অভয়নগরে বাণিজ্যিকভাবে চলছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্স বেশি ভাড়া না দেয়ায় প্রসুতি রোগী ফেলে বাইরে ভাড়া খাটতে গেল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্স চালক

0
238

মিঠুন দত্ত: অভয়নগরে বানিজ্যিকভাবে চলছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্স। বেশি ভাড়া না পাওয়ায় অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ড্রাইভার সুলতান আহম্মেদের বিরুদ্ধে প্রসুতিরোগীকে ফেলে রেখে এক শিক্ষকের স্ত্রীকে নিয়ে এ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনায় ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ড্রাইভার সুলতান আহম্মেদ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্সটি বাণিজ্যিকভাবে ভাড়ায় চালিয়ে থাকেন। সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি কিঃ মিঃ দশ টাকা হারে আসা ও যাওয়া নির্ধারিত থাকলেও চালক সুলতানকে ১ হাজার ৫ শত টাকা না দিলে কোনভাবে সে যেতে চায়না। দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া খাটিয়ে চলেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টার সময়ে শংকরপাশা গ্রামের প্রসুতি এক স্কুল শিক্ষক খুলনা মেডিকেলে যাওয়ার কথা বললে সুলতান ড্রাইভার ১ হাজার ৭ শত টাকা দাবী করে। কেন এত টাকা দিতে হবে জানতে চাইলে, সে যাবেনা বলে জানিয়ে দেন। এরপর সুলতান ড্রাইভার এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে নওয়াপাড়া সরকারী মহাবিদ্যালয়ের ভাস্কর ঘোষ নামের এক শিক্ষকের স্ত্রীকে বাড়ি থেকে নিয়ে খুলনায় ডাক্তার দেখিয়ে আবার নিয়ে আসেন। জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলার বুইকরা গ্রামের জিয়াউর রহমান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্সে খুলনা সিটি মেডিকেলে গেলে তার কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুন নেওয়া হয়। তিনি রশিদ চাইলে চালক বলেন কাউকে রশিদ দেওয়া হয়না। সে টাকা কম দিতে চাইলে তার সাথে দুর্ব্যবহার করা হয় বলে জিয়াউর রহমান অভিযোগ করেন।
নওয়াপাড়া সরকারী মহাবিদ্যালয়ের ওই শিক্ষক ভাস্কর ঘোষ বলেন, “অভয়নগর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স্রের এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে আমার স্ত্রীকে নিয়ে আমি খুলনা টেষ্ট করাতে গিয়েছিলাম।
এ ব্যাপারে এ্যাম্বুলেন্স চালক সুলতান আহম্মেদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, গাড়ীর অনেক খরচ আছে যা সঠিকভাবে বিল করে পাওয়া যায় না। আমি এভাবেই ম্যানেজ করে চলি। এ বিষয়টা স্বাস্থ্যকর্মকর্তা স্যারও জানেন।
ওই প্রসুতি রোগীর স্বামী আবদুল্লা আল মামুন জানান “ আমার স্ত্রী সন্তান সম্ভাবা। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির জন্য এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারকে বলি। সে তখন আমার কাছে এক হাজার সাতশত টাকা দাবী করে। কেন এত টাকা দেব বলতেই সে বলে, এ থেকে আমার বেশী টাকায় ভাড়া আছে। আপনার জন্য কম নিচ্ছি। আমি স্বাস্থ্যকর্মকর্তাকে বলতে গেলে উনি বলেন ওটা আরএমও দেখেন ওনার কাছে যান। এরপর আমি বাইরের এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে আমার স্ত্রীকে খুলনায় নিয়ে আসি।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমকর্তা মো: ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, “ ওই সময়ে তিনজন প্রসুতি রোগী থাকায় ড্রাইভার অন্য রোগী নিয়ে গেছে।’’ টাকা বেশী নেয়ার কথা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।” যশোরের সিভিল সার্জন বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন,“ প্রসুতি রোগী বাদ দিয়ে অন্য রোগী নেয়ার বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। টাকা বেশী নেয়ার কোন সুযোগ নেই।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here