মণিরামপুরে চার দিনের ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু

0
128

রাহাত আলী, মনিরামপুর : ইটের দেয়াল আর যান্ত্রিক কোলাহলের সীমানা পেরিয়ে আলোর দ্যুতি ছড়াতে যশোরের মণিরামপুরে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী ‘ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব-২০২৬’। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উদ্যোগে, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং ‘মেটলাইফ ফাউন্ডেশন’-এর সমন্বয়ে আয়োজিত এই আলোকের ঝরনাধারা স্থানীয়ভাবে বাস্তবায়ন করছে মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসন।
​সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে মণিরামপুর উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন অফিসার্স ক্লাব চত্বরে এক আনন্দমুখর ও বর্ণাঢ্য পরিবেশের মধ্য দিয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করা হয়।
মণিরামপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহির দায়ান আমিন বলেন, “বই শুধু কতগুলো কাগজের বাঁধাই করা পাতা নয়; বই হলো আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার এক পবিত্র আলো, যা আমাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে পথ দেখায়। আজকের মোবাইল আর পর্দার ভিড়ে আমরা যখন নিজেদের শেকড় ও কল্পনাশক্তি হারাতে বসেছি, ঠিক তখনই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই ভ্রাম্যমাণ বইমেলা আমাদের কাছে এসেছে এক স্নিগ্ধ বৃষ্টিধারার মতো। বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই—একটি ভালো বই একজন মানুষকে হাজারো খারাপ চিন্তা থেকে দূরে রেখে প্রজ্ঞাবান ও সংবেদনশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। আসুন, আমরা বইয়ের হাত ধরি, অক্ষরের মায়ায় মনকে নতুন করে সাজাই এবং একটি আলোকিত সমাজ বিনির্মাণ করি।”
​বর্ণিল এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তরুণ কান্তি হালদার বাপন বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্মানিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের বইপ্রেমী সাধারণ মানুষ। উৎসবে মেতে ওঠা কচি-কাঁচা শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি পুরো মেলা প্রাঙ্গণকে এক অপার্থিব আনন্দের তীর্থস্থানে পরিণত করে।
​পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও সুনিপুণভাবে সঞ্চালনা করেন ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ইউনিটের ইউনিট ইনচার্জ অমিত চক্রবর্তী।
​মেলা কর্তৃপক্ষ জানান, এই প্রাণের মেলা আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। স্টলে স্টলে সাজানো রয়েছে সাহিত্যের বৈচিত্র্যময় সব রত্নভাণ্ডার। বইয়ের মেলা আর সুরের মূর্ছনায় মণিরামপুরের আকাশ-বাতাস এখন এক নতুন সাংস্কৃতিক জাগরণের অপেক্ষায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here