স্টাফ রিপোর্টার, বাঘারপাড়া (যশোর) : যশোরের বাঘারপাড়ায় একের পর এক চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে। বসতবাড়ি থেকে শুরু করে ফাঁকা বাসা—কোনোটিই যেন নিরাপদ নয় চোরদের হাত থেকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারের পাশাপাশি দিনের বেলাতেও সুযোগ বুঝে চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়িঘরের নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে কোনো বাড়ির মালিক বা ভাড়াটিয়া কয়েক দিনের জন্য বাইরে গেলে সেই বাড়িই চোরচক্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সুযোগ বুঝে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে যাচ্ছে চোরেরা। সর্বশেষ গত শনিবার বাঘারপাড়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভাড়া বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। কয়েক দিন ধরে বাসাটি ফাঁকা থাকার সুযোগে চোরেরা ছাদ দিয়ে বাসায় প্রবেশ করে তালা ভেঙে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। চুরির পর ফ্রিজে রাখা মাংস রান্না করে খেয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে ওই ভাড়াটিয়া সোমবার সকালে বাসার মালামাল নিয়ে বাঘারপাড়া ছেড়ে চলে গেছেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলেও দ্রুত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার না হওয়ায় তিনি হতাশ ও ক্ষুব্ধ। নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাধ্য হয়েই বাসা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
পৌরসভার একাধিক বাসিন্দা জানান, বিভিন্ন বাড়ি থেকে পানির মোটরসহ নানা ধরনের জিনিসপত্র চুরি হচ্ছে। ফলে রাতের পাশাপাশি দিনের বেলাতেও বাড়িঘর নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হচ্ছে তাদের। অনেকেই এখন অপরিচিত কাউকে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখলেই সন্দেহ করছেন। শুধু বাঘারপাড়া পৌরসভা নয়, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামেও চুরির ঘটনা ঘটছে। রায়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল খালেক জানান, তাদের এলাকায় একই সময়ে চারটি পানির মোটর চুরির ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চোর আতঙ্ক আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ধারাবাহিকভাবে চুরির ঘটনা ঘটলেও অনেক ক্ষেত্রে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার কিংবা চোরচক্র শনাক্ত না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সন্ধ্যার পর অনেকেই বাড়িঘরের নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় থাকছেন। কেউ কেউ নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ভাড়া বাসা ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার কথাও ভাবছেন। এ অবস্থায় চুরির ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশের টহল জোরদার, চোরচক্র শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম জানান, চুরির ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।














