যশোরে চ্যানেল আই টকশো তৃতীয় মাত্রার আলোচনায় বক্তারা সংবিধান অনুযায়ীই আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে- স্বপন ভট্রাচার্য তত্তাবধবায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন হবেনা-অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

0
255

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শনিবার যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দর্শকদের উপস্থিতিতে চ্যানেল আই’তে দৈনিক প্রচারিত টকশো ‘তৃতীয় মাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তৃতীয় মাত্রার পরিচালক ও উপস্থাপক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে যশোর অঞ্চলের রাজনীতি, ব্যবসায়িক অবস্থা, আঞ্চলিক অর্থনীতি, বেসরকারি খাত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, নারী অধিকার, তরুণদের উন্নয়ন ও রাজনীতিসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মূল পর্বে আলোচক হিসেবে ছিলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মাহাবুব আলম বাচ্চু এবং বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ।
আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, “দেশে সংবিধান আছে, আগামী জাতীয় নির্বাচন সেই সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই হবে এবং সুষ্ঠু হবে। এখানে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আর সুযোগ নেই”। এছাড়াও, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, “উন্নয়নের পুর্বশর্ত হলো যোগাযোগ। পদ্মাসেতুর কারণে যশোর জেলা থেকে স্বল্প সময়ে ঢাকার সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে কাচামাল আদান প্রদান সহজ হয়েছে। এটি আওয়ামীলীগ সরকারের অবদান”। এছাড়াও তিনি জানান, যশোরে ট্রেন লাইন চালু হচ্ছে এবং বেনাপোল রোড বৃদ্ধি পেয়ে ৬ লেন হচ্ছে, ফলে ভবিষ্যতে যোগাযোগ আরো সহজতর হয়ে যাবে বলে তিনি দাবি করেন।
বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগটনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকতে উন্নয়নের একটি কাঠামো তৈরি করেছিল। কিন্তু, দুর্ভাগ্যবশত আওয়ামীলীগ সরকার তা নিয়ে বেশি দূর এগোতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র যোগাযোগ ব্যাবস্থা ভালো করলেই উন্নয়ন সম্ভব না। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যশোরের ১০০ বেডের হাসপাতাল ২৫০ বেডে উন্নিত হয়েছে। হাসপাতালে করোনারী কেয়ার ইউনিট করা হয়েছিলো। কিন্তু এখনকার সরকার সেই উন্নয়ন আর বাড়াতে পারেনি। কিন্তু সেই হাসপাতালের অবস্থা এখন শোচণীয়। দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে স্বাস্থাব্যবস্থাকে ধ্বংশ করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের কারণে তরুণ সমাজ মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে মানুষ থাকলে উন্নয়ন করা সম্ভব, লুটপাট নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমান সমস্যাগুলো দূর করতে অনির্বাচিত সরকার বাদ দিয়ে একটা গ্রহনযোগ্য সরকার গঠন করা দরকার। তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত তত্বাবধায়ক সরকার। তত্তাবধাক সরকার ছাড়া আগামীতে কোনো নির্বাচন হবেনা বলে তিনি জানান।
উন্নয়নের প্রশ্নে জাপা নেতা অ্যাডভোকেট মাহাবুব আলম বাচ্চু বলেন, “উন্নয়ন হওয়ার কথা সামনের দিকে, যশোরের উন্নয়ন হচ্ছে পিছনের দিকে।” তিনি আরো বলেন যে, দেশের উন্নয়ন ঢাকা ভিত্তিক হচ্ছে। উন্নয়নের পরিনতি হয়েছে মাথা মোটা শরীর পাতলা। এছাড়াও পানির নাব্যতা নিয়ে তিনি বলেন, নদীর সংস্কারের অনেক আইন আছে, নিয়ম কানুন আছে কিন্তু যশোর জেলার আইন-ই হচ্ছে আইন ভঙ্গ করা। নদী সংস্কারের নামে কিছু মানুষের পকেট ভারী হচ্ছে শুধুমাত্র।
ইকবাল কবির জাহিদ নারী উন্নয়নের বিষয়ে বলেন, নারী উন্নয়ন আসলে সামগ্রিক উন্নয়নের সাথে জড়িত। প্রতিমন্ত্রীর কথার উত্তরে তিনি বলেন, উন্নয়নের পুর্বশর্ত মানুষ, যোগাযোগ নয়। যশোরের রেল উন্নয়নের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, এতে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। নতুন রেল লাইনে সাধারণ কোন বগী নেই, কৃষকদের উৎপাদিত সবজি পাঠানোর বগী নেই। জলবায়ু পরিবর্তমানের সমস্যা নিয়ে তিনি জানান যে বাংলাদেশে এই সমস্যার কারণে সবথেকে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় আছে যশোর জেলা। কারণ বর্তমানে মেগা প্রজেক্ট ও নদী উন্নয়ন প্রজেক্ট গুলোর কারনে এ জেলার নদী খালে রুপান্তরিত হচ্ছে, নদীর নাব্যতা কমছে এবং জলাশয় সমস্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি আরো উল্লেখ করেন, “উন্নয়নের অপর নাম দুর্নীতি, কিছু কিছু জেলার পাড়া মহল্লায় হয়তো উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু যারা উন্নিত হচ্ছ তারা দুর্নীতির মাধ্যমেই উন্নিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে যশোরের আঞ্চলিক রাজনীতি, উন্নয়নসহ আগামী নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি আলহাজ মিজানুর রহমান খান ও জয়তী সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক নারী নেত্রী অর্চনা বিশ^াস। এসময় দর্শকরা সরাসরি আলোচকদের আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্না করেন এবং আলোচকরা তাদের প্রশ্নের জবাব দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here