স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের মণিরামপুরে মাটি বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে নয়, জামায়াতের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বিএনপি নামধারী চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের ওই হামলায় জামায়াতের অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা গাজী এনামুল হক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রেসকাব যশোরে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় হামলাকারী চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মণিরামপুর উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক ফজলুল হক। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যায় যশোরের মণিরামপুর বাজারে এমপি গাজী এনামুল হকের বাসভবনের নিচে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বিল্লাল গাজী, সাইদুল ইসলাম ও ইজাজুলের নেতৃত্বে মামুন, মাসুদ, কামরুল, শফিয়ার, সিরাজসহ ৩০/৪০ জন বিএনপির নামধারী চিহ্নিত সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এতে জেলা জামায়াতের শুরা সদস্য মাওলানা মহিউল ইসলাম, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবীব লিটন, ইঞ্জি. ফারুক হোসেন, রেজাউলসহ অন্তত ১৫-২০ জন নেতাকর্মী আহত হন। যার মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। পরবর্তীতে সন্ত্রাসীরা জামায়াতের উপজেলা কার্যালয়সহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। কোন প্রকারের উস্কানি ছাড়াই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলেও তাদের মধ্যে গা-ছাড়া ভাব দেখা গেছে। এ কারণে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই সন্ত্রাসীরা মণিরামপুর সরকারি হাসপাতালের সামনে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর ফের হামলা করে। সেখানে উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা লিয়াকত আলীকে গুলি করে। তবে ধস্তাধস্তি ও তার ডাক চিৎকারে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে জামায়াত কর্মী আনাসের পায়ে বিদ্ধ হয়। মাওলানা লিয়াকত আলীকে রামদা দিয়ে উপর্যপুরি কুপিয়ে মৃতভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসলে জামায়াত কর্মী আবু তালহাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়, আব্দুল মোমিনের হাত ভেঙ্গে দেয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মণিরামপুর উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক ফজলুল হক দাবি করেন, হামলায় জড়িত বিএনপি নামধারী চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ভাঙচুরকৃত জামায়াত কার্যালয়ের তিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে প্রশাসন ব্যর্থ হলে পরবর্তী যে কোন পরিস্থিতির দায় প্রশাসনকে গ্রহণ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা গাজী এনামুল হক দাবি করেন, মাটি বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ নয়, বিএনপি দলীয় আধিপত্য বিস্তারের জন্য পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। এখন সেটাকে মাটি নিলামের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দু’গ্রুপের সংঘর্ষ বলে প্রচার করছে। জামায়াতে ইসলামী নীতিগতভাবে কোনো অপকর্ম ও সন্ত্রাসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। বিএনপি নামধারী চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা জামায়াতের জনপ্রিয়তা দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে এবং এলাকার শান্ত পরিবেশ বিঘ্নিত করার জন্যই এই হামলা চালিয়েছে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, প্রচার সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন, মণিরামপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি খলিলুর রহমান, জামায়াত নেতা কাজী মুকিত, অ্যাড. তাজউদ্দিন প্রমুখ।
Home
যশোর স্পেশাল বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে ২০ জন আহত মণিরামপুরে বিএনপি সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে জামায়াত এমপির...














