যশোরে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে নেতৃবৃন্দ যারা প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেয়, তাদের সভা সমাবেশ যশোরে করতে দেয়া হবে না 

0
53

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরে যুবলীগের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, যারা প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেয় তাদের কোন সভা সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। অগ্নি সন্ত্রাসীদের সমাবেশ করার কোন অধিকার এই দেশে নেই।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘হত্যার হুমকি’র প্রতিবাদে ও ‘হুমকিদাতা’ আবু সাঈদ চাদেঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা যুবলীগ। বুধবার বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহর প্রদক্ষিণ শেষে কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, যারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল তারাই আজ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘হত্যা’র হুমকি দিয়েছে। বিএনপি গভীর ষড়যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে চলছে। আওয়ামী লীগের উন্নয়ন সহ্য করতে পারছে না স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তিরা। এসব বিপক্ষের শক্তি দোসররা আবারও মাথাচড়া দিয়ে উঠেছে। আজ বিএনপির এতো সাহস; আওয়ামী লীগের সভাপতিকে হত্যার হুমকি দেয়। যশোরে বিএনপির কোন জনসভা আর করতে পারবে না। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ আগামী ২৭ মে যশোরে মির্জা ফখরুলের জনসভা করতে দেবে না।
সমাবেশে প্রধান বক্তা যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এমপি বলেছেন, যারা প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেয় তাদের কোন সভা সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। অগ্নি সন্ত্রাসীদের সমাবেশ করার কোন অধিকার এই দেশে নেই। জেলা আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুবমহিলা লীগ, ছাত্রলীগ, শহর আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনকে নির্দেশ দেয়া থাকলো ২৭ মে বিএনপি যদি সমাবেশ করতে ঘর থেকে একপা’ও বের হয় তাদেরকে যেকোন মূল্যে প্রতিহত করতে হবে। বৃহস্পতিবার থেকে সকল সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার নির্দেশ দেয়া থাকলো। ২৬ মে বিকেলে যশোর শহরে জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হবে।’
সমাবেশের আগে যশোর যুবলীগের ব্যানারে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে কাপুড়িয়াপট্টি ঘুরে দড়াটানায় শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে জেলা আ’লীগ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে শাহীন চাকলাদার এমপি আরো বলেন, বিএনপি বাংলাভাই ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছিলো। খালেদা জিয়া-তারেক জিয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় ও মদদেই এদের উত্থান ও কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিলো। বিএনপির আমলে দেশব্যাপী বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয় দিয়ে তারা বিদেশে চাকরি দিয়েছিল। বর্তমান সরকার জঙ্গি দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ষড়যন্ত্রকারীরাই আবার ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য গ্রেনেড হামলা করেছিল। ওই হামলায় যে বিএনপি-জামায়াত জড়িত ছিল সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। পরবর্তীতে তা প্রমাণ হয়েছে।’
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের উন্নয়নের সরকার; সেটা জনগণ বুঝতে পেরেছে বলেই এই সরকারের ওপর বারবার আস্থা রেখেছে। দেশে উন্নয়নের সাথে এই সরকারের আমলে সকল পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত খুনিদের বিচার হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিলো দুর্নীতি- সন্ত্রাস মাদকমুক্ত ও উন্নত দেশ গড়ার। বঙ্গবন্ধু’র যে স্বপ্ন ছিল সেই স্বপ্নের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা। তাই আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। এই লক্ষ্যে তৃণমূল থেকে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে যাতে কোনো বিরোধী শক্তি জাতির পিতার স্বপ্ন মুছে দিতে না পারে।
বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি পৌর মেয়র হায়দার গণি খান পলাশ, এস এম হুমায়ুন কবির কবু, গোলাম মোস্তফা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, জেলা নেতা রেজাউল ইসলাম, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সেতারা খাতুন, যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক জিয়াউল হাসান হ্যাপী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুখেন মজুমদার, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক ফারুক আহমেদ কচি, শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক শেখ আতিকুর বাবু, শ্রম সম্পাদক কাজী আবদুস সবুর হেলাল, উপদপ্তর সম্পাদক ওহিদুল ইসলাম তরফদার, উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক লুৎফুল কবীর বিজু, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আফজাল হোসেন, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. এম এ বাসার, সদস্য মশিয়ার রহমান সাগর, মারুফ হোসেন খোকন, সামির ইসলাম পিয়াস, আনোয়ার হোসেন মোস্তাক, অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন, উপশহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্য এহসানুর রহমান লিটু, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মাহমুদ হাসান বিপু, নওয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ন কবির তুহিন, যুবলীগ নেতা পৌর কাউন্সিলার আলমগীর কবির সুমন, শাহিদুজ্জামান বাবু, শফিকুল ইসলাম জুয়েল, রওশন ইকবাল শাহী, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নিয়ামত উল্লাহ প্রমুখ।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here