কুয়াদা সিরাজসিঙ্গায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু!

0
60

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের কুয়াদায় মাত্র ১ মাসের সংসারে শীলা রানী (৩০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সদর উপজেলার কুয়াদা সিরাজসিঙ্গা (বোসপাড়া) গ্রামের এ ঘটনায় স্বশুর বাড়ির দাবি, পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন শীলা। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের পর তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার ঘটনা সাজানো হয়েছে।
তিনি কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাল্লুকঘর (কায়েতপাড়া) গ্রামের মৃত শংকর বোস’র প্রথম স্ত্রী মৃত স্বরস্বতী’র মেঝ মেয়ে।
সূত্রমতে, পূর্বে ডুমুরিয়ার গোণালী বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে শীলার প্রথম বিয়ে হয়। বিয়ের পর সংসার জীবনে তাদের অতন (০৯) নামে পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু সে সময়ে স্বশুর বাড়ির নির্যাতনে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয় শীলা। পরে তিনি ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতে শুরু করেন।
পরে চলতি বছরের ১৫ জুলাই (বুধবার) যশোর সদরের কুয়াদা সিরাজসিঙ্গা (হাতিয়ারহাট বোসপাড়া) গ্রামের মৃত সুবল বোস’র ছেলে সুজয় কুমার বোস (৩৫)’র সঙ্গে শীলা (৩০)’র বিয়ে হয়। বিয়ের পর পালিত সন্তান অতন (৯)’কে নিয়ে সংসার করাকালীন কারণে অকারণে স্বাশুড়ী ও স্বামী শীলাকে নির্যাতন করত। এরই মধ্যে শীলার অ্যাকাউন্ট হতে স্বামী একলক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে আরও টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এমনকি পালিত সন্তানের জন্মনিবন্ধন করতে সুজয়’র আইডিকার্ড চাইলে পরিবারের মধ্য বিরোধ সৃষ্টি হয়। অতন(০৯) যশোবেওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এরসূত্রধরে, স্বামী সুজয় ও স্বাশুড়ী রত্না রানী তার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গলায় ছোট এক গামছা পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন শীলা। রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। ভর্তিরপর শীলার মৃত্যু ঘটে। পরদিন সোমবার হাসপাতালের মর্গে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপূর্বে সুজয়’র প্রথম স্ত্রী নির্যাতনের ফলে একইভাবে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে।
তবে শীলা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে স্বশুর বাড়ির পক্ষহতে জানানো হয়। কিন্তু নিহতের পিতা মৃত শংকরে’র ২য় স্ত্রী শীলার সৎ মা শংকরী নাগসহ পরিবারের দাবি, নির্যাতনের পর তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা জানান, শীলার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
এদিকে থানা পুলিশ’কে লক্ষাধিক টাকার মাধ্যমে ম্যানেজ করাসহ পালিত সন্তান অতন’কে একবিঘা জমি লিখে দেয়ার আশ্বাসে গ্রাম্য সালিশে বিষয়টি রফা করা হয়।
তবে এসব তথ্যের সত্যতা ময়নাতদন্ত ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর মূলরহস্য উদঘাটন সম্ভব। তার মৃত্যুর ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। স্থানীয় কালারহাট মহা শ্বশানে শীলার মরদেহ দাহ করা হয়।
এবিষয়ে নিহত শীলার সৎ মা শংকরী নাগ বলেন, “আমার মেয়েকে নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।” এদিকে সুজয়’র কাছে জানতে চাইলে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here