেলা। কোন হুইসেল বাজানো, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া কিংবা মাইকিং কিছুই লাগেনা, প্রাণের টানে এই মেলায় হাজারও মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। গত দুই বছরে করোনার কারনে হয়নি মেলা, তাই এবছর মেলা বেশ জাকজমক ভাবেই অনুষ্ঠিত হবে বলে মনে করছিলেন হাজরাখানা গ্রামবাসি সহ এজনপদের মানুষ। তাইতো মেলা শুরুর বেশ আগে ভাগেই স্থানীয়রা তো বটেই দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা হতে পীর বলুহ দেওয়ান (রঃ) এর ভক্ত অনুসারী এমনকি মৌসুমী ব্যবসায়ীরা আসতে শুরু করেছেন। কিন্তু মেলা বসার ব্যাপারে প্রশাসন থেকে এখনও অনুমতি মেলেনি, ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসি । তবে শেষমেষ অনুমতি মিলবে বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ
শুক্রবার সকালে সরেজমিনে যেয়ে দেখা গেছে, যাকে ঘিরে এতো আয়োজন সেই পীর বলুহ দেওয়ান (রঃ) এর রওজা শরীফ ধুয়ে মুছে ঝকঝকে করা হয়েছে, সামনের জমিনে বিশাল প্যান্ডেল তৈরী করা হয়েছে আর প্রধান গেটে সুদর্শন বেন্যার আর ফেষ্টুন দিয়ে দর্শনীয় করে তোলা হয়েছে। বলুহ ভক্তরা আসতে শুরু করেছেন। তারা রওজা শরীফের পাশে নির্মিত ভবনে থাকেন। এসময় কথা হয় যশোর কাঁঠালতলা এলাাকার বলুহ ভক্ত শাহীনুর রহমান, যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকার অবসরপ্র্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার উম্মে আম্বিয়া বেগমের সাথে। তারা প্রত্যেকে জানান, বলুহ’র মাজারকে ঘিরে প্রতিবছর যে ওরশ শুরু হয় তাতে অংশ গ্রহন করি এবছরও সেই প্রানের টােেন চলে এসেছি। রওজা শরিফের খাদেম জয়নাল আবেদিন বলেন, আগামী সোমবার রাত ১২ টায় পীর বলুহ দেওয়ানের মারাজরকে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার পর মুল কার্যক্রম শুরু হবে।
এদিকে রওজাকে ঘিরে সৃষ্ট শতশত বছরের পুরোনো মেলা বসা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন মেলা কর্তৃপক্ষ। কেননা বেশ আগে ভাগেই তারা উপজেলা প্রশাসন ও জেলাতে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন কিন্তু কোন খবর এখনও আসেনি। কোন এক অদৃশ্য শক্তি এই মেলা যাতে না হয় তার জন্য কাজ করে যাচ্ছে বলে ধারনা সংশ্লিষ্ঠদের। মেলাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে কাঠের তৈরী হরেক রকমের আসবাবপত্র আসতে শুরু করেছে, দোকান নিয়ে বসেছেন শিশু খেলনা ও পোষাক বিক্রেতারা। কিন্তু সকলের মাঝেই মেলা হবে কিনা তা নিয়ে এক ধরনের শংকা কাজ করছে।
হাজরাখানা গ্রামের ৮৫ বছর বয়সের বৃদ্ধ আব্দুল মোতালেব বিশ্বাস বলেন, আমি আমার বাবা দাদাদের মুখে শুনেছি শতশত বছর ধরে হাজরাখানা গ্রামের ঐতিহ্য বলুহ মেলা হয়ে আসছে। গত দুই বছর মেলা হয়নি, এবছর মেলা বসবে বলে আশা করেছি, কিন্তু এখন নাকি প্রশাসন অনুমতি দেয়নি। মেলা আমাদের ঐতিহ্য মেলা আমাদের আততীয়তার বন্ধন তাই মেলার অনুমতি দাবি করেন এই বৃদ্ধ।
গ্রামটির মুদি ব্যবসায়ী মোঃ মিঠু বলেন, বলুহ মেলা এলেই অন্য রকমের এক আনন্দ বয়ে যায় সকলের মাঝে। এবছর জাকজমক ভাবে মেলা বসে হবে ,কিন্তু অনুমতি না পাওয়া মনটা বেজায় খারাপ।
মেলা পচিরালনা কমিটির সদস্য সচিব সংশ্লিষ্ঠ গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান মিলন বলেন, মেলা বসার ব্যাপারে সব কিছুই করেছি, কিন্তু আজও অনুমতি পাওয়া যায়নি। অনুমতি পেলেই সকল অনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হবে।
মেলা কমিটির আহবায়ক হাজরাখানা গ্রামের বাসিন্দা নারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন, আজও অনুমতি পাইনি, কেন অনুমতি হচ্ছেনা সেটি আমার বুঝে আসেননা। আমি প্রশাসনসহ সকলকে আশ্বস্ত করেছি, বিগত বছরের মত মেলা হবেনা। প্রাইমারী স্কুল মাঠ খালি থাকবে, এখানে কোন অশ্লিলতা, জুয়ার আসর কিছুই বসবেনা। এক কথায় গ্রামীন মেলা গ্রামীন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। আমি প্রশাসনকে বলেছি অনুমতি দেয়ার সাথে সাথে গোটা মেলা এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসবো, থাকবে অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবি। তারপরও অনুমতি হয়নি। তবে শেষমেষ অনুমতি মিলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here